(ক)
ISO এর পূর্ণরূপ হলো International Organization for Standardization।
(খ)
কপিরাইট হলো শিল্প বা সাহিত্যের সৃষ্টিকারীর একচ্ছত্র আইনগত অধিকার। একজন সৃজনশীল লেখক বা শিল্পী কপিরাইটের মাধ্যমে তার লেখা বা শিল্পকর্মের একক অধিকার লাভ করেন। এর ফলে তার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ সেটি নকল বা ব্যবহার করতে পারে না, যা জালিয়াতি প্রতিরোধ করে এবং লেখককে আর্থিকভাবে লাভবান করে। সুতরাং, কপিরাইট লেখকের স্বার্থ রক্ষা করে।
(গ)
সানজিদার আবিষ্কারটি পেটেন্ট আইনে নিবন্ধন করা হয়েছিল।
আবিষ্কৃত বিষয়বস্তুর ওপর আবিষ্কারকের অধিকারকে পেটেন্ট বলে। পেটেন্ট হলো নতুন আবিষ্কৃত ও নিবন্ধিত পণ্য বা বস্তুর ওপর আবিষ্কারকের এমন একক অধিকার, যার মাধ্যমে তিনি এটি তৈরি, উন্নয়ন, ব্যবহার ও বিক্রয়ের একচ্ছত্র অধিকার ভোগ করেন। এই অধিকারবলে আবিষ্কারক বিভিন্ন প্রতিনিধি নিয়োগসহ অন্যকে লাইসেন্সও প্রদান করতে পারেন।
উদ্দীপকের সানজিদা তেল বা গ্যাসের পরিবর্তে পানি ব্যবহার করে গাড়ি চলাচল করার একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করে নিবন্ধন করেন। যেহেতু এটি একটি কারিগরি উদ্ভাবন এবং নিবন্ধিত, তাই বলা যায় যে সানজিদার আবিষ্কারটি পেটেন্ট আইনে নিবন্ধন করা হয়েছিল।
(ঘ)
নাভানা লি. ব্যতীত অন্য কোম্পানি কর্তৃক সানজিদার আবিষ্কার বা প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যৌক্তিক।
নিবন্ধিত পেটেন্ট ব্যতীত আইনগত প্রতিকার পাওয়া যায় না বিধায় পেটেন্ট নিবন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ আবিষ্কারককে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পেটেন্টের মাধ্যমে একচেটিয়া মালিকানা প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে শিল্পে প্রয়োগযোগ্য আবিষ্কার বা কোনো কারিগরি সমস্যার সমাধানের জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পেটেন্টের মেয়াদ চলাকালীন অন্য কেউ অনুমতি ছাড়া এটি তৈরি, ব্যবহার বা বিক্রয় করতে পারে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সানজিদা পানি ব্যবহার করে গাড়ি চালানোর প্রযুক্তি আবিষ্কার করে তা নিবন্ধন করেন এবং পরবর্তীতে পঞ্চাশ লক্ষ টাকায় নাভানা লি. এর নিকট বিক্রি করেন। এর ফলে ওই প্রযুক্তির আইনি মালিকানা এখন নাভানা লি. এর কাছে। কিন্তু অন্য একটি কোম্পানি অনুমতি ছাড়া একই প্রযুক্তির বিপণন করছে, যা সরাসরি পেটেন্ট আইনের লঙ্ঘন।
মেধাস্বত্ব রক্ষা এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ বজায় রাখার জন্য নাভানা লি. এর এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। সুতরাং, নাভানা লি. ব্যতীত অন্য কোম্পানি কর্তৃক সানজিদার আবিষ্কার বা প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ যৌক্তিক।