(ক)
মন্থর ও গতিশীল প্রক্রিয়ায় সময়ের সাথে সাথে কোনো সরলদেহী আদিম জীব থেকে ক্রমান্বয়ে জটিল ও উন্নত নতুন প্রজাতির জীবের উৎপত্তি ঘটার প্রক্রিয়াকে বিবর্তন বা অভিব্যক্তি বলে।
(খ)
ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদের কিছু সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য পরবর্তীকালে জিনতত্ত্ব, কোষবিদ্যা, শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা ও জীবাশ্মবিদ্যার আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয়ে ডারউইনের মতবাদকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। ভাইজম্যান, ডবঝানস্কি, মায়ার, সিম্পসন প্রমুখ বিজ্ঞানী ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদের যে আধুনিক ও সংশোধিত রূপ উপস্থাপন করেন, তাকে নব্য-ডারউইনবাদ (Neo-Darwinism) বলা হয়। এটি মূলত ডারউইনের মতবাদ এবং আধুনিক জিনতত্ত্বের একীভূত রূপ।
(গ)
উদ্দীপক অনুসারে, সুমনের বাবার রক্তের গ্রুপ $AB^{+ve}$ এবং মায়ের রক্তের গ্রুপ $O^{-ve}$।
মানুষের রক্তের গ্রুপ নিয়ন্ত্রিত হয় মাল্টিপল অ্যালিল দ্বারা, যা $I^A$, $I^B$ এবং $I^O$ জিন দ্বারা নির্ধারিত হয়। এখানে $I^A$ এবং $I^B$ সহপ্রকট এবং $I^O$ প্রচ্ছন্ন অ্যালিল হিসেবে কাজ করে।
বাবার রক্তের গ্রুপ $AB$ হওয়ায় তার জিনোটাইপ হবে: $I^A I^B$
মায়ের রক্তের গ্রুপ $O$ হওয়ায় তার জিনোটাইপ হবে: $I^O I^O$
পিতা ও মাতার জিনোটাইপের ক্রস:
$$
I^A I^B \times I^O I^O
$$
গ্যামেটসমূহ:
বাবার গ্যামেট: $I^A$ এবং $I^B$
মায়ের গ্যামেট: $I^O$
সম্ভাব্য সংমিশ্রণ:
১. $I^A$ এবং $I^O$ এর মিলনে জিনোটাইপ হবে $I^A I^O$ (রক্তের গ্রুপ: A)
২. $I^B$ এবং $I^O$ এর মিলনে জিনোটাইপ হবে $I^B I^O$ (রক্তের গ্রুপ: B)
Rh ফ্যাক্টরের ক্ষেত্রে:
বাবার রক্তের গ্রুপ $Rh^{+ve}$ (প্রকট বৈশিষ্ট্য) এবং মায়ের রক্তের গ্রুপ $Rh^{-ve}$ (প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য)।
যেহেতু $Rh^{+ve}$ বৈশিষ্ট্যটি $Rh^{-ve}$ এর ওপর প্রকট, তাই সন্তানটি হেটেরোজাইগাস $Rh^{+ve}$ হবে।
অতএব, সুমনের রক্তের গ্রুপ $A^{+ve}$ অথবা $B^{+ve}$ হবে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে সুমনের রক্তের গ্রুপ বাবা বা মায়ের রক্তের গ্রুপের মতো নয়, যা এই ফলাফলের সাথে মিলে যায় (কারণ $A^{+ve}$ বা $B^{+ve}$ রক্তের গ্রুপ $AB^{+ve}$ বা $O^{-ve}$ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন)।
(ঘ)
উদ্দীপক অনুসারে সুমনের মায়ের রক্তের গ্রুপ $O^{-ve}$ (অর্থাৎ $Rh^{-ve}$) এবং বাবার রক্তের গ্রুপ $AB^{+ve}$ (অর্থাৎ $Rh^{+ve}$)। রক্তের এই Rh অসঙ্গতির কারণে সুমনের মায়ের গর্ভধারণের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়, যা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. গর্ভধারণজনিত জটিলতা (এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস):
- প্রথম সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে: $Rh^{-ve}$ মায়ের গর্ভে প্রথম সন্তানটি যদি বাবার থেকে $Rh^{+ve}$ বৈশিষ্ট্য লাভ করে, তবে গর্ভকালীন সময়ে বা প্রসবের সময় শিশুর রক্ত থেকে কিছু $Rh^{+ve}$ লোহিত রক্তকণিকা অমরার (placenta) মাধ্যমে মায়ের রক্তে প্রবেশ করে। মায়ের রক্তে এই বহিরাগত Rh অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে অ্যান্টিবডি (Anti-Rh অ্যান্টিবডি) তৈরি হয়। তবে প্রথম সন্তানের ক্ষেত্রে এই অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়াটি ধীর হওয়ায় এবং সন্তান প্রসব হয়ে যাওয়ার কারণে প্রথম সন্তান সাধারণত সুস্থ ও নিরাপদ থাকে।
- পরবর্তী সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে: মায়ের শরীরে ইতিমধ্যে Anti-Rh অ্যান্টিবডি স্থায়ীভাবে তৈরি হয়ে থাকে। পরবর্তীতে মা যদি পুনরায় $Rh^{+ve}$ ভ্রূণ ধারণ করেন, তবে মায়ের রক্তে থাকা এই ক্ষুদ্র অ্যান্টিবডিগুলো অমরার মাধ্যমে সহজেই ভ্রূণের রক্তে প্রবেশ করে। এই অ্যান্টিবডিগুলো ভ্রূণের লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে ধ্বংস করতে শুরু করে।
- এর ফলে ভ্রূণের তীব্র রক্তাল্পতা (Anemia) দেখা দেয় এবং লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে গিয়ে অতিরিক্ত বিলিরুবিন তৈরি হওয়ার কারণে জন্ডিস হয়। এই অবস্থাকে এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস (Erythroblastosis fetalis) বলে। এর ফলে গর্ভপাত ঘটতে পারে অথবা মৃত শিশুর জন্ম হতে পারে। শিশু জীবিত জন্মালেও সে তীব্র জন্ডিস ও রক্তাল্পতায় ভোগে।
২. রক্ত সঞ্চালনে জটিলতা:
সুমনের মা যেহেতু $Rh^{-ve}$ রক্তধারী, তাই তাকে কখনো অসাবধানতাবশত $Rh^{+ve}$ রক্ত দেওয়া হলে তার শরীরে Rh অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। পরবর্তীতে পুনরায় তাকে $Rh^{+ve}$ রক্ত দেওয়া হলে রক্তকণিকাগুলো জমাট বেঁধে রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাবে এবং লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে গিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে, যা রোগীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে।