(ক)
যখন কোনো রাষ্ট্রে প্রধানত দুটি রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি লক্ষ করা যায় এবং তাদের মধ্যে ক্ষমতার পর্যায়ক্রমিক আবর্তন ঘটে, তাকে দ্বিদলীয় ব্যবস্থা বলে।
(খ)
'লালফিতা' বলতে আমলাতন্ত্রের জটিল নিয়মকানুন ও আনুষ্ঠানিকতার অন্ধ অনুসরণকে বোঝায়। কোনো সমস্যা সমাধানে বা আবেদন প্রক্রিয়ায় বিধি মোতাবেক অগ্রসর হতে গিয়ে যখন অহেতুক সময় নষ্ট হয় এবং কাজ দীর্ঘায়িত হয়, তখন তাকে লালফিতার দৌরাত্ম্য বলা হয়। আমলাতন্ত্রের এই কঠোর আনুষ্ঠানিকতার কারণে সাধারণ মানুষের আবেদনগুলো ফাইলের স্তূপে আটকা পড়ে থাকে, ফলে জনগণের হয়রানি বৃদ্ধি পায় এবং প্রশাসনিক দক্ষতা হ্রাস পায়। মূলত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অহেতুক বিলম্বের এই অবস্থাকেই লালফিতার দৌরাত্ম্য বলা হয়।
(গ)
উদ্দীপকে সুলতানাকে অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুসারে আয় ও ধনসম্পদে প্রত্যেক ব্যক্তির সুযোগ-সুবিধা লাভের সমতাকে বোঝায়। অর্থাৎ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে যোগ্যতানুযায়ী সম্পদ অর্জন ও অর্থনৈতিক সুযোগের সমতাই হলো অর্থনৈতিক সাম্য। যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কেবল লিঙ্গ বা অন্য কোনো কারণে সমান কাজের জন্য সমান মজুরি পায় না, তখন সেখানে অর্থনৈতিক অসাম্য তৈরি হয়।
উদ্দীপকের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, সুলতানা ও ফরিদ উভয়ই পাথরখনিতে কাজ করেন। অর্থাৎ তারা একই ধরনের শ্রম প্রদান করছেন। কিন্তু দিনশেষে মালিক সুলতানাকে ফরিদের তুলনায় কম মজুরি প্রদান করেন। এখানে শুধুমাত্র লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে সুলতানাকে মজুরিতে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা অর্থনৈতিক সাম্যের পরিপন্থী। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের সুলতানা অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন, এই মন্তব্যটি যথার্থ।
রাজনৈতিক সাম্য বলতে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অধিকার ভোগের ক্ষমতাকে বোঝায়। ভোটাধিকার, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার, সরকারি চাকরিতে অংশগ্রহণের অধিকার এবং সরকারের সমালোচনা করার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত। তবে এই অধিকারগুলো বাস্তবে ভোগ করার জন্য অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সামাজিক মর্যাদা প্রয়োজন।
অর্থনৈতিক সাম্য ব্যক্তিকে তার মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং সমাজে মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেয়। যখন কোনো সমাজে চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য বিরাজ করে, তখন সমাজটি ধনী ও দরিদ্র এই দুই শ্রেণিতে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দরিদ্র শ্রেণির মানুষ যখন তাদের ন্যূনতম জীবনধারণের জন্য সংগ্রাম করে, তখন তাদের কাছে ভোটাধিকার বা রাজনৈতিক অধিকারের গুরুত্ব গৌণ হয়ে পড়ে। অভাবের তাড়নায় তারা অনেক সময় তাদের রাজনৈতিক অধিকার বিক্রি করে দেয় অথবা প্রভাবশালী ধনীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়। ফলে কাগজে-কলমে রাজনৈতিক সাম্য থাকলেও বাস্তবে তা অর্থহীন হয়ে পড়ে।
একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো সাম্য। আর এই সাম্যের মূল ভিত্তি হলো অর্থনৈতিক সাম্য। অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হলে নাগরিকরা আত্মনির্ভরশীল হয় এবং স্বাধীনভাবে তাদের রাজনৈতিক অধিকার চর্চা করতে পারে। অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকলে রাজনৈতিক ক্ষমতা কেবল মুষ্টিমেয় ধনীদের হাতে কুক্ষিগত থাকে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধ্বংস করে।
পরিশেষে বলা যায়, অর্থনৈতিক সাম্য নিশ্চিত না করে কেবল রাজনৈতিক অধিকার প্রদান করলে তা প্রকৃত সাম্য বয়ে আনে না। তাই অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন।