ক.
যখন অনেকগুলো কারণ একত্রে মিলিত হয়ে একটি কার্য সংঘটিত করে এবং কারণগুলো যখন পৃথক পৃথকভাবে প্রকাশিত না হয়ে একসাথে প্রকাশিত হয় তখন সেই মিশ্র কার্যটিকে কার্য সংমিশ্রণ বলে।
খ.
ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে বহুকারণবাদ একটি ভ্রান্ত মতবাদ।
বহুকারণবাদ অনুসারে একই কার্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণের দ্বারা সংঘটিত হতে পারে। বস্তুত কার্যের প্রকৃতি সম্বন্দ্বে ভ্রান্ত ধারণার উপরই এ মতবাদটি প্রতিষ্ঠিত। এ মতবাদে কারণ ও কার্যকে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়। এতে আমরা কারণকে বিবেচনা করি বিশেষ অর্থে এবং কার্যকে বিবেচনা করি সাধারণ অর্থে। কিন্তু আমরা যদি কারণ ও কার্যকে একই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করি তাহলে আর কারণের বহুত্বের অবকাশ থাকে না। এরূপ ত্রুটির কারণে বহুকারণবাদ মতবাদটি একটি ভ্রান্ত মতবাদ।
গ.
হিমেলের বক্তব্যে আরোহের আকারগত ভিত্তির অংশ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির কথা এসেছে।
আরোহ অনুমানের দুটি ভিত্তির একটি হলো আকারগত ভিত্তি। আরোহের আকারগত ভিত্তির দুটি দিক রয়েছে; যার মধ্যে একটি হলো প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি আরোহের একটি মৌলিক নীতি। তাই এক কথায় এই নীতির সংজ্ঞা দেওয়া যায় না। প্রকৃতির. সর্বত্র একই অবস্থা বিরাজমান। পরিস্থিতির পরিবর্তন না ঘটলে প্রকৃতি সবসময় একইরূপ আচরণ করে। প্রকৃতিতে একই অবস্থায় একই ফল পাওয়া যায় এবং প্রকৃতি সর্বত্রই শৃঙ্খলা দ্বারা পরিচালিত। তাই প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতাকে প্রকৃতির ঐক্য নামেও অভিহিত করা হয়।
উদ্দীপকের হিমেল তার বক্তব্যে বলে, 'প্রকৃতির সবকিছুই নিয়মের অনুসরণ করে চলছে।' অর্থাৎ এখানে প্রকৃতির সুশৃঙ্খতাকে ব্যক্ত করা হয়েছে; যা প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, হিমেলের বক্তব্যে আরোহের আকারগত ভিত্তির অংশ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি নির্দেশিত হয়েছে।
ঘ.
আসিফের বক্তব্যে আরোহের আকারগত ভিত্তির অংশ কার্যকারণ নীতির কথা এসেছে। নিচে কার্যকারণ নীতির পরিমাণ ও গুণগত দিক থেকে ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্দীপকে আসিফের বক্তব্যে বলেছে, 'পড়ালেখা না করে ভালো ফলাফল করা যায় না এটা যেমন সত্য তেমনি এটাও সত্য খাবার না খেলে খিদে মেটে না।' যা আরোহের আকারগত ভিত্তির অংশ কার্যকারণ নীতিকে নির্দেশ করে। পরিমাণগত দিক থেকে কারণ ও কার্য পরস্পর সমান। কার্যকারণ নিয়ম অনুযায়ী কারণ ও কার্যের মধ্যে অপরিহার্য সম্পর্ক বিদ্যমান। আর কারণই কার্যকে সংঘটিত করে। কারণের মধ্যে যে বস্তু ও শক্তি নিহিত থাকে তার পরিমাণ কার্যের বস্তু ও শক্তির পরিমাণের সমান। পরিমাণের এ সমতার বিষয়টিকে দুটি নিয়মের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা হয়। যথা- ১. বস্তুর অবিনশ্বরতা নিয়ম ও ২. শক্তির অবিনশ্বরতা নিয়ম। গুণগত দিক থেকে কারণ কোনো বাস্তব ঘটনার কার্যের অব্যবহিত পূর্ববর্তী ঘটনা প্রকাশ করে। তাই কারণ হলো ঘটনার পূর্ববর্তী অবস্থা, আর কার্য হলো তার ফল। এজন্য গুণগত দিক থেকে কারণ ও কার্য পরস্পর সাপেক্ষ পদ। যেখানে কোনো ঘটনাকে কারণ বলার অর্থ হলো তাকে একটি কার্যের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা। সময়ের দিক থেকে বিচার করলে কারণ কার্যের কালিক পূর্ববর্তী ঘটনা। এছাড়াও কারণ হলো কার্যের অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা। আর এই অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা হবে শর্তনিরপেক্ষ। অর্থাৎ, একটি ঘটনার কারণ হওয়ার জন্য তাকে অন্য কোনো শর্তের অধীন হলে চলবে না। এজন্য কারণ হবে শর্তনিরপেক্ষ ও স্বাধীন।
আলোচনা শেষে বলা যায়, জগতের প্রতিটি ঘটনারই কোনো না কোনো কারণ আছে। আর কারণের পরিমাণ ও গুণগত দিক বলতে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলোকেই বোঝায়।