ক.
দুটি ধারণার মধ্যে স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতিজ্ঞাপক মানসিক অবস্থাকে অবধারণ বলে।
খ.
সংশ্লেষক যুক্তিবাক্যের বিধেয় পদে নতুন তথ্য থাকে- উক্তিটি যথার্থ।
যে যুক্তিবাক্যে বিধেয় পদ উদ্দেশ্য পদ সম্বন্ধে নতুন কোনো বক্তব্য প্রকাশ করে তাকে সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য বলে। এরূপ যুক্তিবাক্যে কেবল উদ্দেশ্যের জাত্যর্থ বহির্ভূত গুণসমূহকেই উল্লেখ করা হয়। যেমন- 'মানুষ হয় মরণশীল।' এ যুক্তিবাক্যে 'মরণশীলতা' গুণটিকে মানুষের উপর আরোপ করা হয়েছে। এরূপ যুক্তিবাক্যকে সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য বলা হয়, কারণ এতে উদ্দেশ্য সম্বন্ধে নতুন তথ্য সংশ্লেষিত হয়।
গ.
তৃতীয় দৃষ্টান্তের বাক্যটি একটি প্রাকল্পিক যুক্তিবাক্য।
যে সাপেক্ষ যুক্তিবাক্য 'যদি... তাহলে' বা অনুরূপ কোনো শর্ত দ্বারা যুক্ত হয়ে যুক্তিবাক্য গঠন করে তাকে প্রাকল্পিক যুক্তিবাক্য বলে। প্রাকল্পিক যুক্তিবাক্যের প্রথম অংশকে বলা হয় 'পূর্বগ' এবং দ্বিতীয় অংশকে বলা হয় 'অনুগ'। যেমন: 'যদি মেঘ হয় তাহলে বৃষ্টি হবে'। যেহেতু এ বাক্যটি 'যদি.... তাহলে' শর্ত দ্বারা যুক্ত, তাই এর মাধ্যমে প্রাকল্পিক যুক্তিবাক্য নির্দেশিত হয়েছে। এরূপ যুক্তিবাক্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এ যুক্তিবাক্য কোনো একটি শর্তের অধীন থাকে।
উদ্দীপকের ৩য় দৃষ্টান্তে দেখতে পাই, 'যদি পড়ালেখা করো, তাহলে ভালো ফল পাবে।' এই বাক্যটি একটি সাপেক্ষ যুক্তিবাক্য এবং বাক্যটি 'যদি ...তাহলে' শর্ত দ্বারা যুক্ত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের তৃতীয় দৃষ্টান্তের মাধ্যমে সাপেক্ষ যুক্তিবাক্যের প্রাকল্পিক রূপটি প্রকাশিত হয়েছে।
ঘ.
প্রথম ও দ্বিতীয় দৃষ্টান্তের বাক্য দ্বারা যথাক্রমে যুক্তিবাক্য ও বাক্যকে নির্দেশ করে। নিচে যুক্তিবাক্য ও বাক্য দুটির পার্থক্য করা হলো-
উদ্দীপকের ১ম দৃষ্টান্তে বর্ণিত, 'এশিয়া হয় বৃহত্তম মহাদেশ' বক্তব্যটি উদ্দেশ্য-সংযোজক-বিধেয় পদে বিন্যস্ত। তাই এটি যুক্তিবাক্য। কারণ একটি বাক্যকে যুক্তিবাক্য হতে হলে উদ্দেশ্য, বিধেয় ও সংযোজক নির্দিষ্ট নিয়মে সাজানো থাকতে হবে। অর্থাৎ একাধিক শব্দ হলেই যুক্তিবাক্য হয় না, অন্তত তিনটি শব্দকে উদ্দেশ্য, 'বিধেয় ও সংযোজক হিসেবে দরকার হয়। পাশাপাশি যুক্তিবাক্যে গুণ ও পরিমাণ সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করা বাঞ্ছনীয় যা ১ম দৃষ্টান্তে লক্ষণীয়। এ কারণে এটি যুক্তিবাক্য।
অন্যদিকে, ২য় দৃষ্টান্তে উল্লেখিত, 'গরু চতুষ্পদ প্রাণী'। এই বক্তব্যে একাধিক শব্দের সমন্বয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ পেয়েছে। এ উক্তিটিতে কোনো সংযোজকের ব্যবহার নেই। তাই এটি একটি বাক্য। কারণ প্রতিটি বাক্যের দুটি অংশই যথেষ্ট। যথা- উদ্দেশ্য ও বিধেয়। পাশাপাশি বাক্য এক শব্দ বিশিষ্ট হতে পারে, আবার একাধিক শব্দ বিশিষ্টও হতে পারে। উদ্দীপকের ২য় দৃষ্টান্তটি সংযোজক বিহিন একাধিক শব্দে বিন্যস্ত। এ কারণে এটি হলো বাক্য।
আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ১ম দৃষ্টান্তে নির্দেশিত যুক্তিবাক্যের তুলনায় ২য় দৃষ্টান্তে নির্দেশিত বাক্যের পরিধি ব্যাপক হওয়ায় উভয়ের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।