(ক)
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল মানুষকে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থাকে সাম্য বলে।
(খ)
সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জনগণ আইন মেনে চলে। আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কিছু নিয়মের সমষ্টি যা মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। মানুষ মূলত দুটি কারণে আইন মেনে চলে: প্রথমত, আইনের শাসন বজায় থাকলে সমাজে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, যা প্রত্যেকের অধিকার রক্ষা করে। দ্বিতীয়ত, আইন অমান্য করলে রাষ্ট্র কর্তৃক শাস্তির বিধান থাকে, তাই শাস্তির ভয়েও মানুষ আইন মেনে চলে। এভাবে আইন মেনে চলার মাধ্যমে সমাজে বিশৃঙ্খলা রোধ হয় এবং একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়।
(গ)
উদ্দীপকে কিরনের মধ্যে যে ধরনের মূল্যবোধের পরিচয় পাওয়া যায়, তা হলো নৈতিক মূল্যবোধ।
নীতি ও উচিত-অনুচিত বোধ থেকে সৃষ্ট মূল্যবোধই হলো নৈতিক মূল্যবোধ। এটি মানুষের বিবেক ও অন্তরাত্মার তাড়নায় গড়ে ওঠে। নৈতিক মূল্যবোধের প্রকৃতি হলো এটি মানুষকে সত্য কথা বলতে, অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকতে এবং আর্তমানবতার সেবা করতে অনুপ্রাণিত করে। বিশেষ করে পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধা ও সেবা করা একটি মৌলিক নৈতিক দায়িত্ব।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কিরন তার অসুস্থ ও বয়স্ক পিতামাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং তাদের সাথে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে কিরনের মধ্যে গভীর নৈতিক মূল্যবোধ বিদ্যমান। তার এই আচরণ প্রমাণ করে যে তিনি পিতামাতার প্রতি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন এবং তার হৃদয়ে তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। এই ধরনের মূল্যবোধ মানুষকে সংবেদনশীল করে তোলে এবং পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করে।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত হিরনের কার্যক্রম সমাজের জন্য কল্যাণকর নয়। নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণের সেই মানদণ্ড যা তাকে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য করতে শেখায়। এর মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যা মানুষকে পরোপকারী ও দায়িত্ববান করে তোলে। কিন্তু হিরন উচ্চশিক্ষিত এবং বড় পদে চাকরিরত হওয়া সত্ত্বেও তার মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের চরম অভাব দেখা যাচ্ছে।
উদ্দীপকে হিরন তার অসুস্থ ও বয়স্ক পিতামাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিতে চেয়েছেন। পিতামাতা সন্তানের জীবন গড়ার কারিগর, তাই তাঁদের শেষ বয়সে সেবা করা সন্তানের নৈতিক দায়িত্ব। হিরনের এই সিদ্ধান্ত কেবল তার ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং এটি নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ।
পারিবারিক বন্ধন হলো সমাজের মূল ভিত্তি। যখন পরিবারের সদস্যরা একে অপরের প্রতি দায়িত্ব পালন করে না, তখন পারিবারিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। হিরনের মতো আচরণ সমাজে ছড়িয়ে পড়লে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা বাড়বে এবং বয়স্ক মানুষগুলো একাকীত্ব ও অবহেলায় ভুগবেন। এটি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে একটি নেতিবাচক উদাহরণ তৈরি করবে, যেখানে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার চেয়ে স্বার্থপরতা প্রাধান্য পাবে। ফলে সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্প্রীতি নষ্ট হবে এবং মানবিক মূল্যবোধের পতন ঘটবে।
সুতরাং, হিরনের এই অমানবিক ও স্বার্থপর কার্যক্রম সামাজিক সংহতি নষ্ট করে এবং নৈতিক অবক্ষয় ত্বরান্বিত করে, তাই বলা যায় যে তার এই কার্যক্রম সমাজের জন্য মোটেও কল্যাণকর নয়।