Facebook Pixel

১৯৫২ সালে মায়ের ভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে সালাম, বরকত, জব্বার, রফিকসহ নাম না জানা অনেকেই শহিদ হয়েছেন। এই ঘটনার ফলে জনগণের মধ্যে তীব্র জাতীয়তাবোধ জাগ্রত হয়। সেই চেতনাবোধে উদ্বুদ্ধ জনগণ একপর্যায়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ক. দেশপ্রেম কী? খ. লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে জাতীয়তা গঠনের ক্ষেত্রে কোন উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা রেখেছে? ব্যাখ্যা দাও। ঘ. জাতীয়তাবাদী চেতনার ফসল জাতি- উদ্দীপকের আলোকে বক্তব্যটি মূল্যায়ন কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১০ঃ দেশপ্রেম ও জাতীয়তা

উৎস: Test Exam Question IPSCC 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) দেশপ্রেম হলো নিজের মাতৃভূমির প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা, মমত্ববোধ এবং দেশের প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করার মানসিক প্রস্তুতি। (খ) লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে অতিরিক্ত নিয়ম-কানুন, জটিল পদ্ধতি, দীর্ঘসূত্রতা এবং অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতার আধিক্যকে বোঝায়। এর ফলে সাধারণ মানুষের দাপ্তরিক কাজ সময়মতো সম্পন্ন হয় না, সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিলম্বিত হয় এবং সেবা প্রদানে অকার্যকারিতা ও ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। (গ) উদ্দীপকে জাতীয়তা গঠনের ক্ষেত্রে 'ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐক্য' উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। জাতীয়তাবোধের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো ভাষা ও সংস্কৃতি। যখন কোনো জনসমষ্টির অধিকাংশ মানুষের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অভিন্ন হয়, তখন তাদের মধ্যে এক সহজাত ঐক্যের সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৫২ সালে সালাম, বরকত, জব্বার ও রফিকসহ নাম না জানা অনেকেই মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই আত্মত্যাগ কেবল একটি ভাষার অধিকার রক্ষার লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল বাঙালির নিজস্ব সাংস্কৃতিক সত্তার বহিঃপ্রকাশ। এই ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যই জনগণের মধ্যে তীব্র জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করেছে, যা পরবর্তীতে তাদের একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে সাহায্য করেছে। (ঘ) "জাতীয়তাবাদী চেতনার ফসল জাতি"-উদ্দীপকের আলোকে এই বক্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে, জাতীয়তা হলো একটি মানসিক ধারণা, যা মানুষকে আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ করে। আর যখন এই জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ জনসমাজ রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে, তখনই তা 'জাতি' হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। লর্ড ব্রাইসের মতে, জাতীয়তা যখন রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করে, তখনই তা জাতিতে পরিণত হয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির মধ্যে যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তা সময়ের পরিক্রমায় আরও শক্তিশালী হয়। এই চেতনার ভিত্তিতেই জনগণ স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ১৯৭১ সালে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়। অর্থাৎ, বাঙালি জাতি তার জাতীয়তাবাদী চেতনাকে রাজনৈতিক সংগ্রামের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। সুতরাং, একটি জাতির অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্বের মূলে তার সুদৃঢ় জাতীয়তাবাদী চেতনা বিদ্যমান থাকে, যা উদ্দীপকের ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Ispahani Public School and College, Cumilla (2026)

১৯৫২ সালে মায়ের ভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে সালাম, বরকত, জব্বার, রফিকসহ নাম না জানা অনেকেই শহিদ হয়েছেন। এই ঘটনার ফলে জনগণের মধ্যে তীব্র জাতীয়তাবোধ জাগ্রত হয়। সেই চেতনাবোধে উদ্বুদ্ধ জনগণ একপর্যায়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

ক. দেশপ্রেম কী?

খ. লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে জাতীয়তা গঠনের ক্ষেত্রে কোন উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা রেখেছে? ব্যাখ্যা দাও।

ঘ. জাতীয়তাবাদী চেতনার ফসল জাতি- উদ্দীপকের আলোকে বক্তব্যটি মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।