Facebook Pixel

১৯৬৪ সাল থেকে ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা পৃথক রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম করে আসছে। কিন্তু ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে তারা সফল হতে পারেনি। ১৯৮২ সালে তারা তিউনিশিয়ার রাজধানী তিউনিশে সদর দপ্তর স্থাপন করেন। প্রবাস থেকেই তারা তাদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।পাঠ-৬ ক. পাক সেনাদের আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রথম কোন বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুলে? ১ খ. বুদ্ধিজীবী হত্যা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। ২ গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দপ্তরের সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কোন দপ্তরের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর। ৩ ঘ. মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন উক্ত দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ছিল? তোমার মতামত দাও। ৪

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধ

উৎস: Board Exam Question DB 2017, Board Exam Question Combined 2017

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) পাক সেনাদের আক্রমণের বিরুদ্ধে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পুলিশ বাহিনী প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে। (খ) বুদ্ধিজীবী হত্যা বলতে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করাকে বোঝায়। পাকিস্তানিরা বুঝতে পেরেছিল যে, বাঙালি জাতি যদি তাদের মেধাবী সন্তানদের হারায়, তবে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে এবং স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। তাই তারা দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক ও সাহিত্যিকদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে, যাতে বাংলাদেশ মেধাশূন্য হয়ে পড়ে। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থার সদর দপ্তরের সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে স্থাপিত প্রবাসী সরকারের সচিবালয়ের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা তাদের নিজ ভূখণ্ডে ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে সফল হতে না পেরে প্রবাসে তিউনিশিয়ার রাজধানী তিউনিশে সদর দপ্তর স্থাপন করে সেখান থেকে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর ১৭ এপ্রিল পাকিস্তান বিমান বাহিনী মুজিবনগরে হামলা চালায়। নিরাপত্তার খাতিরে এবং যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ভারতের কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে তাদের সচিবালয় স্থানান্তর করে। সেখান থেকেই প্রবাসী সরকার নয় মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, বিশ্ব জনমত গঠন এবং বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করে। অর্থাৎ, উভয় ক্ষেত্রেই নিজ ভূখণ্ডে প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে প্রবাস থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দপ্তর স্থাপন করা হয়েছে। (ঘ) আমার মতে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে স্থাপিত প্রবাসী সরকারের দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম এবং এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। প্রথমত, নিরাপত্তার বিষয়টি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী অতর্কিত আক্রমণ শুরু করলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে সরকার পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পরপরই পাকিস্তানি বিমান বাহিনী সেখানে হামলা চালায়। এমতাবস্থায়, কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে দপ্তর স্থাপন করায় সরকার নিরাপদ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পায়, যা যুদ্ধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক সমর্থন ও কূটনৈতিক তৎপরতা। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি আদায় এবং বিশ্ব জনমত গঠনের জন্য প্রবাসী সরকারের একটি সুসংগঠিত দপ্তরের প্রয়োজন ছিল। ৮ নম্বর থিয়েটার রোড থেকে সরকার বিভিন্ন দেশের সাথে যোগাযোগ স্থাপন, বিশ্বনেতাদের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যৌক্তিকতা তুলে ধরা এবং শরণার্থীদের সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। তৃতীয়ত, যুদ্ধের সমন্বয়। দেশের ভেতরে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ এবং বিভিন্ন সেক্টরের মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রয়োজন ছিল। কলকাতার এই দপ্তরটি সেই কেন্দ্রীয় কমান্ডের ভূমিকা পালন করে। পরিশেষে বলা যায়, যদি এই দপ্তরটি না থাকত, তবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠন করা অত্যন্ত কঠিন হতো। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে এই দপ্তরের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenDhaka Board (2017)Combined Board (2017)

১৯৬৪ সাল থেকে ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা পৃথক রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম করে আসছে। কিন্তু ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে তারা সফল হতে পারেনি। ১৯৮২ সালে তারা তিউনিশিয়ার রাজধানী তিউনিশে সদর দপ্তর স্থাপন করেন। প্রবাস থেকেই তারা তাদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।পাঠ-৬

ক. পাক সেনাদের আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রথম কোন বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুলে? ১

খ. বুদ্ধিজীবী হত্যা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। ২

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত দপ্তরের সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কোন দপ্তরের মিল আছে? ব্যাখ্যা কর। ৩

ঘ. মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন উক্ত দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ছিল? তোমার মতামত দাও। ৪

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'অপারেশন সার্চলাইট' বলতে কী বোঝায় ?

অহনা তার ভাইয়ের সাথে মহানগর নাট্যমঞ্চে একটি নাটক দেখতে যায়। নাটকের একপর্যায়ে অহনা দেখতে পায় গভীর রাতে ঘুমন্ত জনগণের ওপর ...

অহনা তার ভাইয়ের সাথে মহানগর নাট্যমঞ্চে একটি নাটক দেখতে যায়। নাটকের একপর্যায়ে অহনা দেখতে পায় গভীর রাতে ঘুমন্ত জনগণের ওপর ...

আজ হতে বাংলাদেশ স্বাধীন। একথা দ্বারা বঙ্গবন্ধু কী প্ৰকাশ করেছেন?

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : ঘানার মুক্তিকামী জনগণ কাওয়ামে নতুমার নেতৃত্বে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করেছিল । উদ্দ...

উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও : সার্বিয়ার সেনাবাহিনী বসনিয়ায় সামরিক অভিযান প্রেরণ করে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হ...

একটি অঞ্চলের জনগণ কেন্দ্রীয় সরকারের বিমাতাসুলভ আচরণের কারণ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নেতার স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষিতে এ...

'ক' ও 'খ' বাবার সাথে রায়ের বাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ ঘুরতে যায়। সেখানে ২৫ মার্চের কালরাতের পৈশাচিক নিষ্ঠুরতা, মুক্তিযুদ্ধ...

'ক' রাজ্যের দুটি অংশ ছিল। অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র কিন্তু জনবহুল অঞ্চলটিকে পদানত করে রাখার জন্য এক রাতের আঁধারে নির্বিচারে মান...

ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী মুজিবনগর সরকারের যেসব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন— i. অর্থ ii. বাণিজ্য iii. যোগাযোগ নিচের কোনট...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।