Facebook Pixel

১৯৪৮-৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তানে এক আন্দোলন গড়ে ওঠে। উক্ত আন্দোলন ধীরে ধীরে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ক. অধ্যাদেশ জারি করেন কে? খ. সম্মোহনী নেতৃত্ব কাকে বলে? গ. উদ্দীপকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে জাতীয়তার কোন উপাদানটির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে জাতীয়তার উল্লিখিত উপাদান ছাড়াও আরও উপাদান রয়েছে- ব্যাখ্যা করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-১০ঃ দেশপ্রেম ও জাতীয়তা

উৎস: Board Exam Question JB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেন। (খ) কোনো বিশেষ নেতা যখন তার বক্তব্য, চারিত্রিক দৃঢ়তা, সাহসিকতা ও কাজের মাধ্যমে জনগণকে ভীষণভাবে সম্মোহিত, অনুপ্রাণিত ও উদ্বুদ্ধ করতে সক্ষম হন, তখন সেই নেতৃত্বকে সম্মোহনী নেতৃত্ব বলা হয়। সম্মোহনী নেতৃত্ব মূলত এক ধরনের যাদুকরী নেতৃত্ব। এ ধরনের নেতৃত্বের মাধ্যমে নেতা তার ব্যক্তিত্বের প্রবল প্রভাবে জনগণকে মুগ্ধ করে তাদের আনুগত্য অর্জনে সক্ষম হন। মহাত্মা গান্ধী, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্মোহনী নেতৃত্বের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। (গ) উদ্দীপকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে জাতীয়তার যে উপাদানটির কথা বলা হয়েছে তা হলো ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য। মানুষের মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হলো ভাষা। একই ভাষার মাধ্যমে একটি জনসমাজের মধ্যে একাত্মবোধ গড়ে ওঠে। ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য বিভিন্ন বংশোদ্ভূত জনগণের মধ্যে একাত্মতার ভাব জাগ্রত করে। উদ্দীপকে ১৯৪৮-৫২ সালের যে আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে, তা মূলত ভাষা আন্দোলনকে নির্দেশ করে। এই ভাষা আন্দোলনই পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায়। ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই চেতনা পরবর্তীকালে প্রতিটি গণআন্দোলনে প্রেরণা জুগিয়েছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সুতরাং, উদ্দীপকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে জাতীয়তার প্রধান উপাদান হিসেবে ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের কথাই বলা হয়েছে। (ঘ) উদ্দীপকে জাতীয়তার যে উপাদানের কথা বলা হয়েছে তা ছাড়াও জাতীয়তা গঠনের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। উক্তিটি যথার্থ। জাতীয়তা হলো কোনো জনসমাজের মধ্যে বিদ্যমান একাত্মবোধ বা ঐক্য। এই ঐক্যবোধ সৃষ্টির পেছনে কেবল ভাষা বা সংস্কৃতিই একমাত্র কারণ নয়, বরং আরও বেশ কিছু উপাদান কাজ করে: ১. ভৌগোলিক ঐক্য: একই ভৌগোলিক সীমানায় দীর্ঘকাল বসবাসের ফলে জনগণের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান ঘটে এবং একাত্মবোধের জন্ম হয়। ২. বংশগত ঐক্য: একই বংশোদ্ভূত বা রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে ওঠে, যা জাতীয়তা গঠনে ভূমিকা রাখে। ৩. ধর্মীয় ঐক্য: একই ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে বিশ্বাস ও ধর্মীয় বিধিবিধান পালনের মাধ্যমে এক ধরনের মানসিক ঐক্য তৈরি হয়। ৪. ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ঐক্য: অভিন্ন ইতিহাস ও ঐতিহ্য জনগণকে ঘনিষ্ঠ ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে। ৫. রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা: কোনো জনসমাজের মধ্যে একই ধরনের রাজনৈতিক অধিকার ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা জাতীয়তাবোধ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য জাতীয়তা গঠনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলেও, ভৌগোলিক, বংশগত, ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঐক্যের মতো উপাদানগুলোও জাতীয়তা গঠনে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenJessore Board (2022)

১৯৪৮-৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তানে এক আন্দোলন গড়ে ওঠে। উক্ত আন্দোলন ধীরে ধীরে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

ক. অধ্যাদেশ জারি করেন কে?

খ. সম্মোহনী নেতৃত্ব কাকে বলে?

গ. উদ্দীপকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে জাতীয়তার কোন উপাদানটির কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে জাতীয়তার উল্লিখিত উপাদান ছাড়াও আরও উপাদান রয়েছে- ব্যাখ্যা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।