(ক)
যে সব প্রতিষ্ঠানের জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ১০ থেকে ৭৫ লক্ষ টাকা, তাকে মাইক্রো শিল্প বলে।
(খ)
আমাদের দেশে কাঁচা চামড়ার দাম কম থাকা সত্ত্বেও চামড়াজাত পণ্যের দাম বেশি হওয়ার প্রধান কারণ হলো প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের অভাব এবং যোগান ও চাহিদার ভারসাম্যহীনতা।
বছরের বিভিন্ন সময়ে কোরবানির ঈদসহ অন্যান্য কারণে প্রচুর পরিমাণে গরু, ছাগল ও মহিষ জবাই করা হয়, ফলে বাজারে কাঁচা চামড়ার যোগান অনেক বেড়ে যায় এবং দাম কমে যায়। কিন্তু এই কাঁচা চামড়াকে প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমানের চামড়াজাত পণ্য (যেমন: জুতা, ব্যাগ, বেল্ট) তৈরি করার মতো কারখানার সংখ্যা খুবই সীমিত। ফলে চাহিদার তুলনায় চামড়াজাত পণ্যের যোগান কম থাকে, যার ফলে বাজারে এসব পণ্যের দাম অনেক বেশি হয়।
(গ)
উদ্দীপকের সুলতান সাহেবের কারখানাটি বৃহৎ শিল্পের অন্তর্গত।
শিল্পনীতি অনুযায়ী, যে সব শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভূমি ও কারখানা ভবন ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয় ৫০ কোটি টাকার বেশি এবং যেখানে ৩০০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়োজিত থাকে, তাকে বৃহৎ শিল্প বলে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সুলতান সাহেবের কারখানার স্থায়ী মূলধন প্রায় ৫৫ কোটি টাকা এবং সেখানে ৫০০ জন শ্রমিক কাজ করে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো বৃহৎ শিল্পের সংজ্ঞার সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। সুতরাং, সুলতান সাহেবের কারখানাটি একটি বৃহৎ শিল্প।
বৃহৎ শিল্পের বৈশিষ্ট্য ও বর্ণনা নিম্নরূপ:
১. এই শিল্পে অধিক মূলধনের প্রয়োজন হয় এবং উন্নত উৎপাদন কৌশল ব্যবহার করা হয়।
২. এখানে শ্রমবিভাগের বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়, যার ফলে উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
৩. দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং গবেষণার সুযোগ থাকায় পণ্যের গুণগত মান উন্নত হয়।
৪. এই শিল্পগুলো সাধারণত দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
(ঘ)
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকে উল্লিখিত পাট শিল্পটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। প্লাস্টিক ও কৃত্রিম আঁশের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে বিশ্ববাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্দীপকের সুলতান সাহেবের কারখানায় পাটের কার্পেট, বস্তা ও হেসিয়ান সুতা তৈরি হয়, যা বর্তমান বিশ্ববাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পাট শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. পরিবেশবান্ধব পণ্য: পাট একটি সম্পূর্ণ পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব আঁশ। বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে পাটজাত পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
২. পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ: বর্তমানে শুধু বস্তা নয়, বরং পাটের কার্পেট, ব্যাগ, পোশাক এবং শৌখিন গৃহসজ্জার সামগ্রী তৈরি হচ্ছে, যা উচ্চমূল্যে বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।
৩. আধুনিকীকরণ: পাট শিল্পের আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং উৎপাদন কৌশলের উন্নতির ফলে উৎপাদন খরচ কমেছে এবং পণ্যের মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪. বিকল্প কাঁচামাল: সবুজ পাট থেকে কাগজ এবং রেয়ন তৈরির মন্ড তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা এই শিল্পের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
পরিশেষে বলা যায়, বৈশ্বিক চাহিদার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্যের কারণে বাংলাদেশের পাট শিল্প একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।