(ক)
দেশের আইনসভায় বিল পাস বা রাষ্ট্রপতির বিশেষ অধ্যাদেশের মাধ্যমে গঠিত ও নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিকে বিধিবদ্ধ বা সংবিধিবদ্ধ কোম্পানি বলে। যেমন: বাংলাদেশ ব্যাংক, ওয়াসা ইত্যাদি।
(খ)
WASA (Water Supply and Sewerage Authority) বা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ নাগরিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর গুরুত্ব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
প্রথমত, এটি বাসা-বাড়িসহ শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করে। দ্বিতীয়ত, শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা পরিচালনা করে পরিবেশ দূষণ রোধ করে। তৃতীয়ত, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর করে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করে। তাই জনস্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনায় WASA গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠনের আওতাভুক্ত।
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় হলো এমন এক ধরনের ব্যবসায়িক সংগঠন যা রাষ্ট্র কর্তৃক গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। এই ধরনের ব্যবসার মূল লক্ষ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য ও সেবা সরবরাহ করে থাকে। যেমন: ডাক বিভাগ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, ওয়াসা ইত্যাদি।
উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড মুনাফা অর্জনকে গুরুত্ব না দিয়ে কম মূল্যে রাসায়নিক সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে গ্যাস সরবরাহ করছে। এর ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে সেবার সুযোগ পাচ্ছে। যদি এই প্রতিষ্ঠানটি বেসরকারি মালিকানাধীন হতো, তবে মুনাফার উদ্দেশ্যে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেত এবং এর সুবিধা কেবল কিছু ব্যবসায়ীর কুক্ষীগত হতো। সুতরাং, জনকল্যাণের উদ্দেশ্য নিয়ে পরিচালিত হওয়ায় সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড একটি রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সংগঠন।
(ঘ)
উদ্দীপকের নতুন ব্যবসায় ধারণাটি হলো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা PPP (Public Private Partnership)। এই ধারণাটি দেশের অর্থনৈতিক ভিতকে শক্তিশালী করবে, এই বক্তব্যটি যথার্থ।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব হলো এমন এক ব্যবস্থা যেখানে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যৌথ অর্থায়ন ও সহযোগিতার মাধ্যমে কোনো প্রকল্প গঠন, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত শক্তিশালী হওয়ার কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সরকারি আর্থিক চাপের হ্রাস: বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত করার ফলে সরকারের একক আর্থিক চাপের বোঝা কমে এবং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
২. বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ: এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বেসরকারি উদ্যোক্তারা কম ঝুঁকিতে বিনিয়োগের সুযোগ পায়। সরকার অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর মওকুফের মতো সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে, যা বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে।
৩. দক্ষতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়: সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রকল্পের গুণগত মান বৃদ্ধি পায় এবং অপচয় কমে।
৪. অর্থনৈতিক গতিশীলতা: অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন রাস্তা, সেতু বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের জিডিপি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সরকার অবকাঠামো নির্মাণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করছে যার ফলে উভয় পক্ষই লাভবান হচ্ছে। এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আসে। তাই বলা যায়, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বভিত্তিক ব্যবসায় ধারণাটি দেশের অর্থনৈতিক ভিতকে শক্তিশালী করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।