(ক) বহিঃকর্ণের কর্ণকূহর বা অডিটরি মিটাস নামক অংশের প্রাচীর থেকে ক্ষরিত হলুদ বাদামী রঙের মোমের মতো পদার্থই হলো সেরুমেন।
(খ) ফ্যাগোসাইট কোষের প্রধান কাজ হলো দেহে অনুপ্রবেশকারী ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা অণুজীব ধ্বংস করা। তবে ফ্যাগোসাইট কোষের পক্ষে সব সময় ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। কিছু কমপ্লিমেন্ট প্রোটিন বা অ্যান্টিবডি ব্যাকটেরিয়ার দেহপ্রাচীরের সাথে যুক্ত হয়ে ফ্যাগোসাইট কোষের জন্য ব্যাকটেরিয়াকে শনাক্ত করা সহজ করে দেয়। এই বিশেষ প্রোটিনগুলোকে অপসোনিন বলা হয়। ব্যাকটেরিয়ার দেহপ্রাচীরে অপসোনিন যুক্ত হয়ে ফ্যাগোসাইট কোষের জন্য একে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াটিই হলো অপসোনাইজেশন।
(গ) উদ্দীপকে শিশুটির দেহে যক্ষ্মার টিকার মাধ্যমে যে উপাদানটি তৈরি হবে তা হলো অ্যান্টিবডি। অ্যান্টিবডি মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করে। নিচে এর কার্যপদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো:
১. সুনির্দিষ্টতা: প্রতিটি অ্যান্টিবডি একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে কাজ করে। অর্থাৎ, যক্ষ্মার টিকার অ্যান্টিবডি শুধুমাত্র যক্ষ্মার জীবাণুর বিরুদ্ধেই কার্যকর।
২. অ্যাগ্লুটিনেশন: অ্যান্টিবডি একাধিক অ্যান্টিজেনযুক্ত জীবাণুর সাথে বিক্রিয়া করে তাদের দলবদ্ধ বা দলা পাকিয়ে ফেলে, ফলে জীবাণুগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
৩. প্রেসিপিটিন: অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে তাকে অধঃক্ষিপ্ত বা তলানি হিসেবে জমা করে, যা পরবর্তীতে ফ্যাগোসাইট কোষ দ্বারা ভক্ষণ করা সহজ হয়।
৪. নিউট্রালাইজেশন: অ্যান্টিবডি জীবাণুর বিষাক্ত বা ক্ষতিকর স্থানগুলোকে আবৃত করে ফেলে, ফলে জীবাণুর বিষক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়।
৫. লাইসিস: কিছু শক্তিশালী অ্যান্টিবডি সরাসরি জীবাণুর কোষঝিল্লি আক্রমণ করে তাকে বিদীর্ণ বা ধ্বংস করে ফেলে।
(ঘ) মানবদেহে জীবাণু প্রতিরোধের জন্য তিনটি প্রতিরক্ষা স্তর রয়েছে। দেহের বাহির থেকে ভেতর পর্যন্ত জীবাণুর প্রবেশ রোধে এই স্তরগুলো ধারাবাহিকভাবে কাজ করে:
১. প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর: এটি ভৌত ও রাসায়নিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে ত্বক, যা জীবাণুর প্রবেশে বাধা দেয়; লোম, যা ধূলিকণা ও জীবাণু আটকে দেয়; অশ্রু ও লালা, যাতে লাইসোজাইম এনজাইম থাকে; সেরুমেন, যা কানে জীবাণু প্রবেশে বাধা দেয় এবং পাকস্থলীর এসিড, যা খাদ্যের সাথে আসা জীবাণু ধ্বংস করে।
২. দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: যদি জীবাণু প্রথম স্তর ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে, তবে দ্বিতীয় স্তর সক্রিয় হয়। এটি কোষীয় ও রাসায়নিক প্রতিরক্ষা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যাগোসাইট কোষ, যা জীবাণু ভক্ষণ করে; সহজাত মারণকোষ; প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন; কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম; ইন্টারফেরন এবং জ্বর, যা জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ব্যাহত করে।
৩. তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর: এটি সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি দেহে প্রবেশকারী নির্দিষ্ট জীবাণুকে শনাক্ত করে ধ্বংস করে এবং ভবিষ্যতে একই জীবাণু আক্রমণ করলে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য স্মৃতি কোষ বা মেমোরি সেল তৈরি করে রাখে। এটি সহজাত ও অর্জিত—এই দুই ধরনের হতে পারে।