Facebook Pixel

সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও জাতীয়তাবাদ শব্দ তিনটি একই সূত্রে গ্রথিত। সাম্রাজ্যবাদী শাসকেরা নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে এবং পরাকৃত দেশসমূহের ওপর স্ব-স্ব আইনকান প্রয়োগের মাধ্যমে দাসত্বে আবদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে উপনিবেশ সৃষ্টি করে। উপনিবেশবাদ কখনো কোনো অঞ্চলেই মঙ্গলজনক হয়নি। ↑ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, উপনিবেশবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে জনগণ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে এবং তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা অযাচিত প্রভুদের শাসনকার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও নিজ দেশের বাইরের পণ্যসামগ্রী বর্জন করতে বদ্ধপরিকর হয়। পাঠ-৮ ক. কোন কোন অঞ্চল নিয়ে বাংলা প্রেসিডেন্সি গঠিত হয়েছিল? ১ খ. কুসংস্কারমুক্ত সমাজ নির্মাণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান অবিস্মরণীয়—ব্যাখ্যা কর। ২ গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর । ৩ ঘ. উক্ত বিষয়ের ফলেই গণসচেতনতার সৃষ্টি হয় যা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তীব্রতা পায় বিশ্লেষণ কর। 8

বিষয়: ইতিহাস ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনঃ ব্রিটিশ আমল

উৎস: Board Exam Question BB 2019, Board Exam Question JB 2019, Board Exam Question RB 2019, Board Exam Question Combined 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ এবং আসামের কিছু অংশ নিয়ে ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলা প্রেসিডেন্সি গঠিত হয়েছিল। (খ) কুসংস্কারমুক্ত সমাজ নির্মাণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রথিতযশা সমাজ সংস্কারক। তৎকালীন সমাজে প্রচলিত বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ এবং বিধবা বিবাহের মতো সামাজিক কুসংস্কার ও অমানবিক প্রথাগুলোর বিরুদ্ধে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তার নিরলস প্রচেষ্টার ফলে ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়, যা ছিল নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এছাড়া স্ত্রী শিক্ষার প্রসারে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, তা আজও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। (গ) উদ্দীপকে বর্ণিত সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও জাতীয়তাবাদের পারস্পরিক সম্পর্কের সাথে পাঠ্যবইয়ের 'স্বদেশি আন্দোলন' বা 'বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের' মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাতে বঙ্গভঙ্গ করেন, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশবিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে দুর্বল করা এবং 'ভাগ কর ও শাসন কর' নীতি প্রয়োগ করা। উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে যে, ঔপনিবেশিক শাসকরা নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য উপনিবেশ সৃষ্টি করে এবং জনগণ শোষিত হয়ে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে, তেমনি বঙ্গভঙ্গের ফলে বাংলার মানুষের মধ্যে তীব্র জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটে। তারা বুঝতে পারে যে, ব্রিটিশ শাসকরা তাদের স্বার্থে এ অঞ্চলের সম্পদ শোষণ করছে। ফলে তারা বিদেশি পণ্য বর্জন ও স্বদেশি পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলে, যা উদ্দীপকের জাতীয়তাবাদের উন্মেষের সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। (ঘ) উক্ত বিষয়ের ফলেই গণসচেতনতার সৃষ্টি হয় এবং তা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তীব্রতা পায়, উক্তিটি যথার্থ। উদ্দীপকে উল্লিখিত জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ও বিদেশি পণ্য বর্জনের বিষয়টি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশি আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল। বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি এবং সঞ্জীবনী পত্রিকার সম্পাদক কৃষ্ণকুমার মিত্রের আহ্বানে জনগণ ব্রিটিশ পণ্য বর্জন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই আন্দোলন কেবল শহরকেন্দ্রিক ছিল না, বরং তা বাংলার গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন স্থানে সভা-সমিতি ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিদেশি পণ্য বর্জনের শপথ নেওয়া হয় এবং দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করার জন্য সাবান, লবণ, চিনি ও বস্ত্রের মতো পণ্য উৎপাদনের জন্য নতুন নতুন কারখানা গড়ে ওঠে। এই গণসচেতনতা সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার জন্ম দেয় এবং তারা উপলব্ধি করে যে, ব্রিটিশদের শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই একমাত্র পথ। এই আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ সরকার শেষ পর্যন্ত ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়। সুতরাং, স্বদেশি আন্দোলনের মাধ্যমে সৃষ্ট এই গণসচেতনতা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল, যা উক্তিটির যথার্থতা প্রমাণ করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenBarisal Board (2019)Jessore Board (2019)Rajshahi Board (2019)Combined Board (2019)

সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ ও জাতীয়তাবাদ শব্দ তিনটি একই সূত্রে গ্রথিত। সাম্রাজ্যবাদী শাসকেরা নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে এবং পরাকৃত দেশসমূহের ওপর স্ব-স্ব আইনকান প্রয়োগের মাধ্যমে দাসত্বে আবদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে উপনিবেশ সৃষ্টি করে। উপনিবেশবাদ কখনো কোনো অঞ্চলেই মঙ্গলজনক হয়নি। ↑ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, উপনিবেশবাদের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে জনগণ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে এবং তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে। জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা অযাচিত প্রভুদের শাসনকার্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও নিজ দেশের বাইরের পণ্যসামগ্রী বর্জন করতে বদ্ধপরিকর হয়। পাঠ-৮

ক. কোন কোন অঞ্চল নিয়ে বাংলা প্রেসিডেন্সি গঠিত হয়েছিল? ১

খ. কুসংস্কারমুক্ত সমাজ নির্মাণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান অবিস্মরণীয়—ব্যাখ্যা কর। ২

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়ের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর । ৩

ঘ. উক্ত বিষয়ের ফলেই গণসচেতনতার সৃষ্টি হয় যা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে তীব্রতা পায় বিশ্লেষণ কর। 8

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Bengal Municipal Act' কী ?

The Spirit of Islam' গ্রন্থটির লেখক কে?

'X' রাষ্ট্রে বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মানুষের বসবাস। একদা ঐ রাষ্ট্রে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হলে একটি নির্দিষ্ট ধর্মী...

অনুচ্ছেদ-১: আরব সাগর তীরবর্তী 'ধাহানু' অঞ্চলে নানা ধর্মের লোকের বসবাস। ঔপনিবেশিক শাসনে বিক্ষুব্ধ হয়ে ধাহানু অঞ্চলের শাস...

অস্ট্রেলিয়ায় বহু জাতির লোক বাস করে। সেখানে প্রথমবারের মতো মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব করার ঘোষণা দিয়ে 'অস্ট্রেলিয়ান মুসলি...

আজকাল ছাত্রছাত্রীরা বাংলার সাথে ইংরেজি ও হিন্দি মিশিয়ে কথাবার্তা আদান-প্রদান করছে। ভাষার এ দুরবস্থা দেখে শিক্ষক মহোদয় ...

আফ্রিকা মহাদেশের একটি দেশের জাতিগোষ্ঠীর নাম জুলু জাতি। এ জাতি তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য ঔপনিবেশিক শাসকের বিরুদ্ধে আন্দ...

আমাদের প্রতিবেশী একটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিবর্গ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য বিক্ষিপ্তভাবে কাজ করতে ...

আলীগড় আন্দোলনের উদ্যোক্তা কে?

ইংল্যান্ডের রানিকে 'কাইজার-ই-হিন্দ' খেতাব প্রদান করেন কে?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।