(ক)
জাতীয়তার ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্রকে জাতিরাষ্ট্র বলে।
(খ)
আইন হলো কতকগুলো সুনির্ধারিত নিয়মের সমষ্টি যা মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। রাষ্ট্রে আইন না থাকলে বিশৃঙ্খলা ও হানাহানির সৃষ্টি হতো। রাষ্ট্রে আইন আছে বলেই সবাই সুন্দরভাবে বসবাস করতে সক্ষম হয়। তাছাড়া সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাষ্ট্রীয় জীবন নিশ্চিত করার জন্য আইনের উপস্থিতি অপরিহার্য। আইন মানুষকে সত্য, সুশৃঙ্খল ও উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা দেয়। এছাড়াও ধর্মীয়বোধ, সামাজিক কল্যাণ এবং শাস্তি প্রয়োগের ভয়ে মানুষ আইন মেনে চলে বা মান্য করে।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সাম্যের পছন্দের বিষয়টি হলো পৌরনীতি ও সুশাসন। কারণ উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সাম্য একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কিত একটি বিষয় বেছে নিয়েছে, যা মূলত পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের মূল আলোচ্য বিষয়।
পৌরনীতি ও সুশাসন একটি নাগরিকতাবিষয়ক বিজ্ঞান হওয়ায় নাগরিক জীবনের সাথে সম্পর্কিত যাবতীয় দিকসমূহ এর পরিধিভুক্ত। পৌরনীতির পাঠ নাগরিককে তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়। শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি হয়। পৌরনীতি বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আলোচনা করে। রাষ্ট্রের উৎপত্তিসংক্রান্ত বিভিন্ন তত্ত্ব পর্যালোচনা, রাষ্ট্রের কার্যাবলি এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন উপাদান পৌরনীতির আলোচনার ক্ষেত্র। আবার আইন, স্বাধীনতা, সাম্য প্রভৃতি বিমূর্ত বিষয় নিয়েও বিজ্ঞানসম্মতভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ পৌরনীতির পরিধিভুক্ত। পৌরনীতি নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিকসহ বৈদেশিক সম্পর্কের নীতি, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ ও এগুলোর উদ্দেশ্য, গঠন কাঠামো, কার্যাবলি নিয়ে বিষদভাবে আলোচনা করে। এছাড়াও পৌরনীতি রাষ্ট্রের ও নাগরিকতার সাথে সম্পর্কিত প্রবাহমান, সাম্প্রতিক এমনকি সম্ভাব্য বিষয়সমূহ নিয়েও বিশ্লেষণ করে থাকে। আর তাই বলা যায়, পৌরনীতির পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিস্তৃত।
(ঘ)
উক্ত বিষয়টি তথা পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম।
পৌরনীতি ও সুশাসন জ্ঞানের এমন একটি শাখা যা পাঠের মাধ্যমে একজন আদর্শ ও দেশপ্রেমিক সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা সম্ভব হয়। পৌরনীতি নাগরিক জীবন সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে বিধায় সভ্য সমাজের প্রত্যেক সদস্যের পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ে জ্ঞানার্জন অত্যাবশ্যক। পৌরনীতি ও সুশাসন সুস্থ, সুন্দর ও আদর্শ সমাজজীবন গঠনের শিক্ষাদান করে। এর পাঠ নাগরিকতার অতীত ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়। বুদ্ধিসম্পন্ন, বিবেকবান ও আত্মসংযমী হওয়ার জন্য পৌরনীতির জ্ঞান অত্যাবশ্যক। বিভিন্ন সংগঠনের বিস্তারিত বিশ্লেষণ, সমস্যা নির্ণয় ও তার সমাধান খুঁজে পেতে পৌরনীতির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নাগরিক সচেতনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশে পৌরনীতির পাঠ বিকল্পহীন। তাছাড়া নাগরিকদের অধিকার সচেতন করা, তাদের কর্তব্য সম্পর্কে অবগত করাসহ নাগরিক জীবনের সাথে সম্পর্কিত প্রতিটি স্তরে পৌরনীতির জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি, দেশপ্রেম, মূল্যবোধ এবং সুনাগরিকতাসহ জীবনের যাবতীয় ক্ষেত্রসমূহে পৌরনীতি ও সুশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম।