ক.
'Logos' শব্দের অর্থ চিন্তা বা ভাষা।
খ.
প্রখ্যাত ব্রিটিশ যুক্তিবিদ যোসেফ (Horace William Brindley Joseph) যুক্তিবিদ্যাকে চিন্তাবিষয়ক বিজ্ঞান বলে উল্লেখ করেন।
যুক্তিবিদ্যার জনক গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলও (Aristotle) যুক্তিবিদ্যাকে চিন্তার বিজ্ঞান অর্থেই বর্ণনা করেছিলেন। উৎপত্তিগত অর্থে যুক্তিবিদ্যা হলো, ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পর্কিত বিজ্ঞান। চিন্তা শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়। মনোবিজ্ঞানে চিন্তা বলতে কল্পনা, স্মৃতি, প্রত্যক্ষণ, অনুমান প্রভৃতি বোঝায়। আবার চিন্তা বলতে যৌক্তিক চিন্তা, শব্দ বা ভাষায় প্রকাশিত জ্ঞানকে বোঝায়। তবে সব ধরনের চিন্তা যুক্তিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় নয়। যুক্তিবিদ্যা চিন্তা নিয়ে আলোচনা করলেও 'চিন্তার বিজ্ঞান' হিসেবে যুক্তিবিদ্যার প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো বিচারমূলক বা অনুধ্যানমূলক চিন্তাপদ্ধতি। তাই আধুনিক ব্রিটিশ যুক্তিবিদ স্টেবিং বলেছেন, "Logic is the science of reflective thinking"।
গ.
উদ্দীপকে যুক্তিবিদ্যার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
যুক্তিবিদ্যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা। এটি সত্যের আদর্শকে সামনে রেখে সঠিক যুক্তি পদ্ধতির নিয়ম কানুন আবিষ্কার করে ও তাদের মূল্যায়ন করে। সত্যতা দুই প্রকার; রূপগত সত্যতা ও বস্তুগত সত্যতা। রূপগত সত্যতা বলতে আমরা বুঝি নিয়ম কানুনের দিক দিয়ে সত্যতা আর বস্তুগত সত্যতা বলতে বাস্তবের সাথে মিল বা সঙ্গতিকে বোঝায়। সত্য প্রতিষ্ঠার এই আদর্শকে সামনে রেখে কীভাবে অনুমান করলে ভ্রম পরিহার করে সত্যকে অর্জন করা যায় তা নিয়েই যুক্তিবিদ্যা আলোচনা করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে একটি বিষয় আছে যার লক্ষ্য সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা এবং সেটি একটি আদর্শমূলক বিজ্ঞান। সুতরাং যথার্থই বলা যায় বিষয়টি হলো যুক্তিবিদ্যা।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি হলো যুক্তিবিদ্যা যা বাস্তব জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
যুক্তিবিদ্যা একটি নিয়ম পদ্ধতির বিজ্ঞান যা আমাদের সঠিক নিয়ম পদ্ধতির জ্ঞান দান করে। এ সব নিয়ম কানুনের অনুসরণ করলে বাস্তব জীবনে যুক্তির ভুল ত্রুটি খুঁজে বের করে তা পরিহার করা সম্ভব হয়। ফলে আমরা দক্ষতা অর্জন করি। যুক্তিবিদ্যা পাঠের ফলে আমাদের মন থেকে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর হয়ে যায়। যুক্তিবিদ্যা মনকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উন্নততর করে তোলে। যুক্তিবিদ্যার চর্চা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিকে শক্তিশালী করে এবং নির্ভুল চিন্তাধারার পক্ষে উপযোগী করে তোলে। যুক্তিবিদ্যা চর্চার ফলে আমাদের বস্তুনিরপেক্ষ চিন্তার ক্ষমতা বেড়ে যায়। যুক্তিবিদ্যা পাঠ করে আমরা এমন কিছু কলাকৌশল আয়ত্ব করি যা জ্ঞানের প্রতিটি বিভাগেই প্রয়োজন।
উদ্দীপকে সত্যকে প্রতিষ্ঠার জন্য যে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞানের কথা বলা হয়েছে তার একটি প্রাচীন ও মহান ঐতিহ্য রয়েছে। যুক্তিবিদ কার্ভেথ রিড বলেন স্পষ্টতই যুক্তিবিদ্যা মানবিক শিক্ষার জন্য অপরিহার্য।
পরিশেষে বলা যায়, একটি সুন্দর ও মানবিক জীবন গঠনে যুক্তিবিদ্যার চর্চা ও অনুশীলন অতীব প্রয়োজন। কিছু কিছু সমালোচক এর প্রয়োগের দিকটিকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করলেও বাস্তব জীবনে এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।