(ক)
সরকারের বিভাগ তিনটি। যথা: আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
(খ)
স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান রক্ষাকবচ হলো আইন। আইন স্বাধীনতা ভোগের পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং একে সবার জন্য উন্মুক্ত করে তোলে। আইনহীন সমাজে স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর হয়ে দাঁড়ায়, যেখানে শক্তিশালী ব্যক্তি দুর্বল ব্যক্তির স্বাধীনতা খুণ্ণ করে। জন লকের মতে, "যেখানে আইন নেই, সেখানে স্বাধীনতা নেই।" সুতরাং, আইনই স্বাধীনতাকে সুসংহত ও সুরক্ষিত রাখে এবং নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করে।
(গ)
উদ্দীপকে বর্ণিত হালিমার ঘটনা অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকারকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলা হয়। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলতে কেবল অর্থ উপার্জন নয়, বরং এমন এক অবস্থার কথা বলা হয় যেখানে মানুষ অভাব-অনটন, দারিদ্র্য ও ছাটাইয়ের আতঙ্ক থেকে মুক্ত থেকে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের প্রাথমিক শর্ত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, হালিমা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও মজুরি কম হওয়ায় তার সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে এবং তিনি প্রতিনিয়ত ছাটাইয়ের আতঙ্কে থাকেন। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে হালিমা অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অভাব অনুভব করছেন। তাই হালিমার ঘটনাটি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
(ঘ)
"উক্ত স্বাধীনতা (অর্থনৈতিক স্বাধীনতা) ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন", উক্তিটি যথার্থ।
রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করার অধিকারকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলা হয়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ভোটদান, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা এবং সরকারি চাকরি লাভ প্রভৃতি রাজনৈতিক স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত। রাজনৈতিক স্বাধীনতা ব্যক্তির গণতান্ত্রিক অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে।
তবে রাজনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করার জন্য ব্যক্তির ন্যূনতম অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রয়োজন। একজন মানুষ যখন চরম দারিদ্র্য, ক্ষুধা এবং বেকারত্বের আতঙ্কে থাকে, তখন তার কাছে ভোটদান বা রাজনৈতিক অধিকারের গুরুত্ব গৌণ হয়ে পড়ে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না হলে নাগরিকরা রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে পারে না এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। অধ্যাপক লাস্কির মতে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলে।
রাজনৈতিক স্বাধীনতা তখনই প্রকৃত অর্থে অর্জিত হয় যখন অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের মধ্য দিয়ে নাগরিকরা রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয় এবং তাদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হয়। সুতরাং, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে এবং বাস্তব জীবনে অর্থহীন হয়ে পড়ে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় ধরনের স্বাধীনতাই গুরুত্বপূর্ণ, তবে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলে।