(ক)
সমাজ ও রাষ্ট্র স্বীকৃত যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে এবং সার্বজনীন কল্যাণ সাধিত হয়, তাকে অধিকার বলে।
(খ)
যেসব অধিকার একজন নাগরিককে রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়, সেগুলোকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
রাজনৈতিক অধিকারের মাধ্যমে নাগরিকরা রাষ্ট্রের শাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। যেমন: ভোট প্রদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, রাজনৈতিক সংগঠন গড়ার অধিকার এবং সরকারি চাকরি লাভের অধিকার। বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকদের এই রাজনৈতিক অধিকারগুলো সংরক্ষিত করা হয়েছে।
(গ)
উদ্দীপকে বর্ণিত ‘স্বর্গরাজ্য' রাষ্ট্রটিতে অতীতে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত ছিল।
সামাজিক সাম্য বলতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল মানুষের সামাজিক অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের সমান সুযোগ থাকাকে বোঝায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, শ্বেতাঙ্গরা সমাজের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও কৃষ্ণাঙ্গরা শিক্ষা, চলাফেরা ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পায়নি। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, কৃষ্ণাঙ্গরা বর্ণের কারণে সামাজিকভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছিল, যা সামাজিক সাম্যের ধারণার পরিপন্থী। তাই বলা যায়, অতীতে স্বর্গরাজ্য রাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী সামাজিক সাম্য থেকে বঞ্চিত ছিল।
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুসারে আয় ও ধন-সম্পদ অর্জনের সমান সুযোগ থাকাকে বোঝায়। উদ্দীপকের স্বর্গরাজ্য রাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর অতীতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গদের মতো সমান সুযোগ ছিল না। অর্থাৎ দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী আয়ের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল, যা অর্থনৈতিক সাম্যের বিপরীত। তাই বলা যায়, অতীতে স্বর্গরাজ্য রাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক সাম্য থেকেও বঞ্চিত ছিল।
(ঘ)
"সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সাম্যের ভূমিকা অপরিসীম"- উক্তিটি যথার্থ।
পৌরনীতি ও সুশাসনে সাম্য বলতে সুযোগ-সুবিধার সমতাকে বোঝায়। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি সদস্য যখন অনুভব করতে পারে যে তার অধিকার অন্য কারও চেয়ে কম নয়, তখন সেখানে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। সাম্য সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনগত সকল ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করে, যা সুশাসনের মূল ভিত্তি। সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে বৈষম্যহীন পরিবেশ এবং সবার জন্য যথাযথ সুযোগ-সুবিধার দ্বার উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন।
সাম্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকেও সুপ্রতিষ্ঠিত করে। কারণ সাম্যের ফলে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেকেই রাষ্ট্রের কাজে সমভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। ভোটাধিকার, নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার, সরকারি কাজের সমালোচনার অধিকার এবং সভা-সমিতির অধিকার সকল নাগরিক সমভাবে ভোগ করলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়।
উদ্দীপকের স্বর্গরাজ্য রাষ্ট্রে একসময় বর্ণবাদের কারণে কৃষ্ণাঙ্গরা শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চলাফেরার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার ছিল, যার ফলে সেখানে অশান্তি বিরাজ করছিল। পরবর্তীতে অনেক সংগ্রাম-আন্দোলনের মাধ্যমে বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা হলে সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। এই ঘটনাটি সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সাম্যের ভূমিকাকেই প্রতিফলিত করে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়, সাম্য ছাড়া সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই স্বর্গরাজ্য রাষ্ট্রের উদাহরণ থেকে স্পষ্ট হয় যে, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সাম্যের ভূমিকা অপরিসীম।