Facebook Pixel

১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দে আরাগণের রাজা ফার্দিনান্দ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সুলতান আবু আব্দুল্লাহকে পরাজিত করে গ্রানাডা অধিকার করেন। সুলতানের পারিবারিক কলহ ও ষড়যন্ত্র তার পরাজয়কে ত্বরান্বিত করে। ইউরোপের ইতিহাসে এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এর মধ্য দিয়ে গ্রানাডায় নাসরি বংশের পতন ঘটে এবং ৮০০ বছরের মুসলিম শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে। ক. পলাশী কোন নদীর তীরে অবস্থিত? খ. ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বে ফরাসিরা কেন ব্যর্থ হয়েছিল? গ. উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. তুমি কি মনে কর উক্ত যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী? পাঠ্যবইয়ের আলোকে মতামত দাও।

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ ভারতবর্ষে ইউরোপীয়দের আগমনঃ ইংরেজ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা

উৎস: Board Exam Question Combined 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. পলাশী ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত। খ. ভারতবর্ষে ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বে ফরাসিদের ব্যর্থতার প্রধান কারণ ছিল ফরাসি কোম্পানির ওপর তাদের সরকারের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এবং ইংরেজদের তুলনায় ফরাসিদের দুর্বল নৌ-শক্তি। ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। ফলে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের ফরাসি সরকারের ওপর নির্ভর করতে হতো, যা ছিল বেশ সময়সাপেক্ষ। অন্যদিকে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল একটি বেসরকারি ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, তাই প্রয়োজনের সময় তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারত। এছাড়া ফরাসিদের তুলনায় ইংরেজদের আর্থিক ভিত্তি ও নৌ-বাহিনী ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী। রবার্ট ক্লাইভের মতো সুদক্ষ নেতৃত্বের অভাব এবং ফরাসি সরকারের যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেই মূলত এই দ্বন্দ্বে ফরাসিরা ইংরেজদের কাছে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়। গ. উদ্দীপকের সাথে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের ঘটনা, অর্থাৎ 'পলাশীর যুদ্ধ'-এর গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দে পারিবারিক কলহ ও গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে সুলতান আবু আব্দুল্লাহ আরাগনের রাজা ফার্দিনান্দের কাছে পরাজিত হন। তাঁর এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে গ্রানাডায় দীর্ঘ ৮০০ বছরের মুসলিম শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে। পাঠ্যবইয়ের পলাশীর যুদ্ধের ইতিহাসেও আমরা অবিকল একই চিত্র দেখতে পাই। বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলাও তাঁর নিজ পরিবারের সদস্য এবং দরবারের অমাত্যদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন। নবাবের খালা ঘষেটি বেগম, প্রধান সেনাপতি মীর জাফর, ইয়ার লতিফ, রায় দুর্লভ এবং জগৎ শেঠ প্রমুখ স্বার্থান্বেষী মহল ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের সাথে গোপনে হাত মেলায়। ফলে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে নবাবের বিশাল বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কেবল মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন। উদ্দীপকের সুলতানের মতো নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়েও বাংলায় স্বাধীন মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে এবং ইংরেজদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই বলা যায়, বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে পতনের দিক থেকে উদ্দীপকের ঘটনাটি বাংলার পলাশীর যুদ্ধের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। ঘ. হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত যুদ্ধ অর্থাৎ 'পলাশীর যুদ্ধ'-এর ফলাফল বাংলার তথা সমগ্র ভারতবর্ষের ইতিহাসে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ছিল। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো: পলাশীর যুদ্ধ সামরিক দিক থেকে খুব বড় বা রক্তক্ষয়ী কোনো যুদ্ধ না হলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এর ফলাফল ছিল যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী। প্রথমত, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এই যুদ্ধের ফলে বাংলা তার স্বাধীনতা হারায়। মীর জাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসিয়ে নামেমাত্র নবাব করা হলেও প্রকৃত ক্ষমতা চলে যায় ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের হাতে। একটি বিদেশি বণিক দল রাতারাতি শাসকশ্রেণিতে পরিণত হয়। এই যুদ্ধের পর থেকেই ধীরে ধীরে বাংলা তথা সমগ্র ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ সুগম হয়, যা প্রায় দুইশ বছর (১৯০ বছর) স্থায়ী হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল ছিল বাংলার মানুষের জন্য চরম ধ্বংসাত্মক। যুদ্ধের পর কোম্পানির কর্মচারীরা ক্ষতিপূরণ, উপঢৌকন ও অবাধ বাণিজ্যের নামে বাংলার বিপুল ধনসম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার করে, যা ইতিহাসে 'পলাশী লুণ্ঠন' (Plassey Plunder) নামে পরিচিত। এর ফলে বাংলার সমৃদ্ধ অর্থনীতি সম্পূর্ণ পঙ্গু হয়ে যায়। কৃষক ও তাঁতিরা সর্বস্বান্ত হয়। অন্যদিকে, বাংলার এই লুন্ঠিত সম্পদই পরবর্তীকালে ব্রিটেনের শিল্পবিপ্লবের মূলধনে পরিণত হয়েছিল। উদ্দীপকে গ্রানাডার পতনের মধ্য দিয়ে যেমন ইউরোপের ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন এসেছিল, ঠিক তেমনি পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের ফলে ভারতবর্ষের ইতিহাসে পরাধীনতার এক দীর্ঘ অন্ধকার যুগের সূচনা হয়। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে নিঃসন্দেহে বলা যায়, পলাশীর যুদ্ধের ফলাফল ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও তাৎপর্যপূর্ণ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2026)

১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দে আরাগণের রাজা ফার্দিনান্দ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সুলতান আবু আব্দুল্লাহকে পরাজিত করে গ্রানাডা অধিকার করেন। সুলতানের পারিবারিক কলহ ও ষড়যন্ত্র তার পরাজয়কে ত্বরান্বিত করে। ইউরোপের ইতিহাসে এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এর মধ্য দিয়ে গ্রানাডায় নাসরি বংশের পতন ঘটে এবং ৮০০ বছরের মুসলিম শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

ক.

পলাশী কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

খ.

ইঙ্গ-ফরাসি দ্বন্দ্বে ফরাসিরা কেন ব্যর্থ হয়েছিল?

গ.

উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

তুমি কি মনে কর উক্ত যুদ্ধের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী? পাঠ্যবইয়ের আলোকে মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘ক’ অঞ্চলটি ‘খ’ বহিশক্তির সঙ্গে একটি যুদ্ধে পরাজয়ের পরে ‘খ’ এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়...

‘ক’ অঞ্চলটি ‘খ’ বহিশক্তির সঙ্গে একটি যুদ্ধে পরাজয়ের পরে ‘খ’ এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়...

‘ তোবা ’ রোমান সভ্যতার ইতিহাস পড়ার সময় লক্ষ করল , রোমান সম্রাট নিরো তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যে শক্তিশালী সেনাবা...

ইউরোপীয় জাতিসমূহের মধ্যে দুঃসাহসী ও নৌবিদ্যায় পারদর্শী ছিল-

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে মীর কাসিম ছিলেন

দিনেমাররা কোন দেশের অধিবাসী?

পর্তুগিজরা বাংলাদেশে কী নামে পরিচিত?

পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজ বাহিনীর ইউরোপীয় সৈন্য সংখ্যা কত ছিল?

পলাশীর যুদ্ধ কত তারিখে সংঘটিত হয়?

সিরাজউদ্দৌলার প্রকৃত নাম কী?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।