ক.
Civis' ল্যাটিন ভাষার শব্দ
খ.
মানব জ্ঞানের অন্যতম শাখা হলো পৌরনীতি। পৌরনীতির সাথে সংযুক্ত আধুনিক চিন্তাধারায় মার্জিত বর্তমান রূপ পৌরনীতি ও সুশাসন। যে শাস্ত্র নাগরিক, সমাজ ও রাষ্ট্রের আচরণ এবং কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করে তাই পৌরনীতি। আর রাষ্ট্র ও সরকারের এবং সরকার ও জনগণের সম্পর্ক কেমন হবে সুশাসন সে বিষয়ে আলোকপাত করার মাধ্যমে সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই সম্পর্ককে কার্যকর করে তোলে। পরিশেষে বলা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন হলো এমন একটি সামাজিক বিজ্ঞান, যা রাষ্ট্রে নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য, আচার-আচরণ এবং রাষ্ট্রের কার্যাবলি ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে ধারাবহিক পর্যালোচনা করে।
গ.
উদ্দীপকের আইনটি কিশোর অপরাধীদের সংশোধনে সহায়তা করে সমাজের কল্যাণ সাধনের অভিন্ন উদ্দেশ্য পূরণের মাধ্যমে সমাজকর্ম এবং পৌরনীতি ও সুশাসনের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে।
সমাজকর্ম এবং পৌরনীতি ও সুশাসন উভয়ই কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে সচেতন পদক্ষেপ রাখে। আবার সমাজের নানা সমস্যা। সমাধানকল্পে সমাজকর্ম এবং পৌরনীতি ও সুশাসন উভয়ই প্রয়োজনীয়। আইনকানুন প্রবর্তনের পক্ষপাতী। এর মাধ্যমে উভয় শাস্ত্রই জনগণের কল্যাণ সাধনের পথকে প্রশস্ত করে। উদ্দীপকের ১৯৬০ সালে প্রবর্তিত 'প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স' অনুযায়ী ১৯৬২ সাল থেকে বাংলাদেশের অপরাধীদের সংশোধনে 'প্রবেশন' চালু হওয়া সংশোধনমূলক কার্যক্রমের অন্তর্গত। এ ধরনের সংশোধনমূলক কার্যক্রম অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের চরিত্র সংশোধনের উদ্দেশ্য প্রণীত হয়েছে। এ আইন সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখে। আর এ ধরনের কল্যাণমূলক আইনকানুন যেমন সমাজকর্মে গুরুত্বপূর্ণ তেমনি পৌরনীতি ও সুশাসনও এ আইনকে গুরুত্ব দেয়। কেননা এ আইন সংশোধনমূলক ব্যবস্থা পরিচালনার মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ সাধনে ভূমিকা রাখছে। আর এর মাধ্যমে সমাজকর্ম এবং পৌরনীতি ও সুশাসন উভয়ের উদ্দেশ্যই পূরণ হচ্ছে।
এ আইন অপরাধীদের সংশোধন করে সমাজে পুনর্বাসিত করার মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে যে ভূমিকা রাখছে তার দ্বারাই এ আইনটি সমাজকর্ম এবং পৌরনীতি ও সুশাসনের অভিন্ন উদ্দেশ্য পূরণ করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করছে।
ঘ.
উদ্দীপকের আইনটি সংশোধনমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ সাধন করায় তা সমাজকর্ম এবং পৌরনীতি ও সুশাসন উভয়েরই সমর্থন পাবে।
কেননা উভয় শাস্ত্রেরই উদ্দেশ্য হলো সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করা। যা আইনটি পূরণ করতে সমর্থ হয়েছে। উদ্দীপকের 'প্রবেশন অব অফেন্ডার্স অর্ডিন্যান্স' অনুযায়ী বাংলাদেশে অপরাধীদের সংশোধনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত 'প্রবেশন' আইন সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক। এ. আইন অপরাধীদের সংশোধন করে সমাজে পুনর্বাসিত করতে সহায়তা করে। অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের চরিত্র সংশোধনে এ আইন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর দ্বারা যেমন সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয় তেমনি সমাজের কল্যাণেও এ আইনের সংশোধনমূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় উক্ত আইনের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সমাজকর্ম এবং পৌরনীতি সুশাসন উভয় শাস্ত্রেরই লক্ষ্য। সমাজের কল্যাণে সংশোধনমূলক কার্যক্রম তথা প্রয়োজনীয় আইনকানুন প্রবর্তনকে উভয় শাস্ত্রই সমর্থন দেয়। কেননা উক্ত দুটি শাস্ত্রের দৃষ্টিতেই সমাজের কল্যাণ সাধন ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংশোধনমূলক কার্যক্রম ব্যাপক গুরুত্ববহ। অধিকন্তু রাষ্ট্রের সুশাসন নিশ্চিত করতে অপরাধীদের সংশোধন যেমন জরুরি, তেমনি সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ আনয়নে সংশোধন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আবার সামাজিক সমস্যার সমাধানে যেসব পদক্ষেপ গৃহীত হয় তার মধ্যে সংশোধনমূলক আইন তথা কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্তমান সমাজব্যবস্থায় স্বীকৃত।
আর সমাজের উদ্দেশ্যে গৃহীত এ কর্মসূচি সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখায় কল্যাণ সংশ্লিষ্ট বিষয় সমাজকর্ম এবং পৌরনীতি ও সুশাসন উভয়েরই সমর্থন পাবে। তাই প্রশ্নের মন্তব্যটি যথার্থ।