ক.
সমাজকর্মের উৎপত্তিস্থল হলো ইংল্যান্ড।
খ.
বাংলাদেশে সমাজকর্ম পেশার বিকাশে অনেকগুলো সমস্যা রয়েছে। যেমন— ১. অজ্ঞতা ও ভ্রান্ত ধারণা, ২. রাষ্ট্রনীতির অভাব, ৩. পেশাগত সংগঠনের অভাব, ৪. উপকরণের অভাব, ৫. মূল্যবোধের অভাব, ৬. কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, ৭. কর্মক্ষেত্রের অভাব, ৮. গবেষণার অভাব, ৯. মান্ধাতার আমলের শিক্ষাদান কর্মসূচি ইত্যাদি।
গ.
উদ্দীপকে বাংলাদেশের সমাজকর্মের সূত্রপাত এবং সমাজকর্ম শিক্ষার অগ্রগতির পটভূমি নির্দেশ করা হয়েছে। ১৯৪৭ সনে ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতার ফলশ্রুতিতে পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) তৈরি হয় আর্থসামাজিক সমস্যা, বহুসংখ্যক মানুষের স্থানান্তর। ফলে আবাসন, স্বাস্থ্য, খাদ্য, স্যানিটেশন প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার উদ্ভব হয়। এ সংকটজনক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের নিকট পাকিস্তান সরকার পরামর্শ ও সাহায্যের আবেদন জানায়। এ প্রেক্ষিতে ড. জেমস ডাম্পসন এর নেতৃত্বে Technical Assistance Programme-এর আওতায় ছয় সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল আসে। অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের পর তারা এদেশে পেশাদার সমাজকর্ম এবং এ সংক্রান্ত শিক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ ও প্রবর্তনের সুপারিশ করেন। বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ ও সহায়তায় ১৯৫৩ সনে তিন মাসব্যাপী কোর্স চালু করা হয়। যা পরবর্তীতে ১৯৫৫ সনে নয় মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সে নতুনভাবে শুরু হয়। এসব কোর্সের উদ্দেশ্যই ছিল সমাজকর্মের মানোন্নয়নে পেশাদার সমাজকর্মী তৈরি করা।
পরবর্তীতে ড জেমুর স্থায়ী কলেজ স্থায়ী কলেজ স্থাপনের পরামর্শ দিলে ১৮৫৮ সনে সমাজকল্যাণ ও গবেষণা কলেজ স্থাপিত হয়। প্রথমে কলেজে মাস্টার্স প্রোগ্রাম, পরবর্তীতে স্নাতকসহ বিভিন্ন ডিগ্রির আয়োজন করে। সাথে সাথে সমাজকর্ম শিক্ষার প্রসার ঘটতে থাকে। ১৯৬৪-৬৫ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজকর্মে স্নাতক ও মাস্টার্স চালু হয়। অন্যদিকে এ বছরে উচ্চ মাধ্যমিক ও বিএ (পাস কোর্স)-এ ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে সমাজকল্যাণ বিষয়টি পাঠ্যভুক্ত হয়। পরবর্তীতে ১৯৯২-৯৩ শিক্ষাবর্ষে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম যাত্রা শুরু করে। এভাবে সমাজকর্ম শিক্ষা বাংলাদেশে বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে প্রায় ১০টি কলেজে এ বিষয়ে অনার্স রয়েছে।
ঘ.
বাংলাদেশে সমাজকর্মের প্রয়োগক্ষেত্র ব্যাপক ও বিস্তৃত। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক সমস্যার সমাধান ব্যক্তিকে সক্ষম করে তুলতে সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগের ক্ষেত্রগুলো হলো—
১. পারিবারিক ভাঙন ও বিশৃঙ্খলা হ্রাস; ২. শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে যথার্থ মনোনিবেশ ও কার্যকর শিক্ষার নিশ্চয়তা দান; ৩. বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খাপ খাওয়ানোসহ শিক্ষক ও ছাত্রদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন করা; ৪. শিশুদের যথার্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে; ৫. নারীদের সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন; ৬. নারীদের প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধ করা; ৭. রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা; ৮. সমাজে অপরাধ কমিয়ে আনা; ৯. অপরাধীদের সমাজে পুনর্বাসন; ১০. কিশোর অপরাধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসা; ১১. জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ; ১২. পরিকল্পিত পরিবার নিশ্চিত করা; ১৩ সচেতনতা বৃদ্ধি; ১৪. প্রবীণদের কল্যাণের নিশ্চয়তা দেওয়া; ১৫. প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও কল্যাণের নিশ্চয়তা দান; ১৬. সমাজের অনগ্রসর অধিকার সংরক্ষণ ও সুযোগ তৈরি; ১৭. প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে পরিবেশের উন্নয়ন; ১৮. বনায়ন কার্যক্রম; ১৯. সম্পদের সদ্ব্যবহার; ২০. শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ; ২১. সামাজিক নীতি ও পরিকল্পনায় উন্নয়নকে যুক্ত করা; ২২. সমস্যার সমাধান। উপযুক্ত সকল কর্মকাণ্ডে সমাজকর্ম পেশার সম্ভাবনা রয়েছে।