Facebook Pixel

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জনের পর থেকেই বাংলাদেশ ক্রমাগত উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে। GDP-এর প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হচ্ছে। জীবনযাত্রার মান, শিক্ষার হার, নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশটির ভূ-প্রকৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান, নদ-নদী, মৃত্তিকাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান উন্নয়নে সহায়তা করছে। আশা করা যায়, এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে। ক. উন্নয়নশীল দেশ বলতে কী বোঝ? খ. অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে ২টি পার্থক্য লেখো। গ. বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ কি না উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাদানগুলো উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখছে— বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিচয়

উৎস: Board Exam Question RB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যেসব দেশের অর্থনীতি ক্রমান্বয়ে উন্নতি লাভ করছে এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেসব দেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলে। (খ) অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য নিচে আলোচনা করা হলো: ১. মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান: অনুন্নত দেশে মাথাপিছু আয় এবং জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত নিম্ন। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশে মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তুলনামূলক উন্নত। ২. অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা: অনুন্নত দেশগুলো প্রধানত কৃষির ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল। বিপরীতে, উন্নয়নশীল দেশগুলো কৃষি ও শিল্পের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের চেষ্টা করে। (গ) হ্যাঁ, উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশ বলা যায়। উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি পরিকল্পিত উপায়ে উন্নতির দিকে অগ্রসর হয়। পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করে জীবনযাত্রার মান, মাথাপিছু আয়, শিক্ষার হার এবং নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ ক্রমাগত উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে GDP-এর প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হচ্ছে এবং জীবনযাত্রার মান ও শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাত্ত্বিকভাবে, এলডিসি (LDC) থেকে উত্তরণের জন্য তিনটি প্রধান শর্ত পূরণ করতে হয়: মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক (EVI)। বাংলাদেশ এই শর্তগুলো পূরণে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানবসম্পদ সূচকে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় মান অর্জন করেছে এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচকেও দেশটি এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাই উদ্দীপকের তথ্য এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অভিহিত করা যায়। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাদানগুলো হলো বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান, যা দেশের অর্থনৈতিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো: প্রথমত, ভৌগোলিক অবস্থান: বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত। এই অবস্থানের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অর্থনৈতিক পরাশক্তি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলা সহজ হয়েছে, যা আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে সহায়ক। দ্বিতীয়ত, ভূ-প্রকৃতি ও মৃত্তিকা: বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি এবং উর্বর পলিমাটি কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই উর্বর মৃত্তিকার কারণে দেশটিতে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশস্য ও অর্থকরী ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নে সহায়তা করছে। তৃতীয়ত, নদ-নদী: এদেশের নদ-নদী শুধু সেচকার্যের জন্যই নয়, বরং অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। নদীপথের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন সাশ্রয়ী হয়, যা অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া সমুদ্রবন্দরের ব্যবহার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। চতুর্থত, জলবায়ু: বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু বৈচিত্র্যময় ফসল উৎপাদনের জন্য সহায়ক, যা কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। পরিশেষে বলা যায়, যদিও খনিজ সম্পদের দিক থেকে বাংলাদেশ খুব বেশি সমৃদ্ধ নয়, তবে উদ্দীপকে উল্লিখিত ভৌগোলিক অবস্থান, উর্বর মাটি এবং নদ-নদীর মতো প্রাকৃতিক উপাদানগুলো বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2019)

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জনের পর থেকেই বাংলাদেশ ক্রমাগত উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে। GDP-এর প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ হচ্ছে। জীবনযাত্রার মান, শিক্ষার হার, নারী শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশটির ভূ-প্রকৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান, নদ-নদী, মৃত্তিকাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান উন্নয়নে সহায়তা করছে। আশা করা যায়, এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে।

ক. উন্নয়নশীল দেশ বলতে কী বোঝ? খ. অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে ২টি পার্থক্য লেখো। গ. বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ কি না উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাদানগুলো উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখছে— বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

SDG কী?

অর্থনীতির শিক্ষক আসাদ সাহেব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বললেন, "সমষ্টিগত অর্থ...

অর্থনৈতিক কাঠামো কী?

অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত?

ইংরেজ শাসকেরা ২০০ বছর এ উপমহাদেশে শাসন ও শোষণ করেছে। পরে পাকিস্তান রাষ্ট্র বাংলাদেশকে ২৪ বছর নির্বিচার নির্যাতন শোষণ করে...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : এক সময় বাংলা এক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী একটি সময়কাল বাংলার অর্থনৈত...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : এক সময় বাংলা এক সমৃদ্ধ জনপদ ছিল। স্বাধীনতার পূর্ববর্তী একটি সময়কাল বাংলার অর্থনৈত...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দীর্ঘদিনের শাসন ও শোষণের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পরে শি...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : দীর্ঘদিনের শাসন ও শোষণের পর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পরে শি...

উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও : সুপ্রাচীনকাল হতে বাংলাদেশ সুজলা-সুফলা দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।