(ক)
যে সরকার ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট ন্যস্ত থাকে এবং স্থানীয় সরকারসমূহ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে, তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে।
(খ)
সাধারণত রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থায় ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির উপস্থিতি ও প্রয়োগ লক্ষ করা যায়।
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি অনুযায়ী সরকারের তিনটি বিভাগ, যথা- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে কাজ করবে। এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না। রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থায় শাসন বিভাগের প্রধান (রাষ্ট্রপতি) আইনসভার সদস্য নন এবং আইনসভার নিকট দায়ী থাকেন না। ফলে এখানে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যে কাজের স্পষ্ট বিভাজন থাকে, যা ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল ভিত্তি।
(গ)
উদ্দীপকে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে জাতীয়তার প্রধান উপাদান হিসেবে 'ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য'-এর কথা বলা হয়েছে।
মানুষের মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হলো ভাষা। একই ভাষার মানুষ যখন অভিন্ন সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা করে, তখন তাদের মধ্যে একাত্মবোধ ও জাতীয়তাবোধের সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালের যে আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে, তা মূলত ভাষা আন্দোলনকে নির্দেশ করে। এই ভাষা আন্দোলনই পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করেছিল। ভাষা ও সংস্কৃতির এই ঐক্যই পরবর্তীকালে সকল গণআন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে এবং দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত জাতীয়তার উপাদানটি হলো ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য।
(ঘ)
উদ্দীপকে জাতীয়তার উপাদান হিসেবে ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একটি জনসমষ্টির মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করার জন্য এই উপাদানের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কাজ করে। নিচে সেগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভৌগোলিক ঐক্য: একই ভৌগোলিক সীমানায় দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করলে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক ভাবের আদান-প্রদান ঘটে, যা তাদের মধ্যে একাত্মতা ও জাতীয়তাবোধ সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
২. বংশগত ঐক্য: একই বংশোদ্ভূত বা রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা জনসমষ্টির মধ্যে গভীর ঐক্যবোধ থাকে, যা জাতীয়তা গঠনে ভূমিকা রাখে।
৩. ধর্মীয় ঐক্য: একই ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে অভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ও মূল্যবোধ কাজ করে, যা তাদের একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয়তাবোধে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।
৪. ইতিহাস ও ঐতিহ্যগত ঐক্য: অভিন্ন ইতিহাস, বীরত্বগাথা এবং ঐতিহ্যগত স্মৃতি জনগণকে একটি অভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ করে। অতীতের গৌরবময় ইতিহাস জাতীয়তাবোধকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
৫. রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা: কোনো জনসমাজের মধ্যে যদি অভিন্ন রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের অভিন্ন লক্ষ্য থাকে, তবে তা তাদের মধ্যে জাতীয়তার ভাব সৃষ্টিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
পরিশেষে বলা যায়, জাতীয়তা কোনো একটি নির্দিষ্ট উপাদানের ওপর নির্ভরশীল নয়। উদ্দীপকে বর্ণিত ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের পাশাপাশি ভৌগোলিক, ধর্মীয়, ঐতিহাসিক এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপাদানগুলো সম্মিলিতভাবে একটি জনসমাজকে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ করে এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করে।