Facebook Pixel

সিফাত ও রোজিনা সারাদিন ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করেন। কাজ শেষে মালিক রোজিনাকে সিফাতের অর্ধেক মজুরি প্রদান করে। এতে রোজিনা ক্ষিপ্ত হয়ে মালিকের কাছে সমান মজুরি দাবি করেন। মালিক সমান মজুরি দিতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, নারীর মজুরি পুরুষের সমান হতে পারে না। ক. মূল্যবোধ কী? খ. আইনগত সাম্য বলতে কী বোঝ? গ. উদ্দীপকে রোজিনা কোন ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত? ব্যাখ্যা কর। ঘ. তুমি কি মনে কর উক্ত সাম্য একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জন্য অতীব জরুরি? মতামত দাও।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য

উৎস: Test Exam Question BGCB 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) মূল্যবোধ হলো সমাজের সেই সব আদর্শ, বিশ্বাস ও নীতিমালার সমষ্টি যা মানুষের আচরণ ও জীবনযাপনকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালিত করে। (খ) আইনগত সাম্য বলতে বোঝায় যে, আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান এবং আইন সকলের জন্য একইভাবে প্রযোজ্য। এর অর্থ হলো জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি ব্যক্তি আইনের সমান সুরক্ষা পাবে এবং কেউই আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে। (গ) উদ্দীপকে রোজিনা 'অর্থনৈতিক সাম্য' থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায় যে, যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী নাগরিকরা আয় ও সম্পদের সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে এবং ধনসম্পদের বন্টনে চরম বৈষম্য থাকবে না। অর্থাৎ অর্থ উপার্জন ও বন্টন বিষয়ে বৈষম্য দূর করে সকলকে সমান সুযোগ প্রদান করাই এর মূল লক্ষ্য। উদ্দীপকে দেখা যায়, সিফাত ও রোজিনা একই ধরনের কাজ (ছাদ ঢালাই) সারাদিন করলেও মালিক রোজিনাকে সিফাতের অর্ধেক মজুরি প্রদান করেন। মালিকের যুক্তি ছিল যে নারীর মজুরি পুরুষের সমান হতে পারে না। এটি স্পষ্টত লিঙ্গভিত্তিক অর্থনৈতিক বৈষম্য, যা অর্থনৈতিক সাম্যের পরিপন্থী। সুতরাং, রোজিনা এখানে অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। (ঘ) হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকে বর্ণিত সাম্য তথা অর্থনৈতিক সাম্য একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জন্য অতীব জরুরি। কারণ অর্থনৈতিক সাম্য ছাড়া সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং বৈষম্য দূর করা। যদি সমাজে সম্পদের সুষম বন্টন না থাকে এবং লিঙ্গ বা শ্রেণির ভিত্তিতে মজুরি বৈষম্য থাকে, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়, যা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে। অর্থনৈতিক সাম্য বিরাজমান থাকলে সমাজের প্রান্তিক মানুষগুলোও রাষ্ট্রের মূলধারায় যুক্ত হতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে পারে। এটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করে এবং সামাজিক সংঘাত হ্রাস করে। পরিশেষে বলা যায়, অর্থনৈতিক সাম্য কেবল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিই আনে না, বরং এটি রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে অর্থবহ করে তোলে। রাষ্ট্রের সার্বিক সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সকল বৈষম্য দূর করে অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করা একান্ত প্রয়োজন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Writtenনির্বাচনী পরীক্ষা - Bhola Govt College, Bhola (2026)

সিফাত ও রোজিনা সারাদিন ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করেন। কাজ শেষে মালিক রোজিনাকে সিফাতের অর্ধেক মজুরি প্রদান করে। এতে রোজিনা ক্ষিপ্ত হয়ে মালিকের কাছে সমান মজুরি দাবি করেন। মালিক সমান মজুরি দিতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, নারীর মজুরি পুরুষের সমান হতে পারে না।

ক. মূল্যবোধ কী?

খ. আইনগত সাম্য বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকে রোজিনা কোন ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. তুমি কি মনে কর উক্ত সাম্য একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জন্য অতীব জরুরি? মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।