ক.
'পৌরনীতি' শব্দটি ল্যাটিন শব্দ Civis ও Civitas থেকে এসেছে।
খ.
সুশাসন হচ্ছে এমন এক ধরনের শাসন কৌশল যার মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয় এবং প্রশাসন যন্ত্রের দুর্নীতি রোধ হয়। এ প্রক্রিয়ায় আইনের শাসন বাস্তবায়ন হয়। ফলে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে নাগরিকগণ সুখে-শান্তিতে জীবন ভোগ করতে সক্ষম হয়।
গ.
উক্ত বিষয় অর্থাৎ পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে বিভিন্ন ধরনের সুফল লাভ করা যায়।
এক্ষেত্রে পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে আমরা অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারব। এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে আমরা সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হব, যা আমাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়ক হবে। পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে এবং মনের সংকীর্ণতা দূর হবে। তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা বিকশিত হবে, যা একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয় পাঠের ফলে আমরা স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারব। আমরা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করে গড়ে তোলার বিষয়ে জ্ঞান লাভ করব। এ বিষয় পাঠের ফলে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করব। এ বিষয় পাঠের ফলে আমরা রাষ্ট্রব্যবস্থা বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারব। এ বিষয় পাঠের ফলে আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মতবাদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করব, যা আমাকে একজন বিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে সহায়তা করবে।
অতএব বলা যায়, পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের মাধ্যমে আমরা একজন সুনাগরিক হিসেবে দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারবে।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়াবলির জ্ঞান অর্থাৎ পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান নাগরিক জীবনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে। কেননা তা নাগরিকতার সাথে জড়িত সকল বিষয় নিয়েই আলোচনা করে।
পৌরনীতি হচ্ছে একটি নাগরিকতাবিষয়ক বিজ্ঞান। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে একজন ব্যক্তির সুষ্ঠু, সুন্দর, পূর্ণাঙ্গ জীবন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে রাষ্ট্রের লক্ষ্য। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সদস্যদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা, তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে পৌরনীতি সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করে। নাগরিকতা বলতে কী বোঝায়, এর অর্থ ও প্রকৃতি, প্রকারভেদ, নাগরিকতা অর্জন ও বিলুপ্তি, সুনাগরিকের, গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য এবং এর অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পৌরনীতি ও সুশাসন ধারণা প্রদান করে। রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে নাগরিকগণ এমন কিছু বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত থাকে যেগুলো বাহ্যিকভাবে দৃশ্যমান নয়। পৌরনীতি ও সুশাসন এসব অদৃশ্য বিষয়েরও ব্যাখ্যা প্রদান করে। যেমন-আইনের উৎস, সংজ্ঞা, প্রকৃতি, প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি। এসব বিষয়ের সাথে মানুষের নৈতিক সম্পর্ক কী তাও পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকদের অবগত করে। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে একজন মানুষ কতটা স্বাধীনতা ভোগ করবে এবং সেই স্বাধীনতার প্রকৃতি কেমন হবে, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ কী এবং তার রক্ষাকবচগুলো কী ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে পৌরনীতি যথাযথভাবে ব্যাখ্যা প্রদান করে। পৌরনীতি ও সুশাসনের পাঠ নাগরিকদের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ বৃদ্ধি করে। পৌরনীতি ও সুশাসনের পাঠ নাগরিকদের মধ্যে নিজের ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত স্বার্থ পরিহার করে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নিজেকে উৎসর্গ করার মানসিকতা সৃষ্টি করে।
তাই বলা যায়, পৌরনীতি বিষয়াবলির জ্ঞান নাগরিক জীবনকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে।