ক.
দুটি ধারণার মধ্যে স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিজ্ঞাপক মানসিক অবস্থাকে অবধারণ বলে।
খ.
সংশ্লেষক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদে নতুন তথ্য থাকে।
যে যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদ দ্বারা উদ্দেশ্যের জাত্যর্থকে বিশ্লেষণ না করে উদ্দেশ্য সম্বন্ধে নতুন কোন বক্তব্য প্রকাশ করে তাকে সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য বলে। এরূপ যুক্তিবাক্যে কেবল উদ্দেশ্যের জাত্যর্থ বহির্ভূত গুণসমূহকেই উল্লেখ করা হয়। যেমন- 'মানুষ হয় মরণশীল।' এ যুক্তিবাক্যে 'মরণশীলতা’- গুণটিকে মানুষের উপর আরোপ করা হয়েছে। এ গুণটি মানুষের জাত্যর্থের অন্তর্ভুক্ত নয়। অনুরূপভাবে, 'তারিক হয় বুদ্ধিমান', 'কুকুরটি হয় কালো' ইত্যাদি বাক্যও সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য। এ প্রকার যুক্তিবাক্যকে সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য বলা হয়। কারণ এতে উদ্দেশ্য সম্বন্ধে নতুন তথ্য সংশ্লেষিত হয়।
গ.
উদ্দীপকের ১ম যুক্তিবাক্য ও ৩য় যুক্তিবাক্য দুটি সার্বিক।
যে যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থ সম্পর্কে কোন কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয় তাকে সার্বিক বা সামান্য যুক্তিবাক্য বলে। এরূপ যুক্তিবাক্যে বিধেয়কে সমগ্র উদ্দেশ্যের উপর আরোপ করা হয়। যেমন- 'সকল গরু হয় চতুষ্পদ'-এ যুক্তিবাক্যে চতুষ্পদ বিধেয়টিকে সমগ্র ‘গরু’- শ্রেণির ক্ষেত্রে স্বীকার করা হয়েছে। আবার, 'কোনো কাক নয় লাল'-এ যুক্তিবাক্যে 'লাল' বিধেয়টিকে সমগ্র কাক শ্রেণির বেলায় অস্বীকার করা হয়েছে। সুতরাং দু'টি যুক্তিবাক্যই সার্বিক।
উদ্দীপকের ১ম যুক্তিবাক্য- ‘সব পাখি হয় ডানাযুক্ত' ও ৩য় যুক্তিবাক্য- ‘কোনো মানুষ নয় ফেরেশতা' এ দুটি সার্বিক যুক্তিবাক্য। কেননা, ১ম যুক্তিবাক্যের বিধেয় 'ডানাযুক্ত' পদটিকে সমগ্র 'পাখি' শ্রেণির ক্ষেত্রে স্বীকার করা হয়েছে। আবার, ৩য় যুক্তিবাক্যের ‘ফেরেশতা' বিধেয়টিকে সমগ্র ‘মানুষ' শ্রেণির বেলায় অস্বীকার করা হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ১ম ও ৩য় দু'টি যুক্তিবাক্যই সার্বিক।
ঘ.
উদ্দীপকের যুক্তিবাক্য তিনটির উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের ব্যাপ্যতার তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
উদ্দীপকের যুক্তিবাক্য তিনটি হলো, ১ম যুক্তিবাক্য: ‘সব পাখি হয় ডানাযুক্ত', ২য় যুক্তিবাক্য: 'কিছু গরু হয়-কালো ও ৩য় যুক্তিবাক্য: ‘কোনো মানুষ নয় ফেরেশতা'। ব্যাপ্যতার নিয়মের আলোকে ১ম যুক্তিবাক্যটি হলো সার্বিক সদর্থক বা A-যুক্তিবাক্য। ২য় যুক্তিবাক্যটি হলো বিশেষ সদর্থক বা I- যুক্তিবাক্য । আর ৩য় যুক্তিবাক্যটি হলো সার্বিক নঞর্থক বা E-যুক্তিবাক্য।
ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুযায়ী, A-যুক্তিবাক্য সার্বিক সদর্থক যুক্তিবাক্য হওয়ার কারণে উদ্দেশ্য পদটি ব্যাপ্য হয় ও বিধেয় পদটি অব্যাপ্য হয়। যেমন- উদ্দীপকের ১ম যুক্তিবাক্য; 'সব পাখি হয় ডানাযুক্ত’ এর উদ্দেশ্য ‘সব পাখি’ পদটি ব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় 'ডানাযুক্ত' পদটি অব্যাপ্য। আবার, I-যুক্তিবাক্যের কোনো পদ ব্যাপ্য নয়। কারণ বিশেষ যুক্তিবাক্য হিসেবে এর উদ্দেশ্য পদ অব্যাপ্য এবং সদর্থক যুক্তিবাক্য হিসেবে এর বিধেয় পদটিও অব্যাপ্য হয়। যেমন— উদ্দীপকের ২য় যুক্তিবাক্য: 'কিছু গরু হয় কালো' এর উদ্দেশ্য 'কিছু গরু' পদটি অব্যাপ্য এবং বিধেয় 'কালো' পদটিও অব্যাপ্য। আর E-যুক্তিবাক্য সার্বিক নঞর্থক হওয়ার কারণে উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য হয়। যেমন- উদ্দীপকের ৩য় যুক্তিবাক্য: 'কোনো মানুষ নয় ফেরেশতা' এর উদ্দেশ্য ‘কোনো মানুষ' পদটি ব্যাপ্য এবং বিধেয় ‘ফেরেশতা' পদটিও ব্যাপ্য।
আলোচনা শেষে বলা যায়, ১ম যুক্তিবাক্যটি সার্বিক সদর্থক বা A-যুক্তিবাক্য হওয়ায় উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় পদটি অব্যাপ্য। ২য় যুক্তিবাক্যটি বিশেষ সদর্থক বা I-যুক্তিবাক্য হওয়ায় উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদ অব্যাপ্য। আর ৩য় যুক্তিবাক্যটি সার্বিক নঞর্থক বা E-যুক্তিবাক্য হওয়ায় উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদ ব্যাপ্য।