Facebook Pixel

১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষলাগত গৃহীত হয়। যেখানে বলা হয়েছে যে, "অধিকারের প্রশ্নে মানুষ স্বাধীন ও সমান হয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং সবসময় সেভাবেই থাকতে চায়।" ক. কর্তব্য কী? খ. মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়? গ. স্থগিতকৃত সনদের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ। ঘ. সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইঙ্গিতকৃত সনদের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য

উৎস: Board Exam Question JB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) আইনের দ্বারা স্বীকৃত অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিককে যেসব দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাকে কর্তব্য বলে। (খ) মৌলিক অধিকার হলো নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যাপ্তির জন্য অপরিহার্য শর্তাবলি, যা সার্বভৌম রাষ্ট্রের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত এবং যা সরকারের নিকট অলঙ্ঘনীয়। জরুরি অবস্থা বা বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া কোনো সরকারই এই অধিকার খর্ব করতে পারে না। রাষ্ট্রের সংবিধান হলো মৌলিক অধিকারের প্রধান উৎস এবং এটি নাগরিকের মর্যাদা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। (গ) উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সনদটি হলো ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত "মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র"। এই সনদের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো: ১. সর্বজনীনতা: এই ঘোষণাপত্র জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, ভাষা, ধর্ম বা রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বিশ্বের সকল মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। ২. জন্মগত অধিকার: এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মানুষ স্বাধীন ও সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। ৩. ব্যাপকতা: এই দলিলে নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন: জীবনের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষার অধিকার এবং কাজের অধিকার। ৪. নৈতিক ভিত্তি: এটি কোনো বাধ্যতামূলক আইন না হলেও বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষায় একটি শক্তিশালী নৈতিক ও আদর্শিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ৫. বৈষম্যহীনতা: এই সনদের মূল লক্ষ্য হলো পৃথিবীতে বৈষম্য দূর করে প্রতিটি মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা। সুতরাং, এই সনদটি বিশ্বমানবতার ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত। (ঘ) সুশাসন প্রতিষ্ঠায় উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত "মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র" সনদের গুরুত্ব অপরিসীম। সুশাসন বলতে এমন এক শাসন ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র সুশাসনের এই মূল স্তম্ভগুলোকে শক্তিশালী করতে দিকনির্দেশনা প্রদান করে। উদ্দীপকে বর্ণিত ঘোষণা, "অধিকারের প্রশ্নে মানুষ স্বাধীন ও সমান হয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং সবসময় সেভাবেই থাকতে চায়", সুশাসনের মূল ভিত্তি স্থাপন করে। যখন একটি রাষ্ট্র এই ঘোষণা মেনে চলে, তখন সেখানে প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সাম্যের স্বীকৃতি পায়। এর ফলে নিম্নোক্ত প্রভাবগুলো পরিলক্ষিত হয়: ১. আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: মানবাধিকার নিশ্চিত হলে আইনের চোখে সবাই সমান হয়, যা সুশাসনের প্রধান শর্ত। ২. বৈষম্য হ্রাস: জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমান অধিকার নিশ্চিত হলে সমাজে সামাজিক স্থিতিশীলতা আসে এবং সংঘাত হ্রাস পায়। ৩. জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা: নাগরিকরা যখন তাদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, তখন তারা সরকারের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দাবি করতে পারে। ৪. মানবিক সমাজ গঠন: জীবনের অধিকার, শিক্ষার অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে। পরিশেষে বলা যায়, মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের নীতিগুলো বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পায়, যা একটি টেকসই সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। অতএব, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এই সনদের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenJessore Board (2025)

১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষলাগত গৃহীত হয়। যেখানে বলা হয়েছে যে, "অধিকারের প্রশ্নে মানুষ স্বাধীন ও সমান হয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং সবসময় সেভাবেই থাকতে চায়।"

ক. কর্তব্য কী?

খ. মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝায়?

গ. স্থগিতকৃত সনদের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।

ঘ. সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইঙ্গিতকৃত সনদের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।