Facebook Pixel

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এই স্বাধীনতা ব্যতীত অন্যান্য স্বাধীনতা অর্জিত হয় না। তবে স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে এটি রক্ষা করা কঠিন। ক. বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে নাম কী? খ. জাতি বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত স্বাধীনতাসহ মোট তিন ধরনের স্বাধীনতা বর্ণনা কর। ঘ. উদ্দীপকের সর্বশেষ বাক্যটি মূল্যায়ন কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রিম কোর্ট। খ. জাতি বলতে একটি বিশেষ চেতনার দ্বারা ঐক্যবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত জনসমষ্টিকে বোঝায়। একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী জনসমষ্টি যারা ধর্ম, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যের বন্ধনে আবদ্ধ তাদের জাতি বলে। একটি জাতির মধ্যে সাধারণত সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঐক্য বিদ্যমান থাকে। একটি জনসমাজ জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হলে এবং রাজনৈতিক সংগঠনের ভিত্তিতে স্বাধীন হওয়ার চেষ্টা করলে বা স্বাধীন হলে পৌরনীতির দৃষ্টিকোণে তা জাতিতে পরিণত হয়। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত স্বাধীনতা হলো জাতীয় স্বাধীনতা। জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার ভিত্তি। জাতীয় স্বাধীনতা বলতে মূলত বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণমুক্ত থাকাকেই বোঝানো হয়। এটি রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতারই অংশ। জাতীয় স্বাধীনতাবলে রাষ্ট্র স্বাধীনভাবে সার্বভৌমত্ব চর্চা করার ক্ষমতা অর্জন করে থাকে। জাতীয় স্বাধীনতা ছাড়া রাষ্ট্রের অপরাপর স্বাধীনতাগুলো বিঘ্নিত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন জাতীয় স্বাধীনতার অন্যতম উদাহরণ। উদ্দীপকের এই জাতীয় স্বাধীনতার চিত্রই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়াও, সামাজিক স্বাধীনতা ব্যক্তির প্রধান স্বাধীনতাসমূহের মধ্যে অন্যতম। সমাজে বসবাস করতে মানুষের যে স্বাধীনতা সমাজ নিশ্চিত করে, তাকে সামাজিক স্বাধীনতা বলে। যেমন- শিক্ষালাভ, চলাফেরা ও পরিবার গঠনের স্বাধীনতা। এ স্বাধীনতা মূলত ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ও সমাজজীবনে সুখশান্তির পরিবেশ নিশ্চিত করে। আবার, অর্থনৈতিক জীবনে মানুষের স্বাধীন থাকার অধিকার হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং কর্মসংস্থান ও উপযুক্ত মজুরি বা পারিশ্রমিক লাভ করার নিশ্চয়তা অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে সুদৃঢ় করে। জাতীয় স্বাধীনতাসহ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যক্তির সুষ্ঠু ও কল্যাণকর রাষ্ট্রজীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ঘ. উদ্দীপকের সর্বশেষ বাক্যটি তথা 'স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে এটি রক্ষা করা কঠিন'- সঠিক ও যথার্থ। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য বহু ত্যাগ, আত্মদান, শত সংগ্রাম ও কখনো অগণিত প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়। তবুও এই স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন কারণ টিকিয়ে রাখতে সুশাসন, ঐক্য, সতর্কতা ও ত্যাগের প্রয়োজন হয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে অনেক দেশ স্বাধীনতা পেয়েও সঠিক নেতৃত্ব, সুশাসন ও পরিকল্পনার অভাবে তা হারিয়েছে। স্বাধীনতার পর অভ্যন্তরীণ বিরোধ, দুর্নীতি, অদক্ষ নেতৃত্ব ও বৈশ্বিক চক্রান্ত একটি রাষ্ট্রকে দুর্বল করতে পারে। নাগরিকদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম ছাড়া স্বাধীনতা রক্ষা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রে গণতন্ত্র না থাকলে স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়। গণতন্ত্র স্বাধীনতা রক্ষার প্রথম ও প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। গণতন্ত্রের পাশাপাশি আইনের শাসন, 'নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ এবং সামাজিক ন্যায় রাষ্ট্রে না থাকলে সেখানে স্বাধীনতা থাকতে পারে না। তাই রাষ্ট্রে এসব উপাদানের সুষ্ঠু ও সঠিক প্রয়োগ থাকতে হবে। এছাড়াও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, শিক্ষা, মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা ও জনমতের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বহির্বিশ্বের প্রতিযোগিতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ে। তাই স্বাধীনতা রক্ষায় সর্বদা সতর্ক থাকতে হয়। অতএব, উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, 'স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে এটি রক্ষা করা কঠিন'- বক্তব্যটি যথার্থ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এই স্বাধীনতা ব্যতীত অন্যান্য স্বাধীনতা অর্জিত হয় না। তবে স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে এটি রক্ষা করা কঠিন।

ক.

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে নাম কী?

খ.

জাতি বলতে কী বোঝ?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত স্বাধীনতাসহ মোট তিন ধরনের স্বাধীনতা বর্ণনা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের সর্বশেষ বাক্যটি মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।