Facebook Pixel

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ আন্দোলনে নেমে আসে। উক্ত আন্দোলনের সফলতার পথ ধরে বাঙালিরা পশ্চিম পাকিস্তানের বিমাতা সুলভ আচরণ, অন্যায়, অত্যাচার ও বৈষম্য থেকে মুক্ত হওয়ার প্রয়োজনে জাতীয় চেতনা গড়ে তোলে। যা পরবর্তীতে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে। ক. জাতীয়তাবাদ কী? খ. "৬২-এর শিক্ষানীতি ছিল বাঙালির স্বার্থবিরোধী"-ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে কোন আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি

উৎস: Board Exam Question Combined 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. জাতীয়তাবাদ হলো এমন এক ধরনের মানসিক চেতনা বা রাজনৈতিক আদর্শ, যার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের মানুষ অভিন্ন ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ মনে করে এবং স্বাধিকার বা সার্বভৌমত্ব অর্জনে উদ্বুদ্ধ হয়। খ. ১৯৬২ সালে আইয়ুব খানের সামরিক সরকারের আমলে ঘোষিত শরীফ কমিশন বা শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বাঙালি জাতির স্বার্থের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ছিল। কারণ এই শিক্ষানীতিতে উচ্চশিক্ষাকে ব্যয়বহুল করার প্রস্তাব করা হয়, যা সাধারণ ও দরিদ্র বাঙালি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করত। এছাড়া এই নীতিতে পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার বৈষম্য দূর করার পরিবর্তে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও পিছিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করা হয় এবং পূর্ব বাংলার জনগণের ওপর উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার পরোক্ষ অপচেষ্টা চালানো হয়, যার প্রতিবাদে তৎকালীন ছাত্রসমাজ তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। গ. উদ্দীপকে ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর প্রতিবাদে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৪৪ ধারা অমান্য করে ছাত্ররা রাজপথে মিছিল বের করলে পাকিস্তানি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ওপর নির্মম গুলিবর্ষণ করে। এতে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা অনেকেই শহিদ হন। এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমেই বাঙালিরা তাদের মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করে, যা ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন নামে অমর হয়ে আছে। ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে সৃষ্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে বাঙালি জাতির নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিসত্তা যে অনেক বেশি শক্তিশালী, তা ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রথম স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির প্রথম অসাম্প্রদায়িক ও গণআন্দোলন, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আপামর জনসাধারণ বাংলা ভাষার টানে এক কাতারে শামিল হয়েছিল। এই আন্দোলনের ফলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ঔপনিবেশিক ও বৈষম্যমূলক চরিত্র জনগণের সামনে উন্মোচিত হয় এবং বাঙালিরা উপলব্ধি করে যে পশ্চিম পাকিস্তানিরা তাদের ওপর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গোলামি চাপিয়ে দিতে চায়। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের রক্ত থেকে অর্জিত এই চেতনা পরবর্তীতে বাঙালির মনে স্বাধিকারের বীজ বপন করে, যা পরবর্তীতে ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম ও ত্বরান্বিত করেছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2026)

$১৯৫২$ সালের $২১$শে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ আন্দোলনে নেমে আসে। উক্ত আন্দোলনের সফলতার পথ ধরে বাঙালিরা পশ্চিম পাকিস্তানের বিমাতা সুলভ আচরণ, অন্যায়, অত্যাচার ও বৈষম্য থেকে মুক্ত হওয়ার প্রয়োজনে জাতীয় চেতনা গড়ে তোলে। যা পরবর্তীতে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে।

ক.

জাতীয়তাবাদ কী?

খ.

"$৬২$-এর শিক্ষানীতি ছিল বাঙালির স্বার্থবিরোধী"-ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে কোন আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উক্ত আন্দোলন বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশকে ত্বরান্বিত করে। বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।