ক.
লেখা আবিষ্কার হয় নব্যপ্রস্তর যুগে এবং উন্নতি লাভ করে ব্রোঞ্জ যুগে।
খ.
নাগরিক জীবনের মানসিকতা ও চিন্তাচেতনা অনেকটা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। এখানে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধন কিছুটা শিথিল প্রকৃতির। এখানে মানুষ নিজেকে নিয়ে অনেক. বেশি ব্যস্ত থাকে। এখানে মানুষের নীতিজ্ঞান অনেকটা নৈর্ব্যক্তিক হয়ে থাকে। তাই নগরবাসীর চিন্তা-চেতনা ও ধ্যানধারণা অনেকটা যুক্তিবাদী। বাস্তব জীবনের বিভিন্ন উপাদানের সংমিশ্রণে নগরবাসীর জীবন প্রণালি গড়ে ওঠে। এসকল কারণে শহরের মানুষেরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকে।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত উদাহরণ হলো বই। বই দিয়ে সংস্কৃতির দুটি।
প্রকরণ তথা বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতি উভয়কেই বোঝানো যাবে বলে আমি মনে করি। 1 বস্তুগত সংস্কৃতি বলতে বাস্তব বস্তু দ্রব্যনির্ভর সংস্কৃতিকে বোঝায়। যে সংস্কৃতি মানুষের নির্মিত বস্তু-দ্রব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, তাকে বস্তুগত বা পার্থিব বা Material সংস্কৃতি বলে। আর বই মানুষের নির্মিত বস্তু হওয়ায় এটা বস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, অবস্তুগত সংস্কৃতি বলতে মানুষের ধ্যানধারণা, চিন্তাভাবনা, চলনবলন, রীতিনীতি, মূল্যবোধ, আবেগ, উচ্ছ্বাস ইত্যাদিকে বোঝায়, উৎপাদন কৌশল যেমন বস্তুগত সংস্কৃতির একটি বিশেষ দিক, তেমনি কাব্য, সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য, শিল্পকলা ইত্যাদি বিষয়গুলো অবস্তুগত সংস্কৃতির একেকটি বিশেষ দিক। আর বইতে সাধারণত মানবসৃষ্ট কাব্য, সাহিত্যকর্ম স্থান পায়। তাই বইয়ের মধ্যে যে কাব্য বা সাহিত্যকর্ম থাকে সেটা অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, বই এর উদাহরণ দিয়ে সংস্কৃতির দুটি প্রকরণের উভয়কে বোঝানো যায়।
ঘ.
উদ্দীপকে হামিদুল স্যারের বক্তব্যটি হলো "সভ্যতা মূলত সংস্কৃতিরই একটি বিশেষ রূপ।”
তার এ বক্তব্যের দ্বারা সংস্কৃতি থেকে যে সভ্যতার সৃষ্টি হয়েছে তথা সভ্যতা ও সংস্কৃতির মধ্যকার সম্পর্ককে বোঝানো হয়েছে। তার এ বক্তব্যটি খুবই যথার্থ। সংস্কৃতি হলো মানুষের আচরণের সমষ্টি। সমাজের সদস্য হিসেবে মানুষ সমাজ থেকে যা কিছু অর্জন করে তাই সংস্কৃতি। মানুষের জীবনের সব দিকগুলোই সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। সংস্কৃতিকে বস্তুগত ও অবস্তুগত এ দুই ভাগে ভাগ করা যায়। বস্তুগত সংস্কৃতি বলতে বাস্তব বস্তু-দ্রব্যনির্ভর সংস্কৃতিকে বোঝায়। যেমন- ঘরবাড়ি, পোশাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদি। আর মানুষের ধ্যানধারণা, চিন্তাভাবনা, রীতিনীতি ইত্যাদি হলো অবস্তুগত সংস্কৃতি। অবস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ হলো- জ্ঞান, বিশ্বাস, নাটক, সাহিত্য, শিল্পকলা ইত্যাদি। বস্তুগত সংস্কৃতি থেকেই সভ্যতার উৎপত্তি। মূলত সভ্যতা হলো মানুষের বস্তুগত সৃষ্টি। যেমন- ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, ঘড়ি, টেলিভিশন ইত্যাদি। এ প্রসঙ্গে ম্যাকাইভার বলেন, "আমরা 'যা' সেটাই আমাদের সংস্কৃতি, আর আমাদের 'যা আছে' বা 'আমরা যা ব্যবহার করি সেটাই হলো সভ্যতা।" সংস্কৃতি ও সভ্যতার মধ্যে বিভিন্ন পার্থক্য থাকলেও এদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। চারাগাছের বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য যেমন উপযুক্ত মাটি ও জলবায়ুর প্রয়োজন, তেমনি সংস্কৃতির বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ দরকার। সভ্যতার বিভিন্ন উপাদান এ পরিবেশ সৃষ্টি করে। সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃতির যেমন উন্নতি সাধিত হয়, ঠিক তেমনি সভ্যতার অবদান উপেক্ষা করে সংস্কৃতি নিজেকে বিকশিত করতে পারে না।
কাজেই সভ্যতাকে সংস্কৃতির একটি অংশ হিসেবে গণ্য করাই যুক্তিসঙ্গত। সুতরাং হামিদুল স্যারের বক্তব্যটি সঠিক।