Facebook Pixel

হোয়াংহো নদীর তীরে চীন সভ্যতার গোড়াপত্তন হয়। হোয়াংহো নদীকে চীনের দুঃখ বলা হলেও এ নদী অধিবাসীদের জীবনে বিশাল ভূমিকা ' রাখে। নদীর উভয় তীরে বাঁধ নির্মাণ করায় গ্রামগুলো বন্যামুক্ত হয় এবং পরিকল্পিত সেচ প্রকল্প চালু করায় কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। চীনারা তাদের রাজাদের মৃতদেহ মমি করে রাখার জন্য ত্রিকোণাকার ঘর নির্মাণ করে সেখানে সংরক্ষণ করে। বর্তমানে যা কঠোর নিরাপত্তার সাথে সংরক্ষিত আছে। ক. প্যাপিরাস কী ? খ. মিসরীয় লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো । গ. উদ্দীপকের হোয়াংহো নদীর সাথে মিসরের নীল নদের কী মিল রয়েছে ? ব্যাখ্যা করো ৷ ঘ. উদ্দীপকের আলোকে মিসরের ফারাও রাজাদের সমাধি সংরক্ষণের বিবরণ দাও ।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ প্রাক-ইসলামি আরব

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. প্যাপিরাস হলো নীল নদের তীরে জন্মানো নলখাগড়া জাতীয় এক ধরনের ঘাস বা উদ্ভিদ , যা দিয়ে প্রাচীন মিসরীয়রা কাগজ তৈরি করত । খ. মিসরীয়দের উদ্ভাবিত লিখন পদ্ধতি ‘ হায়ারোগ্লিফিক ' (Hieroglyphic) নামে পরিচিত । হায়ারোগ্লিফিক অর্থ পবিত্র লিপি। এটি ছিল একটি লিখিত ভাষা । এ ভাষায় নানাপ্রকার দ্রব্য , প্রাকৃতিক বিষয় প্রভৃতির ছবি আঁকা থাকত , যার মাধ্যমে জিনিসগুলোর পরিচয় ও নাম জানা সম্ভব হতো। হায়ারোগ্লিফিক লিপি প্রথমে তৈজসপত্রে এবং কবরে মৃতের পরিচয়ের ফলক আকারে খোদাই করা হতো । পরে মিসরে প্যাপিরাস কাগজ আবিষ্কৃত হলে এতে এ লিপি উৎকীর্ণ করা হয়। এ লিখন পদ্ধতি তিনটি রূপে বিকাশ লাভ করেছে। যথা : চিত্রভিত্তিক , অক্ষরভিত্তিক এবং বর্ণভিত্তিক। প্রায় ৭৫০টি চিত্রলিপির চিহ্ন দিয়ে প্রাচীন মিসরীয় লিপি পদ্ধতি তৈরি হয়েছিল । গ. সভ্যতা বিকাশে অবদানের দিক দিয়ে হোয়াংহো নদীর সাথে মিসরের নীল নদের মিল রয়েছে। প্রাচীন সভ্যতাসমূহের মধ্যে মিসরীয় সভ্যতা অন্যতম। মিসরকে নীল নদের দান হিসেবে অভিহিত করা হয়। কারণ মিসরীয় সভ্যতার বিকাশে নীল নদই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিল। মিসরের ক্ষেত্রে নীল নদের এ অবদানই চীনের হোয়াংহো নদীর ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায় ৷ হোয়াংহোকে চীনের দুঃখ বলা হলেও চীনা সভ্যতার বিকাশে এ নদী বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। নদীর অববাহিকায় কৃষিকাজ ও প্রয়োজনীয় সেচের ব্যবস্থা , ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে ব্যবসা - বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও হোয়াংহো নদী অবদান রেখেছে। মিসরীয় সভ্যতার ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষ করা যায়। এ সভ্যতার বিকাশে নীল নদের ভূমিকা অতুলনীয়। মিসরীয় সভ্যতার সূচনাকারী জনগণ পানির প্রাপ্যতা , কৃষি উৎপাদন , মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ , পশু পালনের জন্য তৃণভূমির সহজলভ্যতা ইত্যাদি বিষয় চিন্তা করে নীল নদের তীরবর্তী অঞ্চলসমূহে বসতি স্থাপন করেছিল। আর এ ক্ষেত্রে তারা বেশ উপকৃতও হয়েছিল। ঘর - গৃহস্থালির কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা - বাণিজ্য এমনকি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নীল নদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মরুভূমিতে পরিণত হওয়া মিসর নীল নদের দানের ফলেই শস্য - শ্যামলা ও সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে , উদ্দীপকে উল্লিখিত চীনা সভ্যতায় হোয়াংহো নদীর ভূমিকা মিসরীয় সভ্যতার বিকাশে নীল নদের অবদানেরই ইঙ্গিত বহন করে । ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত সম্রাটের কফিন যেমন পাথরের দেয়াল দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছে , তেমনি মিসরীয় সভ্যতায় ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ মমি করে সংরক্ষণ করা হতো। মিসরীয়রা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করত। আর তাদের এ ধর্ম বিশ্বাসের ছাপ পড়েছিল স্থাপত্যিক নিদর্শনে। তারা ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা ছিল। পিরামিড তাদের স্থাপত্য শিল্পের অসাধারণ সৃষ্টি। ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই তারা নির্মাণ করেছিল প্রকাণ্ড সৌধের এ পিরামিডগুলো । আর এ ধরনের বিশ্বাস থেকে নির্মিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের কথাই উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকে সম্রাটের কফিন সুরক্ষিত রাখতে পাথরের নির্মিত সশস্ত্র সৈন্যের পাহারা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে মিসরীয়রা তাদের ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য পিরামিড নির্মাণ করেছিল। তারা বিশ্বাস করত ফারাওদের মৃত্যুর পর তাদের আত্মা স্বর্গে চলে যায় এবং সেখানে দেবতা হিসেবে , আবির্ভূত হয়। কিন্তু মৃত ফারাওদের শরীর পচে গেলে এক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। এজন্য তারা মৃতদেহ প্রক্রিয়াজাত করে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করত। এ মৃতদেহগুলোকে যেখানে কবর দেওয়া হতো , সেসব স্থান আগে থেকেই তৈরি করে রাখা হতো। এসব কবরে দেওয়া হতো সিন্দুকভর্তি অমূল্য গহনা , ধাতব তৈজসপত্র , মুদ্রা , দামি কাপড় প্রভৃতি । মৃত ফারাওদের দেহ ও মূল্যবান সামগ্রীর নিরাপত্তার জন্য মিসরীয়রা বড় বড় পাথরখণ্ড কেটে পিরামিড নির্মাণ করত। এগুলো ছিল জ্যামিতিক ত্রিভুজের আকৃতিতে তৈরি অতি উঁচু এক একটি সমাধিসৌধ । পরিশেষে বলা যায় , ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই উদ্দীপকে বর্ণিত সম্রাটের কফিন এবং মিসরীয় ফারাও সম্রাটদের মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হতো । তাদের উভয়ের ক্ষেত্রেই পাথর দ্বারা মৃতদেহ সংরক্ষণের পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয় ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

হোয়াংহো নদীর তীরে চীন সভ্যতার গোড়াপত্তন হয়। হোয়াংহো নদীকে চীনের দুঃখ বলা হলেও এ নদী অধিবাসীদের জীবনে বিশাল ভূমিকা 'রাখে। নদীর উভয় তীরে বাঁধ নির্মাণ করায় গ্রামগুলো বন্যামুক্ত হয় এবং পরিকল্পিত সেচ প্রকল্প চালু করায় কৃষি উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। চীনারা তাদের রাজাদের মৃতদেহ মমি করে রাখার জন্য ত্রিকোণাকার ঘর নির্মাণ করে সেখানে সংরক্ষণ করে। বর্তমানে যা কঠোর নিরাপত্তার সাথে সংরক্ষিত আছে।

ক.

প্যাপিরাস কী?

খ.

মিসরীয় লিখন পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো ।

গ.

উদ্দীপকের হোয়াংহো নদীর সাথে মিসরের নীল নদের কী মিল রয়েছে ? ব্যাখ্যা করো ৷

ঘ.

উদ্দীপকের আলোকে মিসরের ফারাও রাজাদের সমাধি সংরক্ষণের বিবরণ দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

আইয়্যামে জাহেলিয়া শব্দের অর্থ কী?

‘আরব’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?

অথৈদের সমাজে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ গ্রহণের ক্ষমতা নারীর জন্য সংরক্ষিত। পুরুষদের সুনির্দিষ্ট অধিকার থাকলেও ...

অলিম্পিক খেলা প্রচলিত হয়েছিল কেন?

আইয়ামে জাহেলিয়া বলতে বোঝায়- i. অজ্ঞতার যুগ ii. বর্বরতার যুগ iii. অন্ধকার যুগ নিচের কোনটি সঠিক?

'আইয়ামে জাহেলিয়া' বলতে বোঝায়— i. অজ্ঞতার যুগ ii. তমসার যুগ iii. অন্ধকারের যুগ নিচের কোনটি সঠিক?

আইয়্যামে জাহিলিয়া যুগে আরবদের কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল— 1. নারী ii. বংশ গৌৱৰ ii. যুদ্ধ নিচের কোনটি সঠিক?

আইয়ামে জাহিলিয়া যুগের আরবে রাজনৈতিক ব্যবস্থা কোনটি?

আইয়ামে জাহিলিয়ায় কোন প্রথা ব্যাপক ছিল?

আইয়‍্যামে জাহেলিয়া যুগে আরবদের কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল- i. নারী ii. বংশ গৌরব iii. যুদ্ধ নিচের কোনটি সঠিক?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।