(ক)
মূল্যবোধ হলো মানুষের চিন্তাভাবনা, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সংকল্পের সেই সমষ্টি যা তার সামগ্রিক আচার-ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে।
(খ)
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে নিজের কাজ নিজের মতো করে করাকে বোঝায়, যেখানে অন্য কেউ কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। তবে পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিভাষায় স্বাধীনতা বলতে অপরের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করার অধিকারকে বোঝায়। অর্থাৎ, স্বাধীনতা হলো এমন এক পরিবেশ যেখানে ব্যক্তি কোনো প্রকার বাধাবিপত্তি ছাড়া তার ব্যক্তিত্ব বিকাশের সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত হালিমা অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুসারে আয় ও ধনসম্পদে প্রত্যেক ব্যক্তির সুযোগ-সুবিধা লাভের সমতাকে বোঝায়। অর্থাৎ, যোগ্যতানুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের সমতাই হলো অর্থনৈতিক সাম্য। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে অর্থ উৎপাদন ও বণ্টনের ক্ষেত্রে সকল প্রকার বৈষম্য দূর করে সকলকে সমান সুযোগ প্রদান করলেই অর্থনৈতিক সাম্য নিশ্চিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, হামিম ও হালিমা পাথর খনিতে একই ধরনের কাজ করলেও মালিক পক্ষ হালিমাকে হামিমের চেয়ে কম মজুরি দেয়। এখানে একই কাজের জন্য লিঙ্গভেদে মজুরির পার্থক্য করা হয়েছে, যা অর্থনৈতিক সাম্যের পরিপন্থী।
সুতরাং, বলা যায় যে হালিমা অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
(ঘ)
"উক্ত সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন" - উক্তিটি যথার্থ।
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুসারে আয় ও ধনসম্পদে প্রত্যেক ব্যক্তির সুযোগ-সুবিধা লাভের সমতাকে বোঝায়। অন্যদিকে, রাজনৈতিক স্বাধীনতা হলো রাষ্ট্রের শাসনকার্যে অংশগ্রহণের নিমিত্তে নাগরিকগণ যে স্বাধীনতা ভোগ করে।
অর্থনৈতিক সাম্য ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন হয়ে পড়ে কারণ ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা প্রাথমিক শর্ত। একজন নাগরিক যখন অর্থনৈতিকভাবে সাম্য লাভ করে এবং স্বাবলম্বী হয়, তখনই সে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হতে পারে এবং তার অধিকার সম্পর্কে জানতে পারে। চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকলে দরিদ্র শ্রেণির মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে না, কারণ তারা জীবনধারণের মৌলিক লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকে। ফলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা কেবল ধনীদের হাতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
যখন রাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহী হয়। এর ফলে তারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে।
সুতরাং, রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে অর্থবহ ও কার্যকর করতে হলে অর্থনৈতিক সাম্য নিশ্চিত করা অপরিহার্য।