(ক)
একই ধরনের বা সমজাতীয় পণ্য উৎপাদনকারী কার্যসমূহের সমন্বিত রূপকে শিল্প বলা হয়।
(খ)
পরিবেশ দূষণ রোধ এবং পাটের ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার পলিথিন ব্যবহার রোধ করতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
পলিথিন মাটি বা পানির সাথে মিশে ক্ষয় হয় না, ফলে এটি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে এবং বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট করে। অন্যদিকে, পাটজাত দ্রব্য সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং পচনশীল। বর্তমানে দেশে বহু ধরনের বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে যা পলিথিনের চমৎকার বিকল্প হতে পারে। তাই পরিবেশ রক্ষা এবং দেশীয় পাট শিল্পের প্রসারের জন্য সরকার পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সাদেকের ২০১২, ২০১৫ এবং ২০২০ সালের শিল্পসমূহকে যথাক্রমে অতিক্ষুদ্র শিল্প, ক্ষুদ্র শিল্প এবং মাঝারি শিল্প হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়।
২০১০ সালের শিল্পনীতি অনুযায়ী, জমি ও কারখানা ভবন ব্যতিরেকে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হলে তাকে অতিক্ষুদ্র শিল্প বলা হয়। আবার, স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয় ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে তাকে ক্ষুদ্র শিল্প এবং প্রতিস্থাপন ব্যয় ১ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে তাকে মাঝারি শিল্প বলা হয়। মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে শ্রমিক সংখ্যা সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ জনের মধ্যে থাকে।
উদ্দীপকের তথ্যের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়:
১. ২০১২ সালে সাদেকের পুঁজির পরিমাণ ছিল ৫ লক্ষ টাকা, যা অতিক্ষুদ্র শিল্পের সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
২. ২০১৫ সালে তার পুঁজির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ লক্ষ টাকা এবং শ্রমিকের সংখ্যা হয় ২০ জন, যা ক্ষুদ্র শিল্পের বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে।
৩. ২০২০ সালে তার পুঁজির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১০ কোটি টাকা এবং শ্রমিকের সংখ্যা হয় ৯০ জন, যা মাঝারি শিল্পের সংজ্ঞার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
সুতরাং, সাদেকের ২০১২, ২০১৫ এবং ২০২০ সালের শিল্পগুলো যথাক্রমে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ২০২০ সালের শিল্পটি মাঝারি শিল্পকে নির্দেশ করে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মাঝারি শিল্পের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বহুমুখী।
প্রথমত, মাঝারি শিল্প কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, সাদেকের শিল্পে শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে ৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। এভাবে অসংখ্য মাঝারি শিল্প গড়ে উঠলে বেকার সমস্যা হ্রাস পায় এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
দ্বিতীয়ত, জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে এই শিল্পের ভূমিকা অপরিসীম। মেটাল শিল্প, সাবান শিল্প, কলম শিল্প বা দিয়াশলাই শিল্পের মতো মাঝারি শিল্পগুলো দেশের জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। মাঝারি শিল্পের প্রসার ঘটলে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।
তৃতীয়ত, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে মাঝারি শিল্প সহায়ক। অনেক মাঝারি শিল্প এখন রপ্তানিমুখী হয়ে উঠছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাহায্য করে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভূমিকা রাখে।
চতুর্থত, দেশীয় কাঁচামালের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণ ঘটে, যার ফলে গ্রাম ও শহরের অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস পায়।
পরিশেষে বলা যায়, সাদেকের ২০২০ সালের শিল্পটি যে মাঝারি শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করে, তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে এবং টেকসই উন্নয়নে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।