ক.
যুক্তিবিদ্যায় শব্দ ৩ প্রকার।
খ.
যুক্তিবাক্যের নিয়ম অনুযায়ী গঠিত না হওয়ায় সকল বাক্য যুক্তিবাক্য নয়।
একটি যুক্তিবাক্যে দুটি পদ থাকে। যথা- ১. উদ্দেশ্য পদ ও ২. বিধেয় পদ। উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ সংযোজকের দ্বারা যুক্ত হয়ে যুক্তিবাক্য গঠন করে। তাই যুক্তিবাক্য সবসময় 'উদ্দেশ্য-সংযোজক-বিধেয়' আকারে প্রকাশিত হয়। যেমন- আকাশ হয় নীল। এটি একটি যুক্তিবাক্য। কিন্তু 'আকাশ নীল'- এটি একটি সাধারণ বাক্য। কারণ এতে সংযোজক উহ্য রয়েছে। যেহেতু সকল বাক্য 'উদ্দেশ্য-সংযোজক-বিধেয়' আকারে প্রকাশিত হয় না, তাই সকল বাক্য যুক্তিবাক্য নয়।
গ.
উদ্দীপকের ১ম যুক্তিবাক্যটি একটি সার্বিক সদর্থক A-যুক্তিবাক্য। দুটির পদের মধ্যে সদর্থক অথবা নঞর্থক যেকোনো সম্পর্কের ভিত্তিতে যে বাক্য গঠিত হয় তাই যুক্তিবাক্য। যুক্তিবিদ্যার কয়েক প্রকারের যুক্তিবাক্য লক্ষ করা যায়। এর মধ্যে গুণ ও পরিমাণের যৌথ নীতি অনুসারে যুক্তিবাক্যকে চার ভাগে ভাগ করা হয়। যার একটি হলো সার্বিক সদর্থক বা 'A' যুক্তিবাক্য।
যে যুক্তিবাক্যে বিধেয়টি উদ্দেশ্যের পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে স্বীকার করে তাকে সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য বলে। সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্যকে 'A' দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। এধরনের যুক্তিবাক্যে কোনো শ্রেণির সকল সদস্য সম্পর্কে কোনো কিছু স্বীকার করা হয়। যেমন- ১ম যুক্তিবাক্য -"সকল ছাত্র হয় মেধাবী।” এ বাক্যটি সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য। কারণ এখানে বিধেয় পদ 'মেধাবী' দ্বারা উদ্দেশ্যে পদ 'ছাত্র'-এর সকল সদস্য সম্পর্কেই স্বীকার করা হয়েছে।
অতএব, উদ্দীপকের ১ম যুক্তিবাক্যটি একটি সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য।
ঘ.
উদ্দীপকের সকল যুক্তিবাক্যের 'মেধাবী' পদটির ব্যাপ্যতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ-
১ম যুক্তিবাক্য- 'সকল ছাত্র হয় মেধারী' একটি সার্বিক সদর্থক I যুক্তিবাক্য বা A যুক্তিবাক্য। A যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় পদটি অব্যাপ্য। ১ম যুক্তিবাক্যে 'মেধাবী' পদটিকে সামগ্রিক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ ছাত্র বলতে দুনিয়ার সব ছাত্রকেই ইঙ্গিত করা হচ্ছে। কাজেই বাক্যটিতে উদ্দেশ্য 'ছাত্র' পদটি ব্যাপ্য হয়েছে। কিন্তু বিধেয় 'মেধাবী' পদটিকে সামগ্রিক অর্থে গ্রহণ করা হয়নি। ১ম যুক্তিবাক্যে 'মেধাবী' পদটি অব্যাপ্য।
২য় যুক্তিবাক্য- "কিছু ছাত্র হয় মেধাবী।" একটি বিশেষ সদর্থক I যুক্তিবাক্য। এ যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য 'ছাত্র' পদটিকে আংশিক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে ছাত্র শ্রেণির একটি অংশের ওপর একটি বক্তব্য আরোপ করা হয়েছে। কাজেই উদ্দেশ্য 'ছাত্র' পদটি অব্যাপ্য। আবার বিধেয় 'মেধাবী' পদটিকেও আংশিক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। মেধাবী পদটির আংশিক ব্যক্ত্যর্থ ছাত্র শ্রেণির একটি অংশের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। কেননা মেধাবী ব্যক্তির সবই ছাত্র নয়। কাজেই বিধেয় মেধাবী পদটিও অব্যাপ্য'। সুতরাং ২য় যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই অব্যাপ্য।
৩য় যুক্তিবাক্য একটি বিশেষ নঞর্থক O যুক্তিবাক্য। এ যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদটি. অব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় পদটি ব্যাপ্য। ৩য় যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য 'ছাত্র' পদটিকে আংশিক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে ছাত্র শ্রেণির একটি অংশ সম্পর্কে একটি কথাকে অস্বীকার করা হয়েছে। কাজেই উদ্দেশ্য 'ছাত্র' পদটি অব্যাপ্য। কিন্তু বিধেয় মেধাবী, পদটিকে এ যুক্তিবাক্যে সামগ্রিক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। মেধাবী পদের সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থকেই ছাত্র শ্রেণির একটি অংশ সম্পর্কে অস্বীকার করা হয়েছে। কাজেই উপরের যুক্তিবাক্যে বিধেয় মেধাবী পদটি ব্যাপ্য।