Facebook Pixel

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের আপামর জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছিনিয়ে আনে লাল সবুজের পতাকা। সকলের মধ্যে একই জাতীয়তাবোধের মাধ্যমে গড়ে ওঠে এক অভূতপূর্ব দেশপ্রেম। এই দেশপ্রেম একটি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ক. Nationality শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ কী? খ. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার দুটি উপাদান লিখ। গ. উদ্দীপকের আলোকে দেশপ্রেম কীভাবে জাতীয়তা গঠনে কাজ করে তা বর্ণনা করো। ঘ. “দেশপ্রেম যে কোনো জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।"- উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১০ঃ দেশপ্রেম ও জাতীয়তা

উৎস: Board Exam Question JB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) Nationality শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হলো 'জাতীয়তা'। (খ) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার দুটি প্রধান উপাদান নিচে দেওয়া হলো: ১. বিচারকদের চাকরির নিরাপত্তা: বিচারকদের নিয়োগের পর তাদের পদ থেকে সহজে অপসারণ করা যায় না। তাদের চাকরির মেয়াদ ও বেতন-ভাতা নিশ্চিত থাকলে তারা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন। ২. বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথকীকরণ: বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত রেখে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিলে বিচারকরা নিরপেক্ষভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারেন। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট দেশপ্রেম ও জাতীয়তা গঠনের গভীর সম্পর্ককে নির্দেশ করে। দেশপ্রেম হলো দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও মমত্ববোধ, যা মানুষের মনে জাতীয়তাবোধের জন্ম দেয়। জাতীয়তা হলো একটি মানসিক অনুভূতি, যা মানুষকে অভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি বা ভূখণ্ডের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আপামর জনতা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। এই দেশপ্রেমই তাদের মধ্যে অভিন্ন জাতীয়তাবোধের সৃষ্টি করেছিল, যার ফলে তারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ, দেশপ্রেম জাতীয়তা গঠনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। যখন কোনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের মানসিকতা তৈরি হয়, তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ সুদৃঢ় হয় এবং তারা একটি শক্তিশালী জাতি হিসেবে গড়ে ওঠে। (ঘ) 'দেশপ্রেম যেকোনো জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে', উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ। দেশপ্রেম হলো এমন একটি শক্তি, যা মানুষকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের বৃহত্তর কল্যাণে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উদাহরণটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, দেশপ্রেমের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে একটি জাতি অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। দেশপ্রেমিক নাগরিকরা দেশের উন্নয়নে নিজেদের মেধা, শ্রম ও জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধা করেন না। বিশ্বের ইতিহাসে জর্জ ওয়াশিংটন, আব্রাহাম লিংকন, মাও সেতুং বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো মহান নেতারা তাদের অকৃত্রিম দেশপ্রেমের মাধ্যমেই নিজ নিজ জাতিকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। পরিশেষে বলা যায়, দেশপ্রেম কেবল আবেগ নয়, বরং এটি একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। যে জাতির নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেমের গভীরতা যত বেশি, সেই জাতি তত দ্রুত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। তাই একটি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দেশপ্রেমের কোনো বিকল্প নেই।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenJessore Board (2021)

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের আপামর জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছিনিয়ে আনে লাল সবুজের পতাকা। সকলের মধ্যে একই জাতীয়তাবোধের মাধ্যমে গড়ে ওঠে এক অভূতপূর্ব দেশপ্রেম। এই দেশপ্রেম একটি রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

ক. Nationality শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ কী?

খ. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার দুটি উপাদান লিখ।

গ. উদ্দীপকের আলোকে দেশপ্রেম কীভাবে জাতীয়তা গঠনে কাজ করে তা বর্ণনা করো।

ঘ. “দেশপ্রেম যে কোনো জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।"- উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।