Facebook Pixel

১৯১৮ সালে রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক নেতা ভ . ই . লেনিন স্বীয় রাজধানী পেট্রোগ্রাড থেকে অধিকতর নিরাপদ স্থান মস্কোতে স্থানান্তর করেন । মস্কো অপেক্ষাকৃত কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ায় বহিঃশত্রুর আক্রমণের আশংকা কম ছিল। তাছাড়া পেট্রোগ্রাড সুবিধাভোগী শ্রেণির নিরাপদ অভয়ারণ্য হওয়ায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। এরপর লেনিন দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কারমূলক কর্মসূচি হাতে নেন। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের পূর্ণতা বিধানই যার মূল লক্ষ্য ছিল। ক. ইংরেজরা কত সাল থেকে বিনাশুল্কে বাণিজ্য শুরু করে? খ. অজ্ঞতা ও অদূরদর্শিতাই ছিল সিরাজ - উদ - দৌলার পতনের অন্যতম কারণ — ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের শাসকের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের কর্মকাণ্ডের মিল খুঁজে পাওয়া যায় ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. তুমি কি মনে কর , উক্ত শাসকের গৃহীত কর্মকাণ্ডই প্রতিপক্ষের মনে সন্দেহ ও অসন্তোষের জন্ম দেয় — মতামত দাও।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমনঃ ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ইংরেজরা ১৭১৭ সাল থেকে বিনাশুল্কে বাণিজ্য শুরু করে। খ. অজ্ঞতা ও অদূরদর্শিতাই ছিল বাংলার নবাব সিরাজ - উদ - দৌলার পতনের অন্যতম কারণ। পলাশী যুদ্ধে মীর মদনের মৃত্যুতে নবাব দিশেহারা হয়ে পড়েন। ষড়যন্ত্রের খবর পাওয়া সত্ত্বেও দুর্বলতার কারণে তিনি কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সাহসী হননি। বরং বাধ্য হয়ে কুচক্রী মীরজাফরের ওপরই বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেন। মোহনলাল ও ফরাসি যোদ্ধা সিনফ্রের বাহিনী যখন নবাবের বিজয়কে নিশ্চিত করার পথে নিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখন বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরের পরামর্শে নবাব যুদ্ধবিরতির আদেশ দেন। এতে তার সমরকৌশলের অপরিপক্কতাই প্ৰকাশ পায়। এসব কারণেই পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ - উদ - দৌলার পরাজয় ঘটে। গ. উদ্দীপকের শাসকের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের বাংলার নবাব মীর কাশিমের কর্মকাণ্ডের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। মীর কাশিম ছিলেন রাজনীতিতে দূরদর্শী এবং সুদক্ষ শাসক। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন , মীরজাফরের পতনের মূলে ছিল নবাব হিসেবে তার আর্থিক দূরবস্থা , সামরিক দুর্বলতা এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অর্থলোলুপতা। মীর কাশিম চেয়েছিলেন সম্মানজনক উপায়ে চুক্তিমত ইংরেজদের প্রাপ্য মিটিয়ে বাংলার স্বার্থরক্ষা করতে। এজন্য তিনি কোম্পানির প্রাপ্য মিটিয়ে আর্থিক ও সামরিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের দিকে নজর দেন। আর্থিকভাবে সক্ষম হওয়ার পর বাংলার স্বার্থ রক্ষা করতে মীর কাশিম আরও কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যেমন — রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে মুঙ্গেরে স্থানান্তর , কোম্পানির ব্যবসার সীমারেখা নির্ধারণ ইত্যাদি। কিন্তু তার এ সব উদ্যোগ ইংরেজদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। ফলে কোম্পানির সাথে তার দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয় । উদ্দীপকে দেখা যায় , রুশ বিপ্লবের নেতা ড . ই . লেনিন কৌশল হিসেবে রাজধানী পেট্রোগ্রাড থেকে মস্কোতে স্থানান্তর করেন। এরপর তিনি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করার জন্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কারমূলক কর্মসূচি হাতে নেন। উদ্দীপকের লেনিনের কর্মকান্ডের সাথে উপরে আলোচিত মীর কাশিমের কর্মকাণ্ডের তুলনা করলে সহজেই প্রতীয়মান হয় যে , নবাব মীর কাশিম ঐ রুশ নেতারই প্রতিচ্ছবি। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় , উদ্দীপকের শাসকের কর্মকাণ্ডের সাথে বাংলার নবাব মীর কাশিমের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে। ঘ. হ্যাঁ , আমি মনে করি নবাব মীর কাশিমের গৃহীত কর্মকাণ্ডই প্রতিপক্ষ অর্থাৎ ইংরেজদের মনে সন্দেহ ও অসন্তোষের জন্ম দেয়। এরই চূড়ান্ত পরিণতি বক্সারের যুদ্ধ এবং নবাবের পতন । মীর কাশিম ছিলেন রাজনীতিতে দূরদর্শী এবং সুদক্ষ শাসক । এ কারণে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন মীরজাফরের পতনের মূলে ছিল আর্থিক দুরবস্থা ও সামরিক দুর্বলতা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অর্থলোলুপতাও এজন্য দায়ী ছিল। মীর কাশিম সম্মানজনক উপায়ে ইংরেজদের প্রাপ্য মিটিয়ে আর্থিক ও সামরিক দুর্বলতা কাটিয়ে বাংলার স্বার্থ রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। তিনি মীরজাফরের আমলের উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের অবৈধ পন্থায় উপার্জিত অর্থ বলপূর্বক আদায় করেন ; বহু অসৎ সরকারি কর্মকর্তা - কর্মচারীর সম্পত্তি অর্থ বাজেয়াপ্ত করেন। ধনাঢ্য শেঠ পরিবারের কাছ থেকে বলপূর্বক প্রচুর ঋণ গ্রহণ করেন এবং শাসনকার্যে ব্যয় সংকোচন করেন। এছাড়া তিনি ' আবওয়াব ' বা ' অতিরিক্ত কর ধার্য করে রাজস্ব বৃদ্ধি করতে সক্ষম হন। এভাবে আর্থিকভাবে সমর্থ হওয়ার পর মীর কাশিম ইংরেজদের ওপর থেকে নির্ভরতা কমাতে আরও কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তার লক্ষ্য ছিল , স্বাধীনভাবে নবাবি পরিচালনা করে বাংলার স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু তার এ উদ্যোগসমূহ ইংরেজদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে। ফলে বাংলার নবাবের সাথে ইংরেজদের দ্বন্দ্ব অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠে। এ দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতেই বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উপরের আলোচনা থেকে এ কথা বলা যায় যে , মীর কাশিমের গৃহীত কর্মকাণ্ডই ইংরেজদের মনে সন্দেহ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

১৯১৮ সালে রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক নেতা ভ.ই. লেনিন স্বীয় রাজধানী পেট্রোগ্রাড থেকে অধিকতর নিরাপদ স্থান মস্কোতে স্থানান্তর করেন । মস্কো অপেক্ষাকৃত কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হওয়ায় বহিঃশত্রুর আক্রমণের আশংকা কম ছিল। তাছাড়া পেট্রোগ্রাড সুবিধাভোগী শ্রেণির নিরাপদ অভয়ারণ্য হওয়ায় তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। এরপর লেনিন দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার জন্য বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্কারমূলক কর্মসূচি হাতে নেন। রাষ্ট্রীয় কোষাগারের পূর্ণতা বিধানই যার মূল লক্ষ্য ছিল। 

ক.

ইংরেজরা কত সাল থেকে বিনাশুল্কে বাণিজ্য শুরু করে?

খ.

অজ্ঞতা ও অদূরদর্শিতাই ছিল সিরাজ-উদ-দৌলার পতনের অন্যতম কারণ— ব্যাখ্যা করো।

গ.

উদ্দীপকের শাসকের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন শাসকের কর্মকাণ্ডের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো। 

ঘ.

তুমি কি মনে কর, উক্ত শাসকের গৃহীত কর্মকাণ্ডই প্রতিপক্ষের মনে সন্দেহ ও অসন্তোষের জন্ম দেয়— মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘ক’ অঞ্চলটি ‘খ’ বহিশক্তির সঙ্গে একটি যুদ্ধে পরাজয়ের পরে ‘খ’ এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়...

‘ক’ অঞ্চলটি ‘খ’ বহিশক্তির সঙ্গে একটি যুদ্ধে পরাজয়ের পরে ‘খ’ এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়...

‘ তোবা ’ রোমান সভ্যতার ইতিহাস পড়ার সময় লক্ষ করল , রোমান সম্রাট নিরো তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যে শক্তিশালী সেনাবা...

ইউরোপীয় জাতিসমূহের মধ্যে দুঃসাহসী ও নৌবিদ্যায় পারদর্শী ছিল-

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে মীর কাসিম ছিলেন

দিনেমাররা কোন দেশের অধিবাসী?

পর্তুগিজরা বাংলাদেশে কী নামে পরিচিত?

পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর ইউরোপীয় সৈন্য সংখ্যা কত ছিল?

পলাশীর যুদ্ধ কত তারিখে সংঘটিত হয়?

সিরাজউদ্দৌলার প্রকৃত নাম কী?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।