ক.
যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে বৈধ যুক্তি থেকে অবৈধ যুক্তির পার্থক্য নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতি ও নীতিসমূহের একটি বিশিষ্ট বিদ্যা।
খ.
যুক্তিবিদ্যার মূল আলোচ্য বিষয় হলো অনুমান, তাই একে অনুমানমূলক বিজ্ঞান বলা হয়।
কোনো জানা বিষয়ের মাধ্যমে অজানা বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভের মানসিক প্রক্রিয়াকে অনুমান বলে। যেকোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রথমেই অনুমানের আশ্রয় নিতে হয়। ব্যক্তিগত বা ব্যাবহারিক জীবনেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের অনুমান করতে হয়। এইসব অনুমানের বিচার ও বিশ্লেষণ করা হয় যুক্তিবিদ্যায়। ব্রিটিশ যুক্তিবিদ জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, যুক্তিবিদ্যা অনুমানমূলক সত্যের বিচার করে। জ্ঞাত সত্য থেকে অজ্ঞাত সত্যে উপনীত হওয়া যায় কি-না তা বিচার করে দেখাই হলো যুক্তিবিদ্যার কাজ। এসব কারণে যুক্তিবিদ্যাকে অনুমানমূলক বিজ্ঞান বলা হয়।
গ.
১৯৬৫ থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত সময়টি দিয়ে যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের মধ্যযুগকে (৮৭০- ১৬৪৬ খ্রিষ্টাব্দ) যুগকে নির্দেশ করছে।
যুক্তিবিদ্যার আলোচনা প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে সমকালীন যুগ পর্যন্ত বিভিন্ন ধারায় বিকশিত হয়েছে। যুক্তিবিদ্যার ইতিহাসে মধ্যযুগে বিভিন্ন মুসলিম মনীষী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। মধ্যযুগে যুক্তিবিদ্যায় যেসব : মনীষী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- আল- কিন্দি, আল-ফারাবি, ইবনে সিনা, আল-গাযযালি ও ইবনে রুশদ। মধ্যযুগে যেসব দার্শনিক যুক্তিবিদ্যার ওপর সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন তাদের মধ্যে আল-ফারাবি ছিলেন প্রধান। তিনি সহানুমান, আরোহ অনুমান সংক্রান্ত আলোচনা, পদ ও বচনের ভাষাতাত্ত্বিক ও যৌক্তিক আলোচনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিভিন্ন মৌলিক আলোচনা করেন। তবে ফারাবির চিন্তায় গ্রিক যুক্তিবিদ এরিস্টটলের প্রভাব ছিল। মধ্যযুগে আল- গাযযালি 'তাহফাতুল ফালাসিফা' গ্রন্থে দার্শনিকদের ভ্রান্তিগুলো নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যে যুক্তি প্রদর্শন করেছেন তার দার্শনিক মূল্য অনেক। এছাড়া মধ্যযুগে ইবনে রুশদও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এভাবে মধ্যযুগের বিভিন্ন দার্শনিক যুক্তিবিদ্যার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যাকে বিকশিত করেছেন।
উদ্দীপকের ইচ্ছাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সময়টি দ্বারা যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের মধ্যযুগকে বোঝানো হয়েছে । কেননা, উদ্দীপকের ইচ্ছাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সময়টি বিদ্যালয়ের ক্রমবিকাশের দ্বিতীয় পর্যায়ে এসেছে। তাই বলা যায়, যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের ধারায় দ্বিতীয় যুগটি হলো মধ্যযুগ।
ঘ.
উদ্দীপকের আলোকে যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের যুগ তথা প্রাচীন যুগ, মধ্য যুগ, আধুনিক যুগ ও সাম্প্রতিক যুগকে বিশ্লেষণ করা হলো—
যুক্তিবিদ্যার বিবর্তন অর্থাৎ উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশকে চারটি যুগে বিভক্ত করা যায়। যথা- প্রাচীন যুগ, মধ্য যুগ, আধুনিক যুগ ও সাম্প্রতিক যুগ। প্রাচীন যুগে যুক্তিবিদ্যার বিকাশে পিথাগোরাস, সক্রেটিস, এরিস্টটল প্রমুখ যুক্তিবিদগণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রাচীন যুগের যুক্তিবিদ্যা যুক্তিপদ্ধতি নির্ভর হলেও মধ্যযুগীয় যুক্তিবিদ্যা বলতে প্রধানত স্কলাস্টিক যুক্তিতত্ত্বকেই নির্দেশ করে। দার্শনিক পরফিরি মধ্যযুগের যুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। মধ্যযুগের প্রভাবশালী মুসলিম দার্শনিক ও যুক্তিবিদগণ হলেন- আল-ফারাবি, ইবনে সিনা, ইবনে রুশদ, আল-কিন্দি প্রমুখ। আধুনিক যুগের প্রধান যুক্তিবিদগণ হলেন- লাইবনিজ, হেগেল, বেইন, জেএস মিল প্রমুখ। লাইবনিজ এর সময় থেকেই সাবেকী যুক্তিবিদ্যা আধুনিক রূপ লাভ করে। তার যৌক্তিক কলন পদ্ধতির মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যা গাণিতিক আকার পায় এবং সাম্প্রতিক যুগের সূচনা হয় । সাম্প্রতিক যুগের প্রধান যুক্তিবিদগণ হলেন- জর্জ বুল, ভিটগ্যানস্টাইন, জেভন্স, সি.এস. পার্স, রাসেল, আই. এম. কপি প্রমুখ।
উদ্দীপকের ঘটনাটি যুক্তিবিদ্যার ক্রমবিকাশের চারটি যুগ যথাক্রমে ১৯৫৩ সালে ইচ্ছাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ দ্বারা প্রাচীন যুগ, ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সেমি পাকা দালান করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ ও পরবর্তীতে ছাদ ঢালাই করে বিল্ডিং স্থাপন দ্বারা মধ্যযুগ, ২০০৫ সালে তিন তলা বিল্ডিং স্থাপন দ্বারা আধুনিক যুগ ও বর্তমানে এটি মহাবিদ্যালয়ে পরিণত হওয়া দ্বারা সাম্প্রতিক যুগের প্রতিনিধিত্ব করছে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনাটিতে চারটি স্তরে যুক্তিবিদ্যার পরিবর্তন ও বিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। যা দীর্ঘ আড়াই হাজার বছরে পর্যায়ক্রমে বর্তমান রূপ লাভ করেছে।