Facebook Pixel

সোনিয়া এবং তার স্বামী সুমন মিয়া সিলেটের ভোলাগঞ্জে সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত পাথর উত্তোলনের কাজ করে। দিনশেষে মজুরি দেওয়ার সময় সুমন মিয়াকে দেওয়া হয় ৪০০ টাকা এবং সোনিয়াকে ৩০০ টাকা । এই বিষয়টি নিয়ে সোনিয়া প্রতিবাদ করে । ক. মূল্যবোধ কী? খ. মানুষ আইন মান্য করে কেন? গ. উদ্দীপকে সোনিয়া কোন ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি ছাড়া স্বাধীনতা অর্থহীন— ব্যাখ্যা করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য

উৎস: Board Exam Question MSB 2021

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মূল্যবোধ হলো সমাজে প্রচলিত কিছু আদর্শ, বিশ্বাস, ধারণা ও রীতিনীতির সমষ্টি, যা মানুষের আচরণ ও জীবনযাপনকে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করে। (খ) মানুষ মূলত সমাজজীবনে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইন মান্য করে। আইন হলো রাষ্ট্রের দ্বারা স্বীকৃত কিছু বাধ্যতামূলক নিয়ম। মানুষ জানে যে আইন অমান্য করলে তাকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। আবার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত থাকলে নাগরিকরা তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে এবং অন্যের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয় থাকে না। তাই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার তাগিদে মানুষ আইন মান্য করে। (গ) উদ্দীপকে সোনিয়া 'অর্থনৈতিক সাম্য' থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অর্থনৈতিক সাম্য বলতে সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন এবং একই ধরনের কাজের জন্য নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমান মজুরি বা সুযোগ-সুবিধা প্রদানকে বোঝায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, সোনিয়া এবং তার স্বামী সুমন মিয়া একই সময়ে (সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত) একই ধরনের পাথর উত্তোলনের কাজ করেন। কিন্তু দিনশেষে সুমন মিয়া পান ৪০০ টাকা এবং সোনিয়া পান ৩০০ টাকা। একই শ্রম ও সময়ের বিনিময়ে মজুরির এই বৈষম্য প্রমাণ করে যে সোনিয়া অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই বলা যায়, সোনিয়া এখানে অর্থনৈতিক সাম্যের অভাব অনুভব করেছেন। (ঘ) উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি হলো 'সাম্য' (বিশেষ করে অর্থনৈতিক সাম্য)। সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা প্রকৃতপক্ষে অর্থহীন। সাম্য ও স্বাধীনতা একে অপরের পরিপূরক। স্বাধীনতা বলতে বোঝায় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নিজের ইচ্ছানুযায়ী কাজ করার অধিকার। আর সাম্য হলো জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার জন্য সমান সুযোগের নিশ্চয়তা। যদি সমাজে সাম্য না থাকে, তবে স্বাধীনতা কেবল শক্তিশালী বা বিত্তবানদের হাতে কুক্ষিগত হয়ে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, উদ্দীপকের সোনিয়ার কথা ধরা যাক। তিনি যদি কাজ করার স্বাধীনতা পান কিন্তু সমান মজুরি (সাম্য) না পান, তবে তার সেই স্বাধীনতার কোনো প্রকৃত মূল্য থাকে না। কারণ অর্থনৈতিক বৈষম্য তাকে সামাজিকভাবে দুর্বল করে রাখে এবং তার জীবনযাত্রার মানকে নিম্নগামী করে। সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা কেবল 'সবলের স্বাধীনতা'তে পরিণত হয়, যা দুর্বলের জন্য নিপীড়ন হয়ে দাঁড়ায়। যখন সমাজে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তখনই একজন সাধারণ মানুষ তার স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ ভোগ করতে পারে। সাম্য উঁচু-নিচুর ভেদাভেদ দূর করে এবং স্বাধীনতা সেই সুযোগগুলো কাজে লাগানোর পথ দেখায়। সুতরাং, সাম্য ও স্বাধীনতা একই মুদ্রার দুটি পিঠের মতো। সাম্য নিশ্চিত না হলে স্বাধীনতা কেবল একটি আনুষ্ঠানিক শব্দে পরিণত হয়। তাই বলা যায়, সাম্য ছাড়া স্বাধীনতা অর্থহীন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenMymensingh Board (2021)

সোনিয়া এবং তার স্বামী সুমন মিয়া সিলেটের ভোলাগঞ্জে সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত পাথর উত্তোলনের কাজ করে। দিনশেষে মজুরি দেওয়ার সময় সুমন মিয়াকে দেওয়া হয় ৪০০ টাকা এবং সোনিয়াকে ৩০০ টাকা । এই বিষয়টি নিয়ে সোনিয়া প্রতিবাদ করে ।

ক. মূল্যবোধ কী?

খ. মানুষ আইন মান্য করে কেন?

গ. উদ্দীপকে সোনিয়া কোন ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি ছাড়া স্বাধীনতা অর্থহীন— ব্যাখ্যা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।