Facebook Pixel

১৯৫০ সালে ভারতের বিহারে প্রাদেশিক সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখের ভাষা বাংলা বাদ দিয়ে ফারসিকে একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা দিলে বাঙালিরা আন্দোলনের ডাক দেন। আন্দোলনে বিহার সরকার নির্বিচারে গুলি চালালে ১১ জন ভাষা সৈনিক শাহাদাত বরণ করেন। পরবর্তীতে আন্দোলন আরও বেগবান হলে বিহার সরকার বাংলাকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে মর্যাদা দিতে বাধ্য হন। ক. কার নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়? খ. পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করাতে চেয়েছিল কেন? গ. উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের কোন আন্দোলনের মিল আছে-ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের আন্দোলন ও সাদৃশ্যপূর্ণ আন্দোলন কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ-মতামত দাও।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ বাংলার ইতিহাস (পাকিস্তান আমল)

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়। খ. উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার পেছনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও আর্থ সামাজিক দুরভিসন্ধি ছিল। বস্তুত পাকিস্তানের শাসনভার যে রাজনীতিবিদ ও আমলাদের হাতে ছিল তাদের অধিকাংশই ছিল উত্তর ভারত থেকে আগত উর্দুভাষী। নতুন রাষ্ট্রের প্রধান প্রধান বণিক-ব্যবসায়ীও ছিলেন উর্দুভাষী। কাজেই পাকিস্তানের ভাগ্যনিয়ন্তা বলে কথিত রাজনীতিবিদ, আমলা ও বণিক ব্যবসায়ীরা নিজেদের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক ক্ষমতার প্রাধান্য বজায় রাখতে তাদের ভাষা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার জোর দাবি জানায়। গ. উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায় ১৯৫০ সালে ভারতের বিহার প্রাদেশিক সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠর ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে ফারসি ভাষাকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে বাঙালিরা আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং ধর্মঘটের ডাক দেয়। আন্দোলনকারীদের ওপর বিহার সরকার নির্বিচারে গুলি চালালে ১১জন ভাষা সৈনিক ঘটনাস্থলে শহিদ হন। উদ্দীপকের এই ঘটনা আমাদের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়। বিহার সরকার যেমনভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভাষাকে বাদ দিয়ে ফারসিকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা দেয়, তেমনিভাবে পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলার জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা দেয়। পূর্ব বাংলার জনগণ পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠির এই সিদ্ধান্তকে মেনে নেয়নি। পূর্ব বাংলার বিক্ষুব্ধ জনতা দেশব্যাপী ধর্মঘট ও হরতাল কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' শ্লোগানে মুখরিত হয় রাজপথ। ১৯৫২ সালের ৩০ জানুয়ারি ধর্মঘট পালিত হয় এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে হরতাল পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। কিন্তু পাকিস্তান সরকার ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারি করে। নির্ধারিত কর্মসূচি হরতাল পালন করার জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি বিক্ষুব্ধ জনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাস্তায় মিছিল নিয়ে বের হয় এবং রাষ্ট্রভাষা বাঙলা চাই শ্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে তোলে। ছাত্র-জনতা পুলিশের বাধা ভঙ্গ করে মিছিল নিয়ে অগ্রসর হলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে রফিক, বরকতসহ অনেকে নিহত হন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের বিহারের ঘটনাটি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. ভাষা আন্দোলনের ঘটনাটি উদ্দীপকে বর্ণিত বিহারের ঘটনা থেকে অধিক তাৎপর্যপূর্ণ। বিহার প্রাদেশিক সরকার বিহারের সংখ্যাগরিষ্ঠদের ভাষাকে বাদ দিযে তাদের পছন্দনীয় ভাষা চাপিয়ে দেয়। যার ফলে বিহারের জনগণ বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আন্দোলন করলে বিহারের সরকার তাদের ওপর গুলি চালায় এবং ১১জন শহিদ হয়। উদ্দীপকের উক্ত ঘটনাটি যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনি বাঙালি জাতির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আরও তাৎপর্যপূর্ণ। মূলত পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই অর্থাৎ ১৯৪৭ সাল থেকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী পূর্ব বাংলার ওপর উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য পূর্ব বাংলায় ১৯৪৭ সালে তমদ্দুন মজলিশ এবং ১৯৪৮ সালে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। শুধু তাই নয়, পূর্ব বাংলার জনগণ বিভিন্ন সময় হরতাল, ধর্মঘটও পালন করে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠির নির্দেশে পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই রফিক, জব্বারসহ অনেক ভাষা সৈনিক নিহত হন। এই ঘটনাটি বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ভাষার সাথে সম্পৃক্ত। পাকিস্তান সরকার পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মাতৃভাষাকে ধ্বংস করার যে ষড়যন্ত্র করেছিল, পূর্ব বাংলার ভাষা প্রেমিক জনগণ তা নস্যাৎ করে দেয়। ফলে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পায়। আর একই সূত্র ধরে পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। এজন্য উদ্দীপকের বিহারের ঘটনার চেয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনা অধিক তাৎপর্যপূর্ণ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

১৯৫০ সালে ভারতের বিহারে প্রাদেশিক সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখের ভাষা বাংলা বাদ দিয়ে ফারসিকে একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা দিলে বাঙালিরা আন্দোলনের ডাক দেন। আন্দোলনে বিহার সরকার নির্বিচারে গুলি চালালে ১১ জন ভাষা সৈনিক শাহাদাত বরণ করেন। পরবর্তীতে আন্দোলন আরও বেগবান হলে বিহার সরকার বাংলাকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে মর্যাদা দিতে বাধ্য হন।

ক.

কার নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়?

খ.

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করাতে চেয়েছিল কেন?

গ.

উদ্দীপকের আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের কোন আন্দোলনের মিল আছে-ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের আন্দোলন ও সাদৃশ্যপূর্ণ আন্দোলন কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ-মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Urdu and only Urdu shall be the state language of Pakistan'- উক্তিটি কার?

ক. 'তমদ্দুন মজলিস' কত সালে গঠিত হয়? খ. সংস্কৃতি বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন ঘটনাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর। ঘ...

ক. ভাষা আন্দোলন কত সালে হয়েছিল? খ. তমদ্দুন মজলিস কী? গ. উদ্দীপকে পাকিস্তান আমলের কোন বৈষম্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্...

ক. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কত তারিখে পালন করা হয়? খ. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে...

ক. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কত তারিখে পালন করা হয়? খ. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ বলতে কী বুঝায়? গ. উদ্দীপকের ছবিটি বাঙাল...

‘ ক ’ দেশটি পরাধীনতায় মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। ‘ খ ’ দল ক্ষমতায় আসার পর ‘ গ ’...

অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে হয় দফার অন্তর্ভুক্ত দফা হয়- i. রাজস্ব ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা থাকবে আঞ্চলিক সরকারের হাতে ii. দ...

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত বাঙালিরা প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে একটি বিশেষ দিন উদযাপন করেন। তারা দিনের শুরুতে ' আমার ভ...

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত বাঙালিরা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের একটি বিশেষ দিন উদযাপন করেন। তারা দিনের শুরুতে "আমার ভা...

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাসরত বাঙালিরা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের একটি বিশেষ দিন উদযাপন করেন। তারা দিনের শুরুতে 'আমার ভা...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।