(ক)
সমাজের বিবেকের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কতগুলো ধ্যান-ধারণা ও আদর্শের সমষ্টিকে নৈতিকতা বলে।
(খ)
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায় যে, সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন এবং অর্থনৈতিক সুযোগের ক্ষেত্রে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা, যাতে কেউ চরম দারিদ্র্য বা চরম বিলাসিতার শিকার না হয় এবং সবাই ন্যায্য মজুরি ও জীবনধারণের উপকরণ লাভ করতে পারে।
(গ)
উদ্দীপকে স্বাধীনতা বিষয়টির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।
অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি না করে নিজের ইচ্ছানুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজ করাই হলো স্বাধীনতা। গণতান্ত্রিক সমাজে মানুষ জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে। উদ্দীপকেও বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। স্বাধীনতা বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে, যেমন: ব্যক্তি স্বাধীনতা, সামাজিক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং জাতীয় স্বাধীনতা।
যে স্বাধীনতা ভোগ করলে অন্যের কোনো ক্ষতি হয় না, তাই ব্যক্তি স্বাধীনতা। যেমন: ধর্ম পালনের স্বাধীনতা। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব বিষয়। সমাজে ব্যক্তির নাগরিক জীবন বিকাশের জন্য জীবন রক্ষা, সম্পত্তি ভোগ, বৈধ পেশা গ্রহণ এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার স্বাধীনতাই সামাজিক স্বাধীনতা। রাষ্ট্রীয় শাসনকাজে অংশগ্রহণের সুযোগকেই রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে। ভোটদান, নির্বাচিত হওয়া এবং সরকারি চাকরি লাভ রাজনৈতিক স্বাধীনতা বলে স্বীকৃত। যোগ্যতা অনুযায়ী পেশা গ্রহণ এবং ন্যায্য মজুরি লাভ করাকে বলা হয় অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। আর একটি স্বাধীন রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব হতে মুক্ত থাকাকে বলা হয় জাতীয় স্বাধীনতা। জাতীয় স্বাধীনতা সব ধরনের স্বাধীনতার মূলভিত্তি।
(ঘ)
রাষ্ট্রীয় জীবনে উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টির অর্থাৎ স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব অপরিসীম, কথাটি যথার্থ।
ব্যক্তি, সমাজ তথা রাষ্ট্রীয় জীবনে স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ব্যক্তির সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য চাই স্বাধীনতা। স্বাধীনতা ছাড়া ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাতে পারে না। তাই রাষ্ট্রের নাগরিকদের মানসিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিকাশের জন্য স্বাধীনতা অপরিহার্য। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মূলভিত্তি হচ্ছে স্বাধীনতা। স্বাধীনতা ছাড়া গণতান্ত্রিক শাসন ও সমাজব্যবস্থার চিন্তা কল্পনামাত্র। স্বাধীনতা ব্যক্তিকে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। এভাবে স্বাধীনতা গণতন্ত্রকে অর্থবহ করে তোলে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করে ব্যক্তি যেমন কর্মের ও ন্যায্য মজুরি লাভ করে নিজের অভাব মেটানোর সুযোগ পায়, তেমনি রাষ্ট্রের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে। স্বাধীনতা সকলের জন্য অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে বাধা দূর করে। বস্তুত স্বাধীনতা ছাড়া সমাজ অচল ও স্থবির হয়ে পড়বে এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। আর এ জন্য রাষ্ট্র দার্শনিকরা স্বাধীনতার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। ফরাসি দার্শনিক রুশো স্বাধীনতার গুরুত্ব বিষয়ে বলেন, স্বাধীনতা প্রয়োজন এ জন্য যে, এটি ব্যতীত ব্যক্তিকেই অস্বীকার করা হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, স্বাধীনতা ব্যতীত নাগরিকের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন অচল। তাই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা বা গুরুত্ব অপরিসীম।