Facebook Pixel

সিফাত ও রোজিনা সারাদিন ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করেন। কাজ শেষে মালিক রোজিনাকে সিফাতের অর্ধেক মজুরি প্রদান করেন। এতে রোজিনা ক্ষিপ্ত হয়ে মালিকের কাছে সমান মজুরি দাবি করেন। মালিক সমান মজুরি দিতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, নারীর মজুরি পুরুষের সমান হতে পারে না। ক. আইন কী? খ.. স্বাধীনতা ও সাম্যের সম্পর্ক কী? গ. উদ্দীপকে রোজিনা কী ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত? ব্যাখ্যা করো । ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত মালিকের শেষোক্ত বক্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? যুক্তি দাও।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য

উৎস: Board Exam Question SB 2022, Board Exam Question MSB 2022

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) আইন হলো সমাজস্বীকৃত ও রাষ্ট্রকর্তৃক অনুমোদিত কতগুলো বিধি-বিধান যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। (খ) স্বাধীনতা ও সাম্যের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় এবং এরা একে অন্যের পরিপূরক ও সহায়ক। স্বাধীনতা বলতে বোঝায়, অন্যের কাজে বাধা সৃষ্টি না করে নিজের ইচ্ছানুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজ করা। আর সাম্য হলো জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী, পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে সমান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা। সাম্য নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীনতা প্রয়োজন। স্বাধীনতার শর্ত পূরণ না হলে সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয় না। আবার স্বাধীনতা ভোগ করতে হলে সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অর্থাৎ সাম্য ও স্বাধীনতা একসাথে বিরাজ না করলে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। তাই বলা হয়, সাম্য ও স্বাধীনতার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। (গ) উদ্দীপকে রোজিনা অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অর্থনৈতিক সাম্য বলতে দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুসারে আয় ও ধন-সম্পদে প্রত্যেক ব্যক্তির সুযোগ-সুবিধা লাভের সমতাকে বোঝায়। অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সব সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া নয়; বরং জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী, পুরুষ, ধনী, দরিদ্র নির্বিশেষে সব মানুষের সম্পাদিত কাজের ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুবিধা লাভই অর্থনৈতিক সাম্য। অর্থাৎ অর্থনৈতিক সাম্যের মূলকথা হচ্ছে, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টন। উদ্দীপকে দেখা যায়, সিফাত ও রোজিনা সারাদিন ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করেন। কিন্তু কাজ শেষে মালিক রোজিনাকে সিফাতের অর্ধেক মজুরি প্রদান করেন। রোজিনা ও সিফাত একই ধরনের কাজ করা সত্ত্বেও রোজিনার মজুরি কম হওয়া অর্থনৈতিক সাম্যের পরিপন্থি। কেননা যোগ্যতা অনুযায়ী একই ধরনের কাজে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার ন্যায্য মজুরি লাভ অর্থনৈতিক সাম্যের মূলকথা। তাই বলা যায়, রোজিনা অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। (ঘ) না, উদ্দীপকে বর্ণিত মালিকের শেষোক্ত বক্তব্যের সাথে আমি একমত নই। উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় দেখা যায়, সিফাত ও রোজিনা সারাদিন ছাদ ঢালাই করেন। কিন্তু দিনশেষে মালিক রোজিনাকে সিফাতের অর্ধেক মজুরি প্রদান করে। রোজিনা সমান মজুরি দাবি করলে মালিক তা অস্বীকার করে এবং বলে নারীর মজুরি কখনো পুরুষের সমান হতে পারে না। মালিকের এই বক্তব্য অযৌক্তিক এবং অর্থনৈতিক সাম্যের পরিপন্থি। অর্থনৈতিক সাম্য বলতে যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুসারে আয় ও ধন-সম্পদ অর্জনে প্রত্যেক ব্যক্তি সমান সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ সব সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া নয়; বরং জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী, পুরুষ নির্বিশেষে সকল মানুষ তার সম্পাদিত কাজের ন্যায্য মজুরি লাভ করবে। একই ধরনের কাজের জন্য মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষভেদে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। কিন্তু উদ্দীপকে দেখা যায়, রোজিনা নারী হওয়ায় মালিক তাকে পুরুষ কর্মীর সমান মজুরি দিতে অস্বীকার করেন, যা অর্থনৈতিক সাম্যের পরিপন্থি। পরিশেষে বলা যায়, প্রত্যেকেই তার যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী মজুরি পাবে, কোনো বৈষম্য করা যাবে না। আর এ কারণেই আমি উদ্দীপকে বর্ণিত মালিকের শেষোক্ত বক্তব্যের সাথে একমত নই।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenSylhet Board (2022)Mymensingh Board (2022)

সিফাত ও রোজিনা সারাদিন ছাদ ঢালাইয়ের কাজ করেন। কাজ শেষে মালিক রোজিনাকে সিফাতের অর্ধেক মজুরি প্রদান করেন। এতে রোজিনা ক্ষিপ্ত হয়ে মালিকের কাছে সমান মজুরি দাবি করেন। মালিক সমান মজুরি দিতে অস্বীকার করেন এবং বলেন, নারীর মজুরি পুরুষের সমান হতে পারে না।

ক. আইন কী?

খ.. স্বাধীনতা ও সাম্যের সম্পর্ক কী?

গ. উদ্দীপকে রোজিনা কী ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত? ব্যাখ্যা করো ।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত মালিকের শেষোক্ত বক্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।