(ক)
যেসব অ্যালডিহাইড বা কিটোন জাতীয় যৌগে অনেকগুলো হাইড্রোক্সিল গ্রুপ থাকে অথবা যারা আর্দ্র-বিশ্লেষিত হয়ে কতকগুলো হাইড্রোক্সিল গ্রুপযুক্ত অ্যালডিহাইড বা কিটোন উৎপন্ন করে, সেসব যৌগকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা বলে।
(খ)
লবণাক্ত মাটিতে এবং জোয়ার-ভাটার স্থানে বীজ এক স্থানে টিকে থাকা কঠিন। তাই বহু উদ্ভিদে গাছে থাকা অবস্থায়ই বীজের অঙ্কুরোদগম শুরু হয়ে লম্বা ভ্রূণমূল সৃষ্টি হয়। মূল একটু বড় ও ভারী হলে তা মাটিতে পড়ে এবং কিছুটা কাদা মাটিতে ঢুকে গিয়ে স্থায়ী হয়। ফলে জোয়ার-ভাটার টানে তা ভেসে যায় না। উদ্ভিদে থাকা অবস্থায় ফলের অভ্যন্তরে বীজের অঙ্কুরোদগমকে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম বলে। ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের অনেক উদ্ভিদে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম লক্ষ করা যায়।
(গ)
উদ্দীপকের P (খাদ্য) যে অঙ্গাণুতে তৈরি হয় তা হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:
প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্ট লিপিড ও প্রোটিন দ্বারা তৈরি একটি দ্বিস্তরী আবরণী বা ঝিল্লি দ্বারা আবৃত থাকে। আবরণীটি ক্লোরোপ্লাস্টের অভ্যন্তরস্থ বস্তুসমূহকে রক্ষা করে এবং ভেতরে-বাইরে বস্তুর যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করে। আবরণী দ্বারা আবৃত ক্লোরোপ্লাস্টের অভ্যন্তরে স্বচ্ছ, দানাদার, অসমসত্ত্ব জলীয় পদার্থ থাকে, যাকে স্ট্রোমা বলে। স্ট্রোমার মধ্যে চাকতির মতো বস্তু সহযোগে ৬০–৮০টি ঢাক-সদৃশ গঠন দেখা যায়। এরকম এক একটি গঠনকে গ্রানাম (বহুবচনে গ্রানা) এবং এক একটি চাকতি সদৃশ বস্তুকে থাইলাকয়েড বা গ্রানাম ল্যামেলাম বলে। পাশাপাশি অবস্থিত গ্রানামগুলো কিছুসংখ্যক সূক্ষ্ম নালিকা দ্বারা যুক্ত থাকে, যাদের স্ট্রোমা ল্যামেলী বলে। এদের অভ্যন্তরে ক্লোরোফিল বিদ্যমান। থাইলাকয়েড মেমব্রেন বহু গোলাকার বস্তু বহন করে, যার মধ্যে ATP তৈরির সকল এনজাইম থাকে। এছাড়া মেমব্রেনগুলোতে অসংখ্য ফটোসিনথেটিক ইউনিট থাকে, যেখানে ক্লোরোফিল-এ, ক্লোরোফিল-বি, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিলের প্রায় ৩০০–৪০০ অণু থাকে। প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্টে নিজস্ব DNA ও রাইবোজোম থাকে, যার সাহায্যে ক্লোরোপ্লাস্ট সংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করতে পারে।
(ঘ)
উদ্দীপকের P (খাদ্য) সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় এবং Q (শক্তি) শ্বসন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। নিচে প্রক্রিয়া দুটির শারীরতাত্ত্বিক তুলনা করা হলো:
১. শক্তির রূপান্তর: শ্বসন প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক স্থিরশক্তি গতিশক্তিতে পরিণত হয়, অন্যদিকে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোক শক্তি রাসায়নিক স্থির শক্তিতে পরিবর্তিত হয়।
২. শক্তির ব্যবহার: শ্বসন প্রক্রিয়ায় শক্তি নির্গত হয়, অন্যদিকে সালোকসংশ্লেষণে শক্তি সঞ্চিত হয়।
৩. সংঘটন স্থান: সব সজীব কোষেই শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকে, কিন্তু যেসব কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট আছে কেবল সেসব কোষে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়।
৪. সময়ের ব্যাপ্তি: দিবা-রাত্রি চব্বিশ ঘণ্টাই শ্বসন প্রক্রিয়া চলে, তবে সূর্যালোকের উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া চলে।
৫. কাঁচামাল: শ্বসন প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যদ্রব্য (শর্করা) প্রধান উপাদান, অন্যদিকে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড প্রধান উপাদান।
৬. উৎপাদ: শ্বসন প্রক্রিয়ায় প্রধানত পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়, তবে অনেক সময় অ্যালকোহল বা ল্যাকটিক এসিডও উৎপন্ন হতে পারে। অপরপক্ষে, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা ও অক্সিজেন উৎপন্ন হয়।
৭. বিপাকীয় প্রকৃতি: শ্বসন একটি অপচিতি প্রক্রিয়া, কিন্তু সালোকসংশ্লেষণ একটি উপচিতি প্রক্রিয়া।
৮. গ্যাসের আদান-প্রদান: শ্বসন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে, অন্যদিকে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ত্যাগ করে।