Facebook Pixel

১৮৪০ দশকের শেষের দিকে আয়ারল্যান্ডে চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। প্রায় দশ লক্ষ লোক না খেয়ে মারা যায়। অভাবের তাড়নায় প্রায় বিশ লক্ষ লোক দেশ ত্যাগ করে। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেন যে, আয়ারল্যান্ডের প্রধান ফসল গোলআলুতে এক ধরনের মড়ক লাগায় এ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। ক. নিউক্লিক এসিড কী? খ. সিনোসাইট মাইসেলিয়াম বলতে কী বুঝ? গ. উদ্দীপকে নির্দেশিত রোগটির লক্ষণ লিখ। ঘ. উক্ত রোগ থেকে পরিত্রাণের উপায় বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ শৈবাল ও ছত্রাক

উৎস: Board Exam Question SB 2015

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) নিউক্লিক এসিড হলো এমন এক ধরনের জৈব অণু যা অসংখ্য নিউক্লিওটাইডের সমন্বয়ে গঠিত পলিমার এবং কোষে বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে। (খ) ছত্রাকের দেহ সাধারণত হাইফা নামক সূক্ষ্ম সুতার মতো গঠন দিয়ে তৈরি। যখন ছত্রাকের মাইসেলিয়াম বা হাইফার ভেতরে কোনো আড়াআড়ি প্রাচীর (septum) থাকে না এবং অসংখ্য নিউক্লিয়াস মুক্তভাবে অবস্থান করে, তখন সেই অবস্থাকে সিনোসাইটিক মাইসেলিয়াম বলা হয়। (গ) উদ্দীপকে নির্দেশিত রোগটি হলো আলুর বিলম্বিত ধ্বসা বা লেইট ব্লাইট অফ পটেটো, যা Phytophthora infestans নামক ছত্রাকের আক্রমণে ঘটে। রোগটির প্রধান লক্ষণগুলো নিচে দেওয়া হলো: ১. পাতার আগায় ও কিনারায় প্রথমে পানিভেজা দাগের সৃষ্টি হয়। ২. আর্দ্র আবহাওয়ায় ১২-১৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দাগগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বাদামি ক্ষত তৈরি করে। ৩. আক্রান্ত পত্রকগুলো দ্রুত পচে যায় এবং পুরো পাতাটি মারা যেতে পারে। ৪. আর্দ্র অবস্থায় আক্রান্ত গাছ থেকে এক ধরনের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গন্ধ বের হয় এবং গাছগুলো দেখে মনে হয় যেন সিদ্ধ করা হয়েছে। ৫. শুষ্ক আবহাওয়ায় ক্ষতের বিস্তার কমে যায়, দাগগুলো কালো বর্ণ ধারণ করে এবং শুকিয়ে কুঁকড়ে যায়। ৬. আলুর টিউবারে মরিচা বা বাদামি রঙের পচন দেখা দেয়, যা পরে শুষ্ক ও শক্ত হয়ে যায়। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত আলুর বিলম্বিত ধ্বসা রোগ থেকে পরিত্রাণের উপায়গুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: ১. রোগমুক্ত এলাকা থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হবে এবং বীজ আলু রোপণের আগে প্রখর রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। ২. বীজ বপনের আগে ১% বোর্দো মিশ্রণ (Bordeaux mixture) দিয়ে বীজ শোধন করা যেতে পারে। ৩. রোগপ্রবণ এলাকায় গাছ ৬-১০ ইঞ্চি লম্বা হলে এবং এরপর ২৫ দিন অন্তর নিয়মিত Dithan M-45 বা বোর্দো মিশ্রণ স্প্রে করতে হবে। ৪. উঁচু জমিতে আলু চাষ করতে হবে এবং গাছের গোড়ায় মাটি উঁচু করে দিতে হবে যাতে পানি জমে না থাকে। ৫. জমিতে অতিরিক্ত সেচ ও নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ পরিহার করতে হবে, কারণ এগুলো রোগের বিস্তার ত্বরান্বিত করে। ৬. রোগপ্রতিরোধী জাতের আলু চাষ করা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। ৭. ফসল তোলার পর জমির পরিত্যক্ত অংশ বা আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ৮. শস্য পর্যায় অনুসরণ করতে হবে, অর্থাৎ একই জমিতে প্রতি বছর আলু চাষ না করে অন্তত তিন বছর পর পর আলু চাষ করা উচিত। উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে আলুর বিলম্বিত ধ্বসা রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenSylhet Board (2015)

১৮৪০ দশকের শেষের দিকে আয়ারল্যান্ডে চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। প্রায় দশ লক্ষ লোক না খেয়ে মারা যায়। অভাবের তাড়নায় প্রায় বিশ লক্ষ লোক দেশ ত্যাগ করে। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেন যে, আয়ারল্যান্ডের প্রধান ফসল গোলআলুতে এক ধরনের মড়ক লাগায় এ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল।

ক. নিউক্লিক এসিড কী?

খ. সিনোসাইট মাইসেলিয়াম বলতে কী বুঝ?

গ. উদ্দীপকে নির্দেশিত রোগটির লক্ষণ লিখ।

ঘ. উক্ত রোগ থেকে পরিত্রাণের উপায় বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।