Facebook Pixel

১৯৪৭ সালে ১৪ ও ১৫ আগস্ট ভারত মহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। যে বিখ্যাত আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষের ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সেই আইনের নেপথ্যে ভারতের সর্বশেষ গর্ভনর প্রদত্ত একটি পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। ক. সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হয় কত সালে? খ. 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে আলোকিত আইনটি মূলত মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার কার্যকর রূপ- আলোচনা কর। ঘ. "অনুচ্ছেদে নির্দেশিত আইনটি নানা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত"- উক্তিটির মূল্যায়ন কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ব্রিটিশ ভারতে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের বিকাশ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। খ. রাজনৈতিক ইতিহাসে দ্বিজাতি তত্ত্ব মুসলমানদের ভাগ্য উন্নয়নের এক যুগান্তকারী মাইলফলক। এ তত্ত্বের মূলকথা ছিল ভারতে মুসলমানরা যেকোনো বিচারে একটি স্বতন্ত্র জাতি এবং তাদের পৃথক জাতিসত্তা রয়েছে। এ পৃথক জাতিসত্তার স্বার্থরক্ষার জন্য ভারতে মুসলমানদের জন্য আলাদা আবাসভূমি প্রয়োজন। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতেই রচিত হয় ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব, যার মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল বলে মনে করা হয়। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটি তথা ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন মূলত ৩ জুন পরিকল্পনা বা মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার কার্যকর রূপ। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা এবং কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের পরস্পর বিরোধী দাবির মুখে ১৯৪৬ সালের মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এ সময় ভারতের নতুন ভাইসরয় লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে ক্ষমতা হস্তান্তর ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু সমস্যার গভীরতা এত বেশি ছিল যে, আলোচনায় সমাধানের কোনো পথ খুঁজে পাননি। অবশেষে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে "ভারত বিভাগ ছাড়া ভারতে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প উপায় নেই।" কংগ্রেস প্রথমে এ প্রস্তাবে অসম্মতি জানালেও পরবর্তীতে সাম্প্রদায়িক ভয়াবহতায় কংগ্রেস ভারত বিভক্তি মেনে নিতে বাধ্য হয়। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভক্তির পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এ ৩ জুন পরিকল্পনা বা মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার বাস্তবায়িত রূপ হলো ১৯৪৭সালের ভারত স্বাধীনতা আইন। এ আইনের মাধ্যমেই ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। উদ্দীপকের উল্লিখিত আইনটির মাধ্যমে ভারতবর্ষে ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং ১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। এ আইনের নেপথ্যে ভারতের সর্বশেষ গভর্নর প্রদত্ত একটি পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ এখানে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনকেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যা ভারতের সর্বশেষ গভর্নর লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনের ৩ জুন পরিকল্পনার বাস্তবায়িত রূপ। সুতরাং বলা যায়, ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন মূলত । মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার কার্যকর রূপ। ঘ. অনুচ্ছেদে নির্দেশিত আইনটি তথা ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন বিভিন্ন দিক দিয়ে অন্যান্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষের দীর্ঘ ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তান ও ভারত উভয়ই ডোমিনিয়নের মর্যাদা লাভ করে। এ আইনের মাধ্যমে বাংলাকে বিভক্ত করে পূর্ব বাংলা ও পশ্চিম বাংলা নামে দুটি নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হয় এবং পাঞ্জাবকে পৃথক করে পশ্চিম পাঞ্জাব ও পূর্ব পাঞ্জাব নামে দুটি প্রদেশের জন্ম হয়। এ আইন ভারত ও পাকিস্তান ডোমিনিয়নের জন্য দুটি পৃথক গণপরিষদ গঠন করে। এ গণপরিষদ দুটির ওপর দুই দেশের শাসনতন্ত্র রচনার ভার অর্পণ করা হয়। তবে উল্লেখ করা হয়, নতুন সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত উভয় দেশের গণপরিষদ দেশের কেন্দ্রীয় আইনসভা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এ আইনে ডোমিনিয়ন দুটি কমনওয়েলথভুক্ত থাকবে কি না সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পূর্ণ অধিকার তাদের প্রদান করা হয়। ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে দেশীয় রাজ্যগুলোর ওপর ব্রিটিশ রাজ্যের সার্বভৌম ক্ষমতার অবসান ঘটে। এ আইনের মাধ্যমে ভারত সচিব পদের বিলুপ্তি ঘটে। এ আইনের গভর্নর জেনারেলকে ব্রিটিশ কেবিনেটের রাজা/রানি কর্তৃক নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হিসেবে নিয়োজিত করা হয়। এক্ষেত্রে গভর্নর জেনারেলের স্বেচ্ছাধীন ও বিচারবুদ্ধিজনিত ক্ষমতা বিলুপ্ত করা হয়। এ আইন অনুসারে নতুন সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের শাসনকার্য ১৯৩৫ সালের আইন অনুযায়ী কার্যকর থাকবে। এ আইনের মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বেসামরিক কর্মচারীদের ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় এবং পূর্বের ন্যায় সকল সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। বড় কথা হলো, এই ঐতিহাসিক আইনের ফলে বিনা রক্তপাতে ভারতবর্ষ স্বাধীনতা লাভ করে এবং হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্বের অবসান হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

১৯৪৭ সালে ১৪ ও ১৫ আগস্ট ভারত মহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। যে বিখ্যাত আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষের ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে এবং দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। সেই আইনের নেপথ্যে ভারতের সর্বশেষ গর্ভনর প্রদত্ত একটি পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

ক.

সিপাহী বিদ্রোহ সংঘটিত হয় কত সালে?

খ.

'দ্বিজাতি তত্ত্ব' বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকে আলোকিত আইনটি মূলত মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার কার্যকর রূপ- আলোচনা কর।

ঘ.

"অনুচ্ছেদে নির্দেশিত আইনটি নানা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত"- উক্তিটির মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।