(ক)
১৯৪০ সালে বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার এবং আলেকজান্ডার উইনার রেসাস বানরের (Rhesus macaque) লোহিত রক্তকণিকায় এক ধরনের অ্যান্টিজেন আবিষ্কার করেন। এই অ্যান্টিজেনকে রেসাস ফ্যাক্টর বা Rh ফ্যাক্টর বলে।
(খ)
ডারউইনের মতে, প্রতিটি জীবই অতিরিক্ত হারে বংশবৃদ্ধি করে। কিন্তু খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত থাকায় বেঁচে থাকার জন্য জীবকে তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। বেঁচে থাকার জন্য জীবের এই জীবনব্যাপী সংগ্রামকে জীবন সংগ্রাম বলে। জীবন সংগ্রাম সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে:
১. অন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম (একই প্রজাতির বিভিন্ন সদস্যের মধ্যে সংগ্রাম)
২. আন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম (ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির সদস্যদের মধ্যে সংগ্রাম)
৩. পরিবেশের সাথে সংগ্রাম (প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম)
(গ)
উদ্দীপকে বর্ণিত $F_1$ জনুর সকল মোরগ-মুরগি সাদা পালক বিশিষ্ট হওয়ার কারণ হলো প্রকট এপিস্ট্যাসিস (Dominant Epistasis)। যখন একটি প্রকট জিন অন্য একটি অ-অ্যালিলিক প্রকট জিনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশে বাধা দেয়, তখন এই প্রক্রিয়াকে প্রকট এপিস্ট্যাসিস বলে। যে জিনটি বাধা দেয় তাকে এপিস্ট্যাটিক জিন এবং যেটি বাধা পায় তাকে হাইপোস্ট্যাটিক জিন বলে।
ধরি,
রঙিন পালকের জন্য দায়ী প্রকট জিন = $C$
সাদা পালকের জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন = $c$
রঙিন পালক প্রকাশে বাধাদানকারী প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন = $I$
বাধাদানে অক্ষম প্রচ্ছন্ন জিন = $i$
অতএব, সাদা লেগহর্নের জিনোটাইপ $CCII$ এবং সাদা ওয়াইনডটের জিনোটাইপ $ccii$। এদের মধ্যে ক্রস ঘটালে $F_1$ জনুর ফলাফল নিম্নরূপ হয়:

ব্যাখ্যা:
$F_1$ জনুর সকল মোরগ-মুরগির জিনোটাইপ হয় $CcIi$। এখানে রঙিন পালক সৃষ্টির জন্য দায়ী প্রকট জিন $C$ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও অপর একটি অ-অ্যালিলিক প্রকট জিন $I$ (এপিস্ট্যাটিক জিন) এর উপস্থিতির কারণে $C$ জিনটি নিজের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করতে পারে না। ফলে $F_1$ জনুর সকল মোরগ-মুরগি সাদা পালক বিশিষ্ট হয়।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লেখিত $F_2$ জনুর অনুপাত $13:3$, যা মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের একটি ব্যতিক্রম।
মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীনভাবে বিন্যাসের সূত্র অনুযায়ী, দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটালে $F_2$ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত হওয়ার কথা $9:3:3:1$। কিন্তু উদ্দীপকের ক্ষেত্রে প্রকট এপিস্ট্যাসিসের কারণে এই অনুপাত পরিবর্তিত হয়ে $13:3$ হয়।
$F_1$ জনুর মোরগ-মুরগির মধ্যে পরস্পর ক্রস ঘটালে $F_2$ জনুর ফলাফল নিচে চেকারবোর্ডের মাধ্যমে দেখানো হলো:

বিশ্লেষণ:
চেকারবোর্ড থেকে দেখা যায় যে,
১. যেসব জিনোটাইপে অন্তত একটি প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন $I$ উপস্থিত থাকে (যেমন- $C\_I\_$ বা $ccI\_$), তারা সবাই সাদা পালকযুক্ত হয়। কারণ $I$ জিনটি রঙিন পালকের জিন $C$-এর প্রকাশে বাধা দেয়।
২. যেখানে কোনো প্রকট জিন $C$ বা $I$ থাকে না ($ccii$), সেটিও স্বাভাবিকভাবে সাদা হয়।
৩. শুধুমাত্র যেখানে রঙিন পালকের জন্য দায়ী প্রকট জিন $C$ থাকে কিন্তু বাধাদানকারী জিন $I$ থাকে না (অর্থাৎ $C\_ii$ জিনোটাইপ, যেমন- $CCii$, $Ccii$), কেবল সেই মোরগ-মুরগিগুলো রঙিন পালকযুক্ত হয়।
অতএব, $F_2$ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত দাঁড়ায়:
সাদা : রঙিন = $13:3$
যেহেতু মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র অনুযায়ী অনুপাত $9:3:3:1$ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখানে প্রকট এপিস্ট্যাসিসের কারণে অনুপাতটি পরিবর্তিত হয়ে $13:3$ হয়েছে, তাই উদ্দীপকের $F_2$ জনুর অনুপাতটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের একটি ব্যতিক্রম।