(ক)
ডারউইনের মতবাদের মূল বিষয়বস্তুকে অপরিবর্তিত রেখে আধুনিক জিনতত্ত্ব, পরিসংখ্যান, বংশগতিবিদ্যা এবং আধুনিক জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সমন্বয়ে যে বিবর্তনবাদ ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তাকে নিও-ডারউইনিজম (Neo-Darwinism) বা আধুনিক সংশ্লেষণবাদ বলা হয়।
(খ)
প্রাকৃতিক পরিবেশে বসবাসকারী একই প্রজাতির প্রতিটি জীবের মধ্যে শারীরিক গঠন, আকৃতি বা জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে যে সূক্ষ্ম পার্থক্য বা বৈসাদৃশ্য দেখা যায়, তাকে প্রকরণ (Variation) বলে। একই পিতামাতার সন্তান বা অভিন্ন যমজ ছাড়া অন্য সব সদস্যের মধ্যেই এই পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। প্রকরণ জীবের অভিযোজন ও বিবর্তনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
(গ)
মানব আচরণের ওপর হরমোনের প্রভাব অপরিসীম। হরমোন শরীরের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার পাশাপাশি মানসিক ও আচরণগত পরিবর্তনেও ভূমিকা রাখে। নিচে এর প্রভাব ব্যাখ্যা করা হলো:
নারীদের আচরণগত পরিবর্তন:
১. রজঃচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রার তারতম্যের কারণে নারীদের মেজাজ ও আচরণে পরিবর্তন আসে।
২. রজঃচক্রের প্রাক্কালে হরমোনের পরিবর্তনের ফলে খিটখিটে মেজাজ, বিষণ্নতা বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
৩. গর্ভকালীন সময়ে এইচসিজি (HCG), প্রোজেস্টেরন ও রিলাক্সিন হরমোনের প্রভাবে আবেগপ্রবণতা ও মেজাজের দ্রুত পরিবর্তন দেখা যায়।
৪. প্রসবোত্তর সময়ে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে অনেক নারী মানসিক অবসাদ বা প্রসবোত্তর সাইকোসিসে আক্রান্ত হতে পারেন।
পুরুষদের আচরণগত পরিবর্তন:
১. টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে যৌন আকাঙ্ক্ষা ও আক্রমণাত্মক আচরণের প্রবণতা বাড়তে পারে।
২. টেস্টোস্টেরনের আধিক্য শারীরিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
৩. টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে পুরুষদের মধ্যে বিষণ্নতা বা অ্যান্ড্রোপজজনিত আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
(ঘ)
হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণ মানবদেহের ভারসাম্য বজায় রাখে। হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণ (Hypersecretion) মানবদেহে বিভিন্ন জটিল সমস্যার সৃষ্টি করে। এর সপক্ষে যুক্তি নিচে দেওয়া হলো:
১. সোমাটোট্রপিক হরমোন (STH): এই হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণে অতিকায়ত্ব (Gigantism) দেখা দেয়।
২. থাইরক্সিন: থাইরক্সিনের অতিরিক্ত ক্ষরণে হাইপারথাইরয়েডিজম হয়, যার ফলে হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, ওজন হ্রাস, চোখের পাতা অস্বাভাবিক হওয়া এবং ঘনঘন প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দেয়।
৩. ইস্ট্রোজেন: নারীদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেনের মাত্রাতিরিক্ত ক্ষরণে মাথাব্যথা, মেজাজের পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত রক্তস্রাবের মতো জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
৪. টেস্টোস্টেরন: পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরনের অতিরিক্ত ক্ষরণে মূত্রনালীর সমস্যা, উদ্বেগ এবং শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
৫. প্যারাথরমোন: এই হরমোনের আধিক্যে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম রক্তে চলে আসে, ফলে হাড় নরম ও ভঙ্গুর হয়ে যায়।
৬. এপিনেফ্রিন: অতিরিক্ত এপিনেফ্রিন নিঃসরণে উচ্চ রক্তচাপ, বুক ধড়ফড়ানি ও ঝাপসা দৃষ্টির মতো সমস্যা তৈরি হয়।
৭. ইনসুলিন: ইনসুলিনের মাত্রাতিরিক্ত ক্ষরণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ দ্রুত কমে গিয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়া সৃষ্টি হয়, যা অজ্ঞান হওয়ার কারণ হতে পারে।
৮. কর্টিকয়েড: কর্টিকয়েডের অতিরিক্ত ক্ষরণে কুশিং সিনড্রোম (Cushing's syndrome) নামক রোগ হয়।
সুতরাং, হরমোনের স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ক্ষরণ মানবদেহের শারীরবৃত্তীয় ও মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করে।