(ক)
যেসব অধিকার একজন নাগরিককে রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়, সেগুলোকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
(খ)
নীতি বা আইন বিরুদ্ধ কাজ করাই হলো দুর্নীতি।
আভিধানিক অর্থে দুর্নীতির অর্থ নীতিবিরুদ্ধ, কুনীতি, অসদাচরণ ইত্যাদি। নৈতিক অর্থে নীতি বিচ্যুতিই দুর্নীতি। দার্শনিক ও ধর্মতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দুর্নীতি কোনো আদর্শের নৈতিক বা আধ্যাত্মিক অসাধুতা বা বিচ্যুতিকে নির্দেশ করে। বৃহৎ পরিসরে ঘুষ প্রদান, সম্পত্তির আত্মসাৎ এবং সরকারি ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করা দুর্নীতি। আইনগত অর্থে ফৌজদারি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা, সরকারি ক্ষমতা বা পদমর্যাদা প্রয়োগের মাধ্যমে নিজ বা অন্য কারও জন্য অবৈধভাবে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা দুর্নীতি বলে স্বীকৃত।
(গ)
উদ্দীপকে সালমান ও নাঈম রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
যেসব অধিকার একজন নাগরিককে রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়, সেগুলোকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সব ব্যক্তিই কতগুলো বিশেষ রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করে। রাজনৈতিক অধিকার সাধারণত সংবিধান অথবা আইন দ্বারা স্বীকৃত। ভোট প্রদান করা, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বা নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, শাসনকাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশ নেওয়া, সরকারের কাজে মতামত প্রকাশ করা ইত্যাদি রাজনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপকে দেখা যায়, সালমান ও নাঈম দেশে ফিরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। যেহেতু ভোট প্রদান করা একটি মৌলিক রাজনৈতিক অধিকার, সেহেতু বলা যায় সালমান ও নাঈম রাজনৈতিক অধিকারই প্রয়োগ করেছেন।
(ঘ)
রাজনৈতিক অধিকার নাগরিকের অন্যান্য অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে অধিকতর গুরুত্ব বহন করে- উক্তিটি যথার্থ।
রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত অধিকারকে আইনগত অধিকার বলে। আইনগত অধিকার প্রধানত তিন প্রকার। যথা: ১. সামাজিক অধিকার, ২. রাজনৈতিক অধিকার ও ৩. অর্থনৈতিক অধিকার। সামাজিক অধিকার বলতে সেসব অধিকারকে বোঝায় যেগুলো সমাজে সভ্য জীবনযাপন করতে সাহায্য করে এবং যা জীবন সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য একান্ত অপরিহার্য। যেমন- জীবনধারণের অধিকার, চলাফেরার অধিকার, সম্পত্তি ভোগের অধিকার ইত্যাদি। আর রাজনৈতিক অধিকার হলো সেসব অধিকার যেগুলোর মাধ্যমে নাগরিকগণ রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে। ভোট প্রদানের অধিকার, নির্বাচিত হওয়ার অধিকার, আইনসভার সদস্য হওয়ার অধিকার প্রভৃতি রাজনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে কর্মের অধিকার, উপযুক্ত পারিশ্রমিকের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার প্রভৃতি অর্থনৈতিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত।
উল্লিখিত তিন ধরনের অধিকার ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাজনৈতিক অধিকার ভোগ এসব অধিকারের মধ্যে অধিক গুরুত্ব বহন করে। কেননা রাজনৈতিক অধিকার ভোগের মাধ্যমেই একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসেবে পরিগণিত হয়। একজন বিদেশি নাগরিক বা অনাগরিক অন্যান্য কিছু সামাজিক বা অর্থনৈতিক অধিকার ভোগ করলেও রাজনৈতিক অধিকার (যেমন- ভোট প্রদান বা নির্বাচনে দাঁড়ানো) ভোগ করতে পারে না। রাজনৈতিক অধিকারই ব্যক্তিকে রাষ্ট্রে নাগরিকের মর্যাদা প্রদান করে এবং এই মর্যাদার মাধ্যমেই সে অন্যান্য অধিকারের সুরক্ষা ও নিশ্চয়তা লাভ করে।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে তাই বলা যায়, রাজনৈতিক অধিকার নাগরিকের অন্যান্য অধিকার ভোগের ক্ষেত্রে অধিকতর গুরুত্ব বহন করে।