ক.
UNICEF-এর পূর্ণরূপ হলো- United Nations Childern Fund.
খ.
একাধিক জাতির সমন্বয়ে গঠিত সংস্থা, যার কার্যক্রম একাধিক দেশে বিস্তৃত তাকে আন্তর্জাতিক সংস্থা বলে। অধ্যাপক কুইন্স রাইটের মতে, কতকগুলো সাধারণ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন স্বাধীন রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত আন্তর্জার্তিক এবং আঞ্চলিক সমাজের গঠন ও পরিচালনা ব্যবস্থাই হলো আন্তর্জাতিক সংস্থা। যেমন- জাতিসংঘ, ওআইসি, UNDP ইত্যাদি।
গ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থাটি হলো UNDP, যার উদ্দেশ্য বহুবিধ।
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি UNDP হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ উন্নয়নমূলক সংস্থা। ১৯৬৬ সালের ১ জানুয়ারি সম্মিলিত জাতিসংঘের বর্ধিত কারিগরি সাহায্য কর্মসূচি এবং জাতিসংঘের বিশেষ তহবিল সমন্বিত করে UNDP গঠন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য জাতিসংঘের মাধ্যমে প্রদত্ত কারিগরি সহায়তামূলক প্রকল্পের সমন্বয় সাধন ও পরিচালনা করা। এটি অংশীদারের ভিত্তিতে টেকসই জাতি গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। বর্তমানে UNDP যেসব উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে, সেগুলো হলো বিশ্বের সদস্যরাষ্ট্রসমূহ বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলোর দারিদ্র্য হ্রাস করা, 'গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, পরিবেশ উন্নয়নে সহায়তা করা, MDG লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মসূচি প্রণয়ন করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সাহায্য করা, বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকট মোকাবিলা তথা উত্তরণে সহায়তা করা, বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংরক্ষণ করা, নারীর ক্ষমতায়নে সাহায্য করা ইত্যাদি। উক্ত সংস্থাটি এসব উদ্দেশ্যেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত বিপন্ন মানুষের কল্যাণে গঠিত উদ্দীপকের সংস্থাটি হলো UNDP। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে এ সংস্থাটি প্রত্যক্ষভাবে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা করে থাকে।
১৯৭২ সাল থেকে ইউএনডিপি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প যেমন কৃষি, বনায়ন, বিদ্যুৎ, যাতায়াত, খনিজ সম্পদ উন্নয়ন, গৃহায়ণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রভৃতি আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের MDG অর্জনে UNDP যৌথভাবে কাজ করছে। শুধু তাই-ই নয়, বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সাথেও, যৌথভাবে UNDP বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। বাংলাদেশের, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, শাসনব্যবস্থার গতিশীলতা আনয়নের জন্য নির্বাচন কমিশনের উন্নয়ন, শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন সংসদ ও বিচারব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে। সংকট প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম, উপকূলে বনায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সমষ্টিভিত্তিক অভিযোজন কার্যক্রম, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন ও আস্থা অর্জন কর্মসূচি ও দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম প্রভৃতি প্রকল্পে অর্থায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে ইউএনডিপি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিকে সামনে রেখে প্রকল্প গঠন ও বাস্তবায়নে UNDP-এর অনন্যসাধারণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। এদেশে জনপ্রশাসন সংস্কার সাধনেও UNDP-এর ভূমিকা রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয়করণ, প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, স্বচ্ছতা প্রভৃতি ব্যাপারে UNDP সহায়তা করে থাকে। বিশ্বায়নের এ যুগে বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়ন, বাংলাদেশের জ্বালানি ও পরিবেশ উন্নয়নে গ্রিন হাউস গ্যাস নিয়ন্ত্রণে মন্ট্রিল প্রটোকলের আওতায় বাংলাদেশকে সহায়তা দান, উপকূলীয় এলাকায় জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব 'মোকাবিলায় সহায়তা দান, এইচআইভি। এইডস প্রতিকার ও প্রতিরোধ কার্যক্রমে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি নারী উন্নয়নে লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়নে সরকার পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমে UNDP কার্যকরী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বিপন্ন মানুষের কল্যাণে গঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ব্যবস্থায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।