Facebook Pixel

সিলিক একজন সমাজকর্মী। তিনি এমন এক সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছেন যেখানে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে কোনো পার্থক্য থাকবে না। ক. নৈতিকতা কী? খ. নাগরিক কল্যাণের জন্য আইন মেনে চলা প্রয়োজন কেন? গ. সিদ্দিক পৌরনীতি ও সুশাসনের কোন বিষয়টি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে সকলেই সমভাবে আত্মবিকাশের সুযোগ পাবে- তুমি কি একমত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য

উৎস: Board Exam Question JB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) সমাজের বিবেকের সাথে সংগতিপূর্ণ ধ্যানধারণা ও আদর্শের সমষ্টিকে নৈতিকতা বলে। (খ) নাগরিক কল্যাণের জন্য আইন মেনে চলা প্রয়োজন কারণ আইন সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করে এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করে। ব্যক্তি ও সমাজ জীবনকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আইনের কোনো বিকল্প নেই। মানুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার ভোগ, স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং সুষ্ঠু সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন বিধান করতে প্রত্যেক নাগরিকের আইন মেনে চলা আবশ্যক। আইনের উপস্থিতি ছাড়া নাগরিক কল্যাণ সাধন অসম্ভব। নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা বিধান এবং সমাজে বিদ্যমান সমস্যাগুলো প্রতিরোধ ও প্রতিকারে আইন মেনে চলা একান্ত প্রয়োজন। (গ) উদ্দীপকের সিলিক পৌরনীতি ও সুশাসনের 'সামাজিক সাম্য' বিষয়টি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন। সামাজিক সাম্য বলতে সামাজিক ক্ষেত্রে সকল মানুষের সমান অধিকার এবং সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করাকে বোঝায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশ, অর্থ ইত্যাদির ভিত্তিতে যখন মানুষের সাথে মানুষের কোনো পার্থক্য করা হয় না, তখন তাকে সামাজিক সাম্য বলা হয়। সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা পেলে সমাজে কোনো প্রকার অশান্তি, অন্যায় ও বিশৃঙ্খলা থাকে না। সাম্যই কেবল মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে সক্ষম। যে সমাজে সামাজিক সাম্য বিদ্যমান, সেখানে ব্যক্তির বংশ বা ধর্ম নয়, বরং তার যোগ্যতা অনুযায়ী সে সম্মান ও মর্যাদা লাভ করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সমাজকর্মী সিলিক এমন একটি সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছেন যেখানে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে কোনো পার্থক্য থাকবে না। অর্থাৎ তার লক্ষ্য হলো সমাজের মানুষের মধ্যে সকল ভেদাভেদ দূর করে সকলের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। এই প্রচেষ্টাই হলো সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করা। সুতরাং, সিলিকের কর্মকাণ্ড সামাজিক সাম্যের আওতায় পড়ে। (ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত সাম্য তথা সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হলে সকলেই সমভাবে আত্মবিকাশের সুযোগ পাবে, এ মন্তব্যের সাথে আমি একমত। জন্মগতভাবে মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য নেই। তবে সামাজিক পরিবেশ ও বৈষম্যের কারণে মানুষের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়। সাম্য হলো জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা। যখন সমাজে এই সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক সুযোগগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত হয়। ফলে কোনো ব্যক্তি তার জন্মগত পরিচয় বা সামাজিক অবস্থানের কারণে পিছিয়ে থাকে না, বরং তার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিজেকে বিকশিত করার সুযোগ পায়। অন্যদিকে, সমাজে অসাম্য বিরাজ করলে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়। সাম্যহীন সমাজে আয় ও সম্পদের চরম বৈষম্য থাকে, যার ফলে দরিদ্র বা অবহেলিত শ্রেণির মানুষের জন্য আত্মবিকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। তারা মৌলিক চাহিদা পূরণের লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকে, ফলে তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটে না। সুতরাং, সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ বৈষম্যমুক্ত পরিবেশে সমভাবে আত্মবিকাশের সুযোগ পাবে। তাই আমি উক্ত মন্তব্যের সাথে একমত।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenJessore Board (2023)

সিলিক একজন সমাজকর্মী। তিনি এমন এক সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছেন যেখানে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে কোনো পার্থক্য থাকবে না।

ক. নৈতিকতা কী?

খ. নাগরিক কল্যাণের জন্য আইন মেনে চলা প্রয়োজন কেন?

গ. সিদ্দিক পৌরনীতি ও সুশাসনের কোন বিষয়টি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে সকলেই সমভাবে আত্মবিকাশের সুযোগ পাবে- তুমি কি একমত? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।