(ক)
সরকারের অঙ্গ ৩টি।
(খ)
একটি রাষ্ট্রে যখন দুইটির অধিক রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভের লড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তখন তাকে বহুদলীয় ব্যবস্থা বলে। এই ব্যবস্থায় বিভিন্ন দল নিজ নিজ মতাদর্শ, নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। বহুদলীয় ব্যবস্থায় কোনো দল এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে একাধিক দল মিলে সম্মিলিত সরকার (Coalition Government) গঠন করে। বাংলাদেশ, ভারত, ফ্রান্স ও ইতালি প্রভৃতি দেশে বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান।
(গ)
উদ্দীপকে নারী শ্রমিকরা অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুসারে আয় ও ধন-সম্পদে প্রত্যেক ব্যক্তির সুযোগ-সুবিধা লাভের সমতাকে বোঝায়। অর্থনৈতিক সাম্যের অর্থ এই নয় যে, রাষ্ট্রের সব সম্পদ সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে; বরং জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সম্পাদিত কাজের ন্যায্য মজুরি পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাই হলো অর্থনৈতিক সাম্য। অর্থাৎ, যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বণ্টনই অর্থনৈতিক সাম্যের মূল কথা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সাবিহার প্রতিষ্ঠানে নারী ও পুরুষ শ্রমিকের মজুরির ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। একজন পুরুষ শ্রমিক দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি পেলেও নারী শ্রমিক পান ২০০ টাকা। একই ধরনের কাজ করা সত্ত্বেও কেবল লিঙ্গের কারণে মজুরির এই পার্থক্য অর্থনৈতিক সাম্যের পরিপন্থী। যেহেতু যোগ্যতা ও কাজের ধরন এক হওয়া সত্ত্বেও নারী শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না, তাই বলা যায় যে উদ্দীপকের নারী শ্রমিকরা অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত সাম্য অর্থাৎ অর্থনৈতিক সাম্য ছাড়া রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন। নিচে এর বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
রাজনৈতিক সাম্য বলতে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার ভোগের সমান ক্ষমতাকে বোঝায়। ভোটাধিকার, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার, সরকারি চাকরি লাভ এবং সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রাজনৈতিক সাম্যের অন্তর্ভুক্ত। রাজনৈতিক সাম্য ব্যক্তির গণতান্ত্রিক অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে।
তবে বাস্তব ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত না হলে রাজনৈতিক সাম্য কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকে। কারণ, ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশের জন্য এবং রাজনৈতিক সচেতনতা অর্জনের জন্য অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা প্রয়োজন। একজন মানুষ যখন চরম দারিদ্র্যের শিকার হয় বা অর্থনৈতিকভাবে চরম বৈষম্যের মুখে পড়ে, তখন তার জন্য ভোটাধিকার বা রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা দরিদ্র মানুষের ভোটাধিকার কিনে নেয়, যা রাজনৈতিক সাম্যের মূল চেতনাকে নষ্ট করে।
অর্থনৈতিক সাম্য থাকলে নাগরিকরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে এবং স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহী হয়। ফলে তারা রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে পারে। সুতরাং, রাজনৈতিক অধিকারগুলোকে অর্থবহ ও কার্যকর করতে হলে অর্থনৈতিক সাম্য নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
পরিশেষে বলা যায়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় সাম্যই গুরুত্বপূর্ণ হলেও অর্থনৈতিক সাম্য রাজনৈতিক সাম্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং একে অর্থবহ করে তোলে।