Facebook Pixel

সিয়াম পড়াশুনার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিতে পারদর্শী। তার কলেজে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নব নির্মিত শহিদ মিনারের পাদদেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সিয়াম দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ, সততা, ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে বক্তব্য প্রদান করে। এ সময় তার পরনে ছিলো বৈশাখী রঙের পাঞ্জাবি। আরিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সে দেখছে বর্তমান সময়ে কৃষিকাজের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি বের হয়েছে। কিন্তু গ্রামের কৃষকরা সঠিক ব্যবহার না জানার কারণে শতভাগ সুবিধা নিতে পারছে না। ক. তথ্য প্রযুক্তি কী? খ. কৃষিক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ব্যবধানের প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকের আলোকে সংস্কৃতির ধরন ব্যাখ্যা কর। ঘ. আরিশের দৃষ্টিতে বর্তমান বাংলাদেশের কৃষকরা শতভাগ সুবিধা নিতে পারছে না। তা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০২ঃ বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি

উৎস: Board Exam Question Combined 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. তথ্য প্রযুক্তি text(Information Technology) হলো কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক্স, টেলিযোগাযোগ এবং নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিজিটাল উপাত্ত বা তথ্য তৈরি, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, নিরাপত্তা প্রদান এবং বিনিময়ের সামগ্রিক প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া। খ. কৃষিক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ব্যবধানের প্রকৃতি বলতে বোঝায় কৃষির বস্তুগত দিক (যেমন—আধুনিক যন্ত্রপাতি, ট্রাক্টর, হার্ভেস্টার, রাসায়নিক সার, উন্নত বীজ ইত্যাদি) অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত বা উন্নত হলেও, কৃষকদের অবস্তুগত দিক বা মানসিকতা, জ্ঞান, প্রথা ও ব্যবহার (যেমন—প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের অজ্ঞতা, কুসংস্কার, সনাতন চিন্তা ইত্যাদি) সেই গতির সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন হতে না পারা। এর ফলে বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতির মধ্যে এক ধরনের ব্যবধান বা ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। গ. সংস্কৃতি মূলত দুই প্রকার: বস্তুগত সংস্কৃতি এবং অবস্তুগত সংস্কৃতি। উদ্দীপকের আলোকে সংস্কৃতির এই ধরনগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. বস্তুগত সংস্কৃতি text(Material Culture): যেসকল সংস্কৃতি দৃশ্যমান, ছোঁয়া যায় এবং পরিমাপ করা যায়, তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে। উদ্দীপকে আরিশের বক্তব্যে উল্লেখিত "আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি" হলো বস্তুগত সংস্কৃতির উৎকৃষ্ট উদাহরণ, যা প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দ্রুত পরিবর্তিত ও উন্নত হচ্ছে। ২. অবস্তুগত সংস্কৃতি text(Non-material Culture): যে সংস্কৃতি দেখা বা ছোঁয়া যায় না, কেবল অনুভব করা যায় এবং যা মানুষের মনন, চিন্তা, জ্ঞান, মূল্যবোধ ও আচরণকে নির্দেশ করে, তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে। উদ্দীপকে সিয়ামের দেশপ্রেম, নৈতিকতা, সততা, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং কৃষকদের আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সঠিক জ্ঞান বা মানসিকতা হলো অবস্তুগত সংস্কৃতির রূপ। ঘ. আরিশের দৃষ্টিতে বর্তমান বাংলাদেশের কৃষকরা আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও সঠিক জ্ঞান ও দক্ষতার অভাবে তার শতভাগ সুবিধা নিতে পারছে না—আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী উইলিয়াম এফ. অগবার্নের text(William F. Ogburn) 'সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্ব' text(Cultural Lag Theory)-এর সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো: ১. তত্ত্বের মূল কথা: সমাজবিজ্ঞানী অগবার্ন তাঁর বিখ্যাত 'Social Change' গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে, সংস্কৃতির বস্তুগত উপাদানগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পরিবর্তিত হয়। কিন্তু অবস্তুগত উপাদানগুলো (যেমন—জ্ঞান, চিন্তা, প্রথা, মানসিকতা) সেই গতির সাথে সমান তালে এগোতে পারে না। বস্তুগত ও অবস্তুগত সংস্কৃতির এই অগ্রগতির অসমতার ফলে যে ফাঁক বা ব্যবধানের সৃষ্টি হয়, তাকেই সাংস্কৃতিক ব্যবধান বা সাংস্কৃতিক পশ্চাৎপদতা বলা হয়। ২. উদ্দীপকের সাথে সংযোগ: উদ্দীপকে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি (বস্তুগত সংস্কৃতি) দ্রুত প্রবেশ করেছে। কিন্তু গ্রামীণ কৃষকরা সেই যন্ত্রগুলো সঠিকভাবে পরিচালনার প্রয়োজনীয় জ্ঞান, শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা (অবস্তুগত সংস্কৃতি) অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে। বস্তুগত সংস্কৃতির (যন্ত্রপাতি) অগ্রগতির তুলনায় কৃষকদের জ্ঞান ও দক্ষতার (অবস্তুগত সংস্কৃতি) এই পিছিয়ে থাকাই হলো সাংস্কৃতিক ব্যবধান। ৩. প্রভাব: এই সাংস্কৃতিক ব্যবধানের কারণেই কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তির শতভাগ সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং কৃষির কাঙ্ক্ষিত আধুনিকায়ন ব্যাহত হচ্ছে। পরিশেষে বলা যায়, আরিশের পর্যবেক্ষণটি মূলত অগবার্নের সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্বেরই বাস্তব রূপ, যা আমাদের কৃষিক্ষেত্রে বস্তুগত ও অবস্তুগত উন্নয়নের মধ্যকার ভারসাম্যহীনতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2026)

সিয়াম পড়াশুনার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তিতে পারদর্শী। তার কলেজে নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নব নির্মিত শহিদ মিনারের পাদদেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সিয়াম দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ, সততা, ধর্মীয় সহনশীলতা নিয়ে বক্তব্য প্রদান করে। এ সময় তার পরনে ছিলো বৈশাখী রঙের পাঞ্জাবি। আরিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সে দেখছে বর্তমান সময়ে কৃষিকাজের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি বের হয়েছে। কিন্তু গ্রামের কৃষকরা সঠিক ব্যবহার না জানার কারণে শতভাগ সুবিধা নিতে পারছে না।

ক.

তথ্য প্রযুক্তি কী?

খ.

কৃষিক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক ব্যবধানের প্রকৃতি ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকের আলোকে সংস্কৃতির ধরন ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

আরিশের দৃষ্টিতে বর্তমান বাংলাদেশের কৃষকরা শতভাগ সুবিধা নিতে পারছে না। তা তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।